দক্ষিণ ভারতের শেষ সমুদ্রতটে
দীপক পাল
শেষ পর্ব
এরপর আমরা গেলাম লাইট হাউস দেখতে। এটা একটা দেখার জিনিস বটে।
টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকতে হয়। টপ ফ্লোরে যাবার জন্য একটা বড়ো লিফ্ট আছে।
ওপরে উঠে দেখলাম গোল করে পুরোটা খুব দামি কাঁচ দিয়ে ঘেরা। কাঁচের ওপর চোখ
রাখলে পুরো সমুদ্রটা দেখে মহিত হয়ে গেলাম। সত্যি একটা দেখার মতো দৃশ্য বটে।
যেন এক পটে আঁকা ছবি। ওখান থেকে বেরিয়ে গাড়ীতে উঠে চলে গেলাম ধনুস্কোটির
একেবারে শেষ প্রান্তে। এখানকার কথা প্রথম পর্বের একেবারে প্রথমেই বর্ণনা করেছি।
গোটা এলাকায় খাবারের দোকানে ভর্তি। সেখানে সামান্য কিছু খেয়ে আমরা গাড়ীতে
উঠলাম। তখন আস্তে আস্তে আলো কমে আসছে। আমরা ফেরার পথ ধরলাম। কাল
সকালে আমরা ব্রেকফাস্ট সেরে মাদুরাই রওনা দেব।
রামেশ্বরমে আসার সময় রাত হয়ে যাওয়ায় আমরা ভাল করে উপলব্ধি
করতে পারিনি। কিন্তু সামুদ্রিক হাওয়া বেশ টের পেয়েছিলাম। এর আগে মাদুরাই
থেকে যখন রাতের ট্রেনে রামেশ্বরম আসছিলাম তখন ব্রিজের ওপর ট্রেন চলার
গুম্ গুম্ আওয়াজে ঘুম ভেঙে যাওয়ায় জানলা খুলে বিস্মিত হয়ে দেখেছিলাম
আমরা সমুদ্রের ওপর দিয়ে যাচ্ছি আর পায়ের তলা দিয়ে সমুদ্রের ঢেউ চলেছে।
অবাক হয়ে দেখেছিলাম। তখনও ভালো করে আলো ফোটেনি। এবারেও সকালে
পর্যাপ্ত রোদের আলোয় গাড়ী থামিয়ে চোখ ভরে দেখলাম কিন্তু প্রথম দেখার যে
রোমাঞ্চ সেটা আর পাইনি।
মাদুরাই একটা সুন্দর শহর। এখানে যে হোটেলটা শুভ বুক করেছিল সেটা
তামিলনাড়ু গভর্নমেন্টের। যেমন সুন্দর ও তার চৌহদ্দিটা খুব সুন্দর। সামনে একটা
পার্ক আছে। বাবুসোনা সুযোগ পেলেই দৌড়ে পার্কে ঢুকে পড়ে স্লিপ বা দোলনায়
উঠে পড়ছে। যাই হোক হোটেলের রুম দুটো বেশ বড় এবং সুন্দর। খাওয়া
দাওয়ার ব্যবস্থাটা চমৎকার। স্নান করে লিফ্টে করে নিচে নামলাম লাঞ্চ করতে।
লাঞ্চ সেরে ঘরে ঢুকে একটু বিশ্রাম করে সাড়ে চারটেয় বেরোলাম।
প্রথমে আমরা গেলাম থিরুমালাই নায়াকার ভবন। এখানে মিনাক্ষী মন্দির
ও তার ইতিহাস সন্মন্ধে এক সুন্দর সাউন্ড অফ্ লাইটের মাধ্যমে দেখানো হয়।
টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়ালাম। কিন্তু টিকিট কাউন্টার খোলার টাইমের পরেও
আধ ঘন্টা কেটে গেলেও কাউন্টার খোলার নাম নেই। লাইনে অবশ্য বেশী লোক
নেই। সবাই অপেক্ষা করতে লাগলো। খোঁজ করে জানতে পারলাম ভবনের কিছু
রিপেয়ারিং কাজের জন্য ভবন বন্ধ থাকবে এক মাস তাই সাউন্ড অফ লাইট শো
বন্ধ। এত নোটিস লেখা আছে অথচ এই প্রয়োজনীয় নোটিসটা কোথাও টাঙানো
নেই। রোজ কত পর্যটক এসে ঘুরে যাচ্ছে অথচ এদের কোন হেলদোল নেই। এক
অস্থায়ী ঝালমুড়ীয়ালার কাছ থেকে জানতে হলো।
এরপর আমরা ঘুরতে ঘুরতে একটা বিশাল মলে গিয়ে ঢুকলাম। মহিলারা
কয়েকটা কাপড় কিনলো। মাদুরা সিল্ক খুব বিখ্যাত। কাপড়গুলো আলাদা আলাদা
করে প্যাক করে নেওয়া হলো। এরপর ওপর নিচ করে কিছু প্রোয়জনীয় জিনিস
কিনে গাড়ীতে উঠলাম। এক জায়গায় ওখানকার কফি পাতা কিনলাম। এখানেও
কয়েকটা আলাদা আলাদা করে নেওয়া হলো। এখানকার পাহাড়ি কফি পাতার
নাম আছে। দোকানদার সরাসরি কারখানা থেকে নিয়ে আসে বা পাহার থেকে
আসে। কথা বার্তায় মনে হলো নিজেদেরই কারখানা। গাড়ীতে উঠে একটা ছোট
সরকারি হাসপাতালে গিয়ে টেটভ্যাক ইঞ্জেকশন নিলাম শুভ ও আমার ডাক্তার
মেয়ের নির্দেশে। আমাদের আগের গাড়ীর এক্সিডেন্টে আমার চোখে সামান্য
আঘাত লেগে রক্তপাত হবার জন্য। রাত হয়ে যাবার জন্য হোটেলে ফিরে ফের
ডিনারের অর্ডার দিয়ে বসে থেকে সবার খিদে মরে যাবে। অবশ্য তখনও যদি
খাবার পাওয়া যায়। এদিকে আমরা খান তিনেক হোটেলে গিয়ে দেখি শেষ
ব্যাচের খাওয়া চলছে, কোনটা শেষের পথে কোনটা শুরু হবো হবো। সবার
মন খারাপ। ড্রাইভার মজিদ বললো যদি আমরা অনুমতি দিই তবে সে আরো
একটু দুরে নিয়ে যেতে পারে যেখানে খাবার পাবার সম্ভাবনা আছে। সে ক্ষেত্রে
হোটেল থেকে দুরত্ব আরো খানিকটা বাড়বে। শুভ মজিদকে বললো সেটাই
করতে। দুজনেই গাড়ীতে উঠে পরায় মজিদ জোরে গাড়ীটা চালিয়ে নিয়ে এক
জায়গায় দাঁড় করিয়ে নেমে বললো আমি আগে গিয়ে খোঁজ নিয়ে আসি বলে
রাস্তা পেরিয়ে ওপারে চলে গেল। কিছুক্ষণ পরে ফিরে এসে আমাদের নামতে
বললো গাড়ী থেকে। তারপর সিগনাল রেড হলে আমরা রাস্তা ক্রস করে
মজিদকে ফলো করে একটা বাড়ীর চওড়া গ্যারেজের ভেতরে একটা গাড়ীর
পাশ কাটিয়ে একটা অতি সাধারন হোটেলে নিয়ে গেল। কিন্তু ভেতরে ঢুকে
ভেতরের মায়াবী আলোয় মনটা ভালো হয়ে গেল। বেশ দামী কাঠ দিয়ে
তৈরী করার ওপর টেবিল ল্যাম্প প্রতিটি খাবার টেবিলে যেখানে দুজনের
খাবার ব্যাবস্থা। ওপরের সিলিংটাতেও সুন্দর কাজ করা ও কয়েকটা রঙীন
আলো দামী ল্যাম্প শেডে ঝুলছে। আমরা সবাই দুজন দুজন করে টেবিল
দখল করে বসলাম। ওদিকে রান্না ঘরে রান্না গরম করা হচ্ছে। মজিদের
কারণে স্টোভ জ্বালিয়ে সংক্ষিপ্ত রান্না চলছে মনে হয় আর না হয় গরম
করা চলছে। রান্নার মান কিন্তু মন্দ নয়। খেয়ে দেয়ে যখন হোটেলে ফিরে
টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকতে হয়। টপ ফ্লোরে যাবার জন্য একটা বড়ো লিফ্ট আছে।
ওপরে উঠে দেখলাম গোল করে পুরোটা খুব দামি কাঁচ দিয়ে ঘেরা। কাঁচের ওপর চোখ
রাখলে পুরো সমুদ্রটা দেখে মহিত হয়ে গেলাম। সত্যি একটা দেখার মতো দৃশ্য বটে।
যেন এক পটে আঁকা ছবি। ওখান থেকে বেরিয়ে গাড়ীতে উঠে চলে গেলাম ধনুস্কোটির
একেবারে শেষ প্রান্তে। এখানকার কথা প্রথম পর্বের একেবারে প্রথমেই বর্ণনা করেছি।
গোটা এলাকায় খাবারের দোকানে ভর্তি। সেখানে সামান্য কিছু খেয়ে আমরা গাড়ীতে
উঠলাম। তখন আস্তে আস্তে আলো কমে আসছে। আমরা ফেরার পথ ধরলাম। কাল
সকালে আমরা ব্রেকফাস্ট সেরে মাদুরাই রওনা দেব।
রামেশ্বরমে আসার সময় রাত হয়ে যাওয়ায় আমরা ভাল করে উপলব্ধি
করতে পারিনি। কিন্তু সামুদ্রিক হাওয়া বেশ টের পেয়েছিলাম। এর আগে মাদুরাই
থেকে যখন রাতের ট্রেনে রামেশ্বরম আসছিলাম তখন ব্রিজের ওপর ট্রেন চলার
গুম্ গুম্ আওয়াজে ঘুম ভেঙে যাওয়ায় জানলা খুলে বিস্মিত হয়ে দেখেছিলাম
আমরা সমুদ্রের ওপর দিয়ে যাচ্ছি আর পায়ের তলা দিয়ে সমুদ্রের ঢেউ চলেছে।
অবাক হয়ে দেখেছিলাম। তখনও ভালো করে আলো ফোটেনি। এবারেও সকালে
পর্যাপ্ত রোদের আলোয় গাড়ী থামিয়ে চোখ ভরে দেখলাম কিন্তু প্রথম দেখার যে
রোমাঞ্চ সেটা আর পাইনি।
মাদুরাই একটা সুন্দর শহর। এখানে যে হোটেলটা শুভ বুক করেছিল সেটা
তামিলনাড়ু গভর্নমেন্টের। যেমন সুন্দর ও তার চৌহদ্দিটা খুব সুন্দর। সামনে একটা
পার্ক আছে। বাবুসোনা সুযোগ পেলেই দৌড়ে পার্কে ঢুকে পড়ে স্লিপ বা দোলনায়
উঠে পড়ছে। যাই হোক হোটেলের রুম দুটো বেশ বড় এবং সুন্দর। খাওয়া
দাওয়ার ব্যবস্থাটা চমৎকার। স্নান করে লিফ্টে করে নিচে নামলাম লাঞ্চ করতে।
লাঞ্চ সেরে ঘরে ঢুকে একটু বিশ্রাম করে সাড়ে চারটেয় বেরোলাম।
প্রথমে আমরা গেলাম থিরুমালাই নায়াকার ভবন। এখানে মিনাক্ষী মন্দির
ও তার ইতিহাস সন্মন্ধে এক সুন্দর সাউন্ড অফ্ লাইটের মাধ্যমে দেখানো হয়।
টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়ালাম। কিন্তু টিকিট কাউন্টার খোলার টাইমের পরেও
আধ ঘন্টা কেটে গেলেও কাউন্টার খোলার নাম নেই। লাইনে অবশ্য বেশী লোক
নেই। সবাই অপেক্ষা করতে লাগলো। খোঁজ করে জানতে পারলাম ভবনের কিছু
রিপেয়ারিং কাজের জন্য ভবন বন্ধ থাকবে এক মাস তাই সাউন্ড অফ লাইট শো
বন্ধ। এত নোটিস লেখা আছে অথচ এই প্রয়োজনীয় নোটিসটা কোথাও টাঙানো
নেই। রোজ কত পর্যটক এসে ঘুরে যাচ্ছে অথচ এদের কোন হেলদোল নেই। এক
অস্থায়ী ঝালমুড়ীয়ালার কাছ থেকে জানতে হলো।
এরপর আমরা ঘুরতে ঘুরতে একটা বিশাল মলে গিয়ে ঢুকলাম। মহিলারা
কয়েকটা কাপড় কিনলো। মাদুরা সিল্ক খুব বিখ্যাত। কাপড়গুলো আলাদা আলাদা
করে প্যাক করে নেওয়া হলো। এরপর ওপর নিচ করে কিছু প্রোয়জনীয় জিনিস
কিনে গাড়ীতে উঠলাম। এক জায়গায় ওখানকার কফি পাতা কিনলাম। এখানেও
কয়েকটা আলাদা আলাদা করে নেওয়া হলো। এখানকার পাহাড়ি কফি পাতার
নাম আছে। দোকানদার সরাসরি কারখানা থেকে নিয়ে আসে বা পাহার থেকে
আসে। কথা বার্তায় মনে হলো নিজেদেরই কারখানা। গাড়ীতে উঠে একটা ছোট
সরকারি হাসপাতালে গিয়ে টেটভ্যাক ইঞ্জেকশন নিলাম শুভ ও আমার ডাক্তার
মেয়ের নির্দেশে। আমাদের আগের গাড়ীর এক্সিডেন্টে আমার চোখে সামান্য
আঘাত লেগে রক্তপাত হবার জন্য। রাত হয়ে যাবার জন্য হোটেলে ফিরে ফের
ডিনারের অর্ডার দিয়ে বসে থেকে সবার খিদে মরে যাবে। অবশ্য তখনও যদি
খাবার পাওয়া যায়। এদিকে আমরা খান তিনেক হোটেলে গিয়ে দেখি শেষ
ব্যাচের খাওয়া চলছে, কোনটা শেষের পথে কোনটা শুরু হবো হবো। সবার
মন খারাপ। ড্রাইভার মজিদ বললো যদি আমরা অনুমতি দিই তবে সে আরো
একটু দুরে নিয়ে যেতে পারে যেখানে খাবার পাবার সম্ভাবনা আছে। সে ক্ষেত্রে
হোটেল থেকে দুরত্ব আরো খানিকটা বাড়বে। শুভ মজিদকে বললো সেটাই
করতে। দুজনেই গাড়ীতে উঠে পরায় মজিদ জোরে গাড়ীটা চালিয়ে নিয়ে এক
জায়গায় দাঁড় করিয়ে নেমে বললো আমি আগে গিয়ে খোঁজ নিয়ে আসি বলে
রাস্তা পেরিয়ে ওপারে চলে গেল। কিছুক্ষণ পরে ফিরে এসে আমাদের নামতে
বললো গাড়ী থেকে। তারপর সিগনাল রেড হলে আমরা রাস্তা ক্রস করে
মজিদকে ফলো করে একটা বাড়ীর চওড়া গ্যারেজের ভেতরে একটা গাড়ীর
পাশ কাটিয়ে একটা অতি সাধারন হোটেলে নিয়ে গেল। কিন্তু ভেতরে ঢুকে
ভেতরের মায়াবী আলোয় মনটা ভালো হয়ে গেল। বেশ দামী কাঠ দিয়ে
তৈরী করার ওপর টেবিল ল্যাম্প প্রতিটি খাবার টেবিলে যেখানে দুজনের
খাবার ব্যাবস্থা। ওপরের সিলিংটাতেও সুন্দর কাজ করা ও কয়েকটা রঙীন
আলো দামী ল্যাম্প শেডে ঝুলছে। আমরা সবাই দুজন দুজন করে টেবিল
দখল করে বসলাম। ওদিকে রান্না ঘরে রান্না গরম করা হচ্ছে। মজিদের
কারণে স্টোভ জ্বালিয়ে সংক্ষিপ্ত রান্না চলছে মনে হয় আর না হয় গরম
করা চলছে। রান্নার মান কিন্তু মন্দ নয়। খেয়ে দেয়ে যখন হোটেলে ফিরে
এলাম তখন ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে গেছে। দুটো ড্রিম লাইট জ্বলছে। ঘরে ঢুকে
চটপট জামা কাপড় চেঞ্জ করে হাত-পা ধুয়ে কাল সকালে মীনাক্ষী মন্দির
দর্শন করার জন্য সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে শুয়ে পড়লাম।
সকাল সকাল মজিদ এসে গেল। আমরাও পুরো প্রস্তুত হয়ে নিচে
নামলাম। কাছাকাছি পৌছোতে যা দেখলাম তাতে সম্পূর্ণ অবাক হয়ে
গেলাম। গোটা মীনাক্ষী মন্দির চারটে গোপুরম্ সমেত একেবারে ওপর
থেকে নিচে পর্য্যন্ত লক্ষ লক্ষ ছোট বড় মাঝারি মাপের বাঁশ দিয়ে ঢাকা।
এর ফাঁক দিয়ে কোন কিছু বাইরে থেকে দেখার বা বোঝার উপায় নেই।
শেষমেষ তীরে এসে তরি ডুবলো। কিন্তু রিপেয়ারিং এর কাজ চলছে।
কত মাসের ধাক্কা কেজানে। ড্রাইভার আমাদের এক জায়গায় নামিয়ে
দিয়ে হাততুলে একদিকে দেখিয়ে সেদিকে এগিয়ে যেতে বললো। আমরা
সবাই সেদিকেই হাঁটতে থাকলাম। এক জায়গায় মোবাইল সহ সবকিছু
জমা করতে হলো। উত্তরের গোপুরোমের গেট দিয়ে ঢুকে কাউন্টারের
কাছে দাঁড়ালাম। কাউন্টারে খুব ভীর। পঞ্চাশ টাকা অর্ডিনারি স্পেশাল
দুশো টাকা। শুভ ছটা স্পেশাল টিকিট কেটে আমাদের ডাকলো।এন্ট্রিতে
খাঁকি রঙের ড্রেস পরা পুলিশেরা দাঁড়িয়ে আর সমানে হুইসল্ বাজাচ্ছে।
আমাদের ঢোকার লাইন দাঁড় করিয়ে ভেতরের একটা লাইন পূব দিক
থেকে পশ্চিম দিকে যাচ্ছিল সেখানকার লাইন থেকে কিছু লোক ছিটকে
বেরিয়ে এসে এই গেটের দিকে আসছিলো পুলিশের তাদের তাড়া করে
আবার আগের লাইনে চলে যেতে বাধ্য করলো। এবার দুজন পুলিশ
আমাদের টিকিট চেক করে পূব দিকে যাবার লাইনে গিয়ে দাঁড়াতে বলে।
এখানে অরডিনারী স্পেশাল সব এক হয়ে গেলো। আমার সব চাইতে
অবাক লাগলো ধর্মীয় স্থানে এত পুলিশের সমাহার দেখে। কোন মন্দীর
কর্তৃপক্ষের দেখা পর্যন্ত নেই। আমাদের কষ্টের কাহিনী এই শুরু হলো।
লাইন দুবার স্থান পরিবর্তন করে সোজা পূবমুখি হলো এবং গোপুরম্
পর্য্যন্ত পৌঁছে ঘুরে পশ্চিম দিকে আবার যাত্রা শুরু হলো। এখানে দুটো
জিনিস ঘটলো। এক এখানেই দেখতে পেলাম সোনার তাল গাছের ওপর
অংশ। এর নিচের বড় অংশ তারপুলিনের আড়ালে। এরপরে শুনলাম
ঢাক ঢোল কাঁসর ঘন্টা বাজিয়ে মীনাক্ষী দেবী গঙ্গা স্নান করে নিজগৃহে
অত্যন্ত জাক জমক সহকারে প্রবেশ করছেন। সিংহাসনে অধিষ্ঠান হয়ে
তিনি ভক্তদের প্রণাম গ্রহণ করবেন। কিন্তু সেটা সহজ লভ্য নয় ভক্তদের
কাছে সেটা আমরা হারে হারে টের পেলাম। আগে সব গোপুরমগুলো
কাছে থেকে দেখে আসতে হবে বিশাল বিশাল লাইন দিয়ে তারপরে
দেবী দর্শনের জন্য মন্দিরের লাইন। তবে লাইনটা প্রথম থেকেই একই
সূত্রে বাঁধা। পালাবার কোন উপায় নেই। মন্দিরের পাশ দিয়ে তোমায়
যেতেই হবে এবং দেবী দর্শণ তোমায় করতেই হবে। আমরা দেবী দর্শণ
করে পশ্চিম দিকের গেট দিয়ে যখন বেরোলাম তখন অলরেডি পাঁচ
পাঁচটি ঘন্টা পেরিয়ে গেছে। আমি ও আমার স্ত্রী একেবারে বিপর্যস্ত।
এর অনেক আগে যখন এসেছিলাম আমরা দুই বন্ধু, আমরা বিনা
বাধায় ভেতরে প্রবেশ করে ভেতরের সর্বত্র স্বচ্ছন্দ বিচরণ করেছিলাম
এমন কি মন্দিরে প্রবেশ করে অনেকটা সামনে থেকে দেবীকে প্রণাম
জানাতে পেরেছিলাম। এখানে জনতা বিরক্ত হলেও শান্তিপূর্ণ ভাবে
এগোতে থাকলেও পুলিশেরা কখনো সখোন অশান্ত হয়ে যাত্রিদের
পেছন থেকে ভীষন ভাবে ধাক্কা দিয়ে বেশ কয়েক গজ করে এগিয়ে
দিচ্ছিলো। যেন তারা যাত্রীদের ঠেকা নিয়েছে নিশ্চিত দেবী দর্শন
করানোর। যাতে সেটা কিছুতেই মিস না হয়ে যায় এমনি মোটা বুদ্ধি।
এর পরের ঘটনা খুবই সংক্ষিপ্ত। হোটেলে ফিরতে ফিরতে
বেলা সাড়ে বারোটা বেজে গিয়ে প্রায় পৌনে একটা। অতএব স্নান
সেরে একেবারে লাঞ্চটাই হবে আমাদের দিনের প্রথম খাদ্য গ্রহণ।
লাঞ্চ সারার পর শুভ কাউন্টারে গিয়ে কথা বলে ছটা কফির ব্যবস্থা
করলো। মনে মনে শুভকে ধন্যবাদ দিলাম। কারণ সকাল থেকে মনটা
কফি কফি করছিল। কফিটা পেতে একটু দেরী হল। কিন্তু কৃতজ্ঞ
চিত্তে সেটা গ্রহণ করে ঘরে গিয়ে সবাই বিশ্রাম নিলাম। ঘন্টা দুয়েক
পরে খাট থেকে নেমে ইলেক্ট্রিক কেটলিতে কফি বসালাম। তারপর
বিস্কুটসহ সবাই কফি খেলাম। মজিদকে ডেকে গাড়ীতে উঠলাম
সবাই। কোথায় মার্কেট আছে সেখানে ঘুরে ঘুরে মার্কেট করা হলো।
এরপর হোটেলে ফিরে টিফিন করে চা কফি খেয়ে রুমে ঢুকলাম।
চেঞ্জ করে হাত মুখ ধুয়ে গোছগাছ শুরু করলাম এমন কি কাল কি
পরে বেরবো তাও সব ঠিক ঠাক করে রাখলাম।
তারপরদিন তারাতারি লাঞ্চ সেরে মালপত্র সব গাড়ীতে তুলে
গাড়ীতে উঠে পড়লাম। মজিদ দক্ষতার সাথে গাড়ী চালিয়ে আমাদার
মাদুরাই এয়ার পোর্টে পৌছে দিয়েই মালপত্র সমেত আমাদের সবার
কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গাড়ী ঘুরিয়ে নিল। আমরা এয়ারপোর্টে এক
এক করে প্রবেশ করলাম।
==========================
Dipak Kumar Paul
চটপট জামা কাপড় চেঞ্জ করে হাত-পা ধুয়ে কাল সকালে মীনাক্ষী মন্দির
দর্শন করার জন্য সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে শুয়ে পড়লাম।
সকাল সকাল মজিদ এসে গেল। আমরাও পুরো প্রস্তুত হয়ে নিচে
নামলাম। কাছাকাছি পৌছোতে যা দেখলাম তাতে সম্পূর্ণ অবাক হয়ে
গেলাম। গোটা মীনাক্ষী মন্দির চারটে গোপুরম্ সমেত একেবারে ওপর
থেকে নিচে পর্য্যন্ত লক্ষ লক্ষ ছোট বড় মাঝারি মাপের বাঁশ দিয়ে ঢাকা।
এর ফাঁক দিয়ে কোন কিছু বাইরে থেকে দেখার বা বোঝার উপায় নেই।
শেষমেষ তীরে এসে তরি ডুবলো। কিন্তু রিপেয়ারিং এর কাজ চলছে।
কত মাসের ধাক্কা কেজানে। ড্রাইভার আমাদের এক জায়গায় নামিয়ে
দিয়ে হাততুলে একদিকে দেখিয়ে সেদিকে এগিয়ে যেতে বললো। আমরা
সবাই সেদিকেই হাঁটতে থাকলাম। এক জায়গায় মোবাইল সহ সবকিছু
জমা করতে হলো। উত্তরের গোপুরোমের গেট দিয়ে ঢুকে কাউন্টারের
কাছে দাঁড়ালাম। কাউন্টারে খুব ভীর। পঞ্চাশ টাকা অর্ডিনারি স্পেশাল
দুশো টাকা। শুভ ছটা স্পেশাল টিকিট কেটে আমাদের ডাকলো।এন্ট্রিতে
খাঁকি রঙের ড্রেস পরা পুলিশেরা দাঁড়িয়ে আর সমানে হুইসল্ বাজাচ্ছে।
আমাদের ঢোকার লাইন দাঁড় করিয়ে ভেতরের একটা লাইন পূব দিক
থেকে পশ্চিম দিকে যাচ্ছিল সেখানকার লাইন থেকে কিছু লোক ছিটকে
বেরিয়ে এসে এই গেটের দিকে আসছিলো পুলিশের তাদের তাড়া করে
আবার আগের লাইনে চলে যেতে বাধ্য করলো। এবার দুজন পুলিশ
আমাদের টিকিট চেক করে পূব দিকে যাবার লাইনে গিয়ে দাঁড়াতে বলে।
এখানে অরডিনারী স্পেশাল সব এক হয়ে গেলো। আমার সব চাইতে
অবাক লাগলো ধর্মীয় স্থানে এত পুলিশের সমাহার দেখে। কোন মন্দীর
কর্তৃপক্ষের দেখা পর্যন্ত নেই। আমাদের কষ্টের কাহিনী এই শুরু হলো।
লাইন দুবার স্থান পরিবর্তন করে সোজা পূবমুখি হলো এবং গোপুরম্
পর্য্যন্ত পৌঁছে ঘুরে পশ্চিম দিকে আবার যাত্রা শুরু হলো। এখানে দুটো
জিনিস ঘটলো। এক এখানেই দেখতে পেলাম সোনার তাল গাছের ওপর
অংশ। এর নিচের বড় অংশ তারপুলিনের আড়ালে। এরপরে শুনলাম
ঢাক ঢোল কাঁসর ঘন্টা বাজিয়ে মীনাক্ষী দেবী গঙ্গা স্নান করে নিজগৃহে
অত্যন্ত জাক জমক সহকারে প্রবেশ করছেন। সিংহাসনে অধিষ্ঠান হয়ে
তিনি ভক্তদের প্রণাম গ্রহণ করবেন। কিন্তু সেটা সহজ লভ্য নয় ভক্তদের
কাছে সেটা আমরা হারে হারে টের পেলাম। আগে সব গোপুরমগুলো
কাছে থেকে দেখে আসতে হবে বিশাল বিশাল লাইন দিয়ে তারপরে
দেবী দর্শনের জন্য মন্দিরের লাইন। তবে লাইনটা প্রথম থেকেই একই
সূত্রে বাঁধা। পালাবার কোন উপায় নেই। মন্দিরের পাশ দিয়ে তোমায়
যেতেই হবে এবং দেবী দর্শণ তোমায় করতেই হবে। আমরা দেবী দর্শণ
করে পশ্চিম দিকের গেট দিয়ে যখন বেরোলাম তখন অলরেডি পাঁচ
পাঁচটি ঘন্টা পেরিয়ে গেছে। আমি ও আমার স্ত্রী একেবারে বিপর্যস্ত।
এর অনেক আগে যখন এসেছিলাম আমরা দুই বন্ধু, আমরা বিনা
বাধায় ভেতরে প্রবেশ করে ভেতরের সর্বত্র স্বচ্ছন্দ বিচরণ করেছিলাম
এমন কি মন্দিরে প্রবেশ করে অনেকটা সামনে থেকে দেবীকে প্রণাম
জানাতে পেরেছিলাম। এখানে জনতা বিরক্ত হলেও শান্তিপূর্ণ ভাবে
এগোতে থাকলেও পুলিশেরা কখনো সখোন অশান্ত হয়ে যাত্রিদের
পেছন থেকে ভীষন ভাবে ধাক্কা দিয়ে বেশ কয়েক গজ করে এগিয়ে
দিচ্ছিলো। যেন তারা যাত্রীদের ঠেকা নিয়েছে নিশ্চিত দেবী দর্শন
করানোর। যাতে সেটা কিছুতেই মিস না হয়ে যায় এমনি মোটা বুদ্ধি।
এর পরের ঘটনা খুবই সংক্ষিপ্ত। হোটেলে ফিরতে ফিরতে
বেলা সাড়ে বারোটা বেজে গিয়ে প্রায় পৌনে একটা। অতএব স্নান
সেরে একেবারে লাঞ্চটাই হবে আমাদের দিনের প্রথম খাদ্য গ্রহণ।
লাঞ্চ সারার পর শুভ কাউন্টারে গিয়ে কথা বলে ছটা কফির ব্যবস্থা
করলো। মনে মনে শুভকে ধন্যবাদ দিলাম। কারণ সকাল থেকে মনটা
কফি কফি করছিল। কফিটা পেতে একটু দেরী হল। কিন্তু কৃতজ্ঞ
চিত্তে সেটা গ্রহণ করে ঘরে গিয়ে সবাই বিশ্রাম নিলাম। ঘন্টা দুয়েক
পরে খাট থেকে নেমে ইলেক্ট্রিক কেটলিতে কফি বসালাম। তারপর
বিস্কুটসহ সবাই কফি খেলাম। মজিদকে ডেকে গাড়ীতে উঠলাম
সবাই। কোথায় মার্কেট আছে সেখানে ঘুরে ঘুরে মার্কেট করা হলো।
এরপর হোটেলে ফিরে টিফিন করে চা কফি খেয়ে রুমে ঢুকলাম।
চেঞ্জ করে হাত মুখ ধুয়ে গোছগাছ শুরু করলাম এমন কি কাল কি
পরে বেরবো তাও সব ঠিক ঠাক করে রাখলাম।
তারপরদিন তারাতারি লাঞ্চ সেরে মালপত্র সব গাড়ীতে তুলে
গাড়ীতে উঠে পড়লাম। মজিদ দক্ষতার সাথে গাড়ী চালিয়ে আমাদার
মাদুরাই এয়ার পোর্টে পৌছে দিয়েই মালপত্র সমেত আমাদের সবার
কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গাড়ী ঘুরিয়ে নিল। আমরা এয়ারপোর্টে এক
এক করে প্রবেশ করলাম।
==========================
Dipak Kumar Paul
, DTC,Joka.

