আবার ও পলাশের খোঁজে
অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)
বসন্ত মানেই অন্য রকমের অনুভূতি, গাছে গাছে কচি সবুজ পাতা আর তার সাথে কত রকমের বাহারি ফুলের সমাহার। যেমন পলাশ অশোক শিমুল রঙ্গন আরো কতো কি।
ভালোবাসা ভালোলাগাটা যেন এই ঋতুতে আরো বেশি করে অনুভূত হয়।
সারা বছর বাচ্চাদের পড়াশুনোর ফাঁকে এক টুকরো প্রশান্তি পেতে চায় মন।
তাই আমরা দুজনেই প্রতিবছরের মতো এ বছরেও বেরিয়ে পরলাম নীল আকাশের বুকে এক টুকরো ভালোলাগার আশায়। দিনটা ছিলো ২০ শে মার্চ বাংলার ৫ ই চৈত্র শুক্রবার।
কিন্তু এবারেও সে আমায় ডেকে নিলো তার কাছে জানিনা , কেনই বা পর পর তিনটি বছর সে আমায় আকৃষ্ট করেছে তার প্রেমে বা তার নিজের সৌন্দর্যতার ডালি মেলে ধরে হয়তো সেই জন্যই মুগ্ধ হয়ে তার পানে ছুটে যায় বারবার........
প্রতিবছরের মতো এবছরও বাসে উঠে মনে মনে ভেবেছিলাম অনেক দূরে যাবো আমরা দুজনে.............
আমার বাড়ি থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরেও যে বসন্তের এতো মাধুর্য্য তা আগে কখনো দেখিনি।
বাস এসে দাঁড়ালো নিজের গন্তব্যে ; নেমে গিয়ে বরমশাই বললো - ইকো পার্কে যেতে আরেকটি বাস ধরতে হবে।
আমি হেসে প্রশ্ন করলাম- কতক্ষন লাগবে? সে উত্তর দিলো - ওই ৪০ মিনিটের মতন। নিরব আমি, বাস! আর যেতে ইচ্ছা করছে না কিছুতেই মনে মনে এই ভেবে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলাম দক্ষিণ আকাশের কালো মেঘটা ভেসে ভেসে পুবের আকাশের দিকে যাচ্ছে সেই সাথে দক্ষিণা বাতাস দুজনে দাঁড়িয়ে আছি পথের এক পাশে সময়টা দুপুর বারোটা বেজে ২৫ মিনিট। সে আবারো জিজ্ঞেস করলো - মোহর কুঞ্জ যাবে ?
আমি তার হাত ধরে বললাম, আমি তো এখানেই আটকে গেছি। প্রতিবছর যার টানে ছুটে আসি বারবার............
সে অবাক চোখে বললো - চলো যাই তবে! দুজনে হেঁটে হেঁটে চলেছি বিজ্ঞান নগরীর পানে। টিকিট কেটে ভিতরে ঢুকতেই মনের অনুভূতিগুলি একের পর এক সমুদ্রে ঢেউ এর মতন কেমন যেন তরঙ্গায়িত হলো। এক বিশাল পৃথিবী বন বন করে ঘুরছে আর তার পাশে রংবেরঙের পিটুনিয়ার সমাহার, আহা! কি চমৎকার না লাগছিলো। তারপর একটু হেঁটে যেতেই সবুজ বনসাই গাছের ফাঁকে রবি ঠাকুরকে দেখতে পেলাম, দুজনে হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে অবশেষে পৌঁছে গেলাম তার কাছে ; দেখলাম গাছে অসংখ্য লাল পলাশ ফুল ফুটে আছে। এতো সুন্দর মনমুগ্ধকর দৃশ্য সারা বছরে আর কখনোই দেখতে পাওয়া যায় না কেমন যেন আবারও নিজেকে হারিয়ে ফেললাম। সাথে করে নিয়ে এলাম কয়েকখানি ছবি এ যেন এক অদ্ভুত নেশা - " পলাশের নেশা "।
এবার একটু এগিয়ে গিয়ে কমলের জলাধারের পাশে বসলাম সেখানেও কিছু ছবি ক্যামেরাবন্দি হলো। তারপর গোলাপি করবীর ফুলের দল, নানা রঙের পিটুনিয়া, গোলাপ, জারবেড়া, বাগান বিলাস, সূর্যমুখী সবাই নিজেদের ভালোবাসার বন্ধনে কখন যেন আবদ্ধ করে নিলো আমায় । দুজনে স্নিগ্ধ বাতাসে বকুল গাছের তলায় বসে আইসক্রিম খেলাম । বিজ্ঞান নগরীর এক প্রান্ত থেকে atmosphere কে তির্যক ভাবে দেখা যাচ্ছিলো এবং শেষ প্রান্তে দেখলাম এক বিরাট কলের জলধারা থেকে জল পড়ছিলো।
সেখানে কিছুক্ষণ বসে থাকার পর মনে হলো শিয়ালদায় যাই ;
এতো জনজোয়ার মহানগরীতে এর আগে কখনো দেখিনি, কারণ ঈদ উৎসব উপলক্ষে প্রচুর মানুষের সমাগম ছিলো সেদিন। যেতে যেতে বাসের জানালা দিয়ে লক্ষ্য করলাম পার্ক সার্কাস, তপসিয়া এই দুটি জায়গায় আলোক বর্ণমালায় সাজানো ছিলো যেমন বড়দিনের পার্ক স্ট্রীট সাজানো থাকে। এরপর নেমে পড়লাম শিয়ালদায় যেটি আমার অত্যন্ত পছন্দের একটি জায়গা দুজনে মিলে আবারো পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছি এদিক ওদিক , তারপর একটা রেস্তোরায় বসে চাওমিন খাওয়া হয়েছিলো।
মহানগরীর আকাশে যখন সূর্য জ্বলজ্বল করছে তখন আমাদের গ্রামবাংলার আকাশের মুখটা ঘন অন্ধকারে আচ্ছন্ন বাচ্চারা শঙ্কিত কন্ঠে ফোন করে বললো - তোমরা কোথায় আছো? আমাদের ভয় লাগছে আজ ঠান্ডার স্ট্রম হতে পারে। তারপর ঘটকপুকুর গামী বাস টি তে শিয়ালদার উঁচু ব্রিজ থেকে শিয়ালদা স্টেশন, এস টি জন চার্চ, নীল রতন সরকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রেলপথ, বিভিন্ন পুরনো বাড়িঘর দেখতে দেখতে এক নিমিষে যেন উঁড়ে গেলাম। বাস তার নিজের পথে চলেছে বানতালার কাছাকাছি আসতেই শ শ শব্দে কতগুলি বজ্রপাত হয়েছিলো শীতল বাতাসে মন ছুঁয়ে গেলো, খালের পাশের জমিতে থাকা লাল রঙ্গন ও সূর্যমুখী বাতাসের অনবরত তালে তাল দিচ্ছিলো। পথ যত এগোয় আকাশের বুকে ততই আঁধার নেমে আসে ; আর ততোখানি শব্দ করে মেঘের সঞ্চার হতে থাকে। ভোজেরহাট থেকে বড়ালী পর্যন্ত ঝড়ো হাওয়ার সাথে প্রচন্ড শিলাবৃষ্টি হয়, তা অবশ্য আমাদের চাক্ষুষ দেখার সৌভাগ্য হয়নি তবে ঝড় ও বৃষ্টির দাপটে রাস্তায় রাস্তায় জলে পরিপূর্ণ রাস্তার পাশে থাকা জংলি গাছগুলি কেমন যেন নুয়ে পড়েছে লাল ফুলের পাপড়ি গুলি, ছিঁড়ে পথের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গড়াগড়ি দিচ্ছে। সুন্দর শ্রান্ত পরিবেশে সেদিনের ভ্রমণটা ছোটখাটো বা অল্প সময়ের জন্য হলেও আমার খুব ভালো লেগেছে।
এটা ছিলো বসন্তের আমাদের একান্ত নিজস্ব একটি ভ্রমণ।।
-------------------------------
ভালোবাসা ভালোলাগাটা যেন এই ঋতুতে আরো বেশি করে অনুভূত হয়।
সারা বছর বাচ্চাদের পড়াশুনোর ফাঁকে এক টুকরো প্রশান্তি পেতে চায় মন।
তাই আমরা দুজনেই প্রতিবছরের মতো এ বছরেও বেরিয়ে পরলাম নীল আকাশের বুকে এক টুকরো ভালোলাগার আশায়। দিনটা ছিলো ২০ শে মার্চ বাংলার ৫ ই চৈত্র শুক্রবার।
কিন্তু এবারেও সে আমায় ডেকে নিলো তার কাছে জানিনা , কেনই বা পর পর তিনটি বছর সে আমায় আকৃষ্ট করেছে তার প্রেমে বা তার নিজের সৌন্দর্যতার ডালি মেলে ধরে হয়তো সেই জন্যই মুগ্ধ হয়ে তার পানে ছুটে যায় বারবার........
প্রতিবছরের মতো এবছরও বাসে উঠে মনে মনে ভেবেছিলাম অনেক দূরে যাবো আমরা দুজনে.............
আমার বাড়ি থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরেও যে বসন্তের এতো মাধুর্য্য তা আগে কখনো দেখিনি।
বাস এসে দাঁড়ালো নিজের গন্তব্যে ; নেমে গিয়ে বরমশাই বললো - ইকো পার্কে যেতে আরেকটি বাস ধরতে হবে।
আমি হেসে প্রশ্ন করলাম- কতক্ষন লাগবে? সে উত্তর দিলো - ওই ৪০ মিনিটের মতন। নিরব আমি, বাস! আর যেতে ইচ্ছা করছে না কিছুতেই মনে মনে এই ভেবে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলাম দক্ষিণ আকাশের কালো মেঘটা ভেসে ভেসে পুবের আকাশের দিকে যাচ্ছে সেই সাথে দক্ষিণা বাতাস দুজনে দাঁড়িয়ে আছি পথের এক পাশে সময়টা দুপুর বারোটা বেজে ২৫ মিনিট। সে আবারো জিজ্ঞেস করলো - মোহর কুঞ্জ যাবে ?
আমি তার হাত ধরে বললাম, আমি তো এখানেই আটকে গেছি। প্রতিবছর যার টানে ছুটে আসি বারবার............
সে অবাক চোখে বললো - চলো যাই তবে! দুজনে হেঁটে হেঁটে চলেছি বিজ্ঞান নগরীর পানে। টিকিট কেটে ভিতরে ঢুকতেই মনের অনুভূতিগুলি একের পর এক সমুদ্রে ঢেউ এর মতন কেমন যেন তরঙ্গায়িত হলো। এক বিশাল পৃথিবী বন বন করে ঘুরছে আর তার পাশে রংবেরঙের পিটুনিয়ার সমাহার, আহা! কি চমৎকার না লাগছিলো। তারপর একটু হেঁটে যেতেই সবুজ বনসাই গাছের ফাঁকে রবি ঠাকুরকে দেখতে পেলাম, দুজনে হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে অবশেষে পৌঁছে গেলাম তার কাছে ; দেখলাম গাছে অসংখ্য লাল পলাশ ফুল ফুটে আছে। এতো সুন্দর মনমুগ্ধকর দৃশ্য সারা বছরে আর কখনোই দেখতে পাওয়া যায় না কেমন যেন আবারও নিজেকে হারিয়ে ফেললাম। সাথে করে নিয়ে এলাম কয়েকখানি ছবি এ যেন এক অদ্ভুত নেশা - " পলাশের নেশা "।
এবার একটু এগিয়ে গিয়ে কমলের জলাধারের পাশে বসলাম সেখানেও কিছু ছবি ক্যামেরাবন্দি হলো। তারপর গোলাপি করবীর ফুলের দল, নানা রঙের পিটুনিয়া, গোলাপ, জারবেড়া, বাগান বিলাস, সূর্যমুখী সবাই নিজেদের ভালোবাসার বন্ধনে কখন যেন আবদ্ধ করে নিলো আমায় । দুজনে স্নিগ্ধ বাতাসে বকুল গাছের তলায় বসে আইসক্রিম খেলাম । বিজ্ঞান নগরীর এক প্রান্ত থেকে atmosphere কে তির্যক ভাবে দেখা যাচ্ছিলো এবং শেষ প্রান্তে দেখলাম এক বিরাট কলের জলধারা থেকে জল পড়ছিলো।
সেখানে কিছুক্ষণ বসে থাকার পর মনে হলো শিয়ালদায় যাই ;
এতো জনজোয়ার মহানগরীতে এর আগে কখনো দেখিনি, কারণ ঈদ উৎসব উপলক্ষে প্রচুর মানুষের সমাগম ছিলো সেদিন। যেতে যেতে বাসের জানালা দিয়ে লক্ষ্য করলাম পার্ক সার্কাস, তপসিয়া এই দুটি জায়গায় আলোক বর্ণমালায় সাজানো ছিলো যেমন বড়দিনের পার্ক স্ট্রীট সাজানো থাকে। এরপর নেমে পড়লাম শিয়ালদায় যেটি আমার অত্যন্ত পছন্দের একটি জায়গা দুজনে মিলে আবারো পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছি এদিক ওদিক , তারপর একটা রেস্তোরায় বসে চাওমিন খাওয়া হয়েছিলো।
মহানগরীর আকাশে যখন সূর্য জ্বলজ্বল করছে তখন আমাদের গ্রামবাংলার আকাশের মুখটা ঘন অন্ধকারে আচ্ছন্ন বাচ্চারা শঙ্কিত কন্ঠে ফোন করে বললো - তোমরা কোথায় আছো? আমাদের ভয় লাগছে আজ ঠান্ডার স্ট্রম হতে পারে। তারপর ঘটকপুকুর গামী বাস টি তে শিয়ালদার উঁচু ব্রিজ থেকে শিয়ালদা স্টেশন, এস টি জন চার্চ, নীল রতন সরকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রেলপথ, বিভিন্ন পুরনো বাড়িঘর দেখতে দেখতে এক নিমিষে যেন উঁড়ে গেলাম। বাস তার নিজের পথে চলেছে বানতালার কাছাকাছি আসতেই শ শ শব্দে কতগুলি বজ্রপাত হয়েছিলো শীতল বাতাসে মন ছুঁয়ে গেলো, খালের পাশের জমিতে থাকা লাল রঙ্গন ও সূর্যমুখী বাতাসের অনবরত তালে তাল দিচ্ছিলো। পথ যত এগোয় আকাশের বুকে ততই আঁধার নেমে আসে ; আর ততোখানি শব্দ করে মেঘের সঞ্চার হতে থাকে। ভোজেরহাট থেকে বড়ালী পর্যন্ত ঝড়ো হাওয়ার সাথে প্রচন্ড শিলাবৃষ্টি হয়, তা অবশ্য আমাদের চাক্ষুষ দেখার সৌভাগ্য হয়নি তবে ঝড় ও বৃষ্টির দাপটে রাস্তায় রাস্তায় জলে পরিপূর্ণ রাস্তার পাশে থাকা জংলি গাছগুলি কেমন যেন নুয়ে পড়েছে লাল ফুলের পাপড়ি গুলি, ছিঁড়ে পথের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গড়াগড়ি দিচ্ছে। সুন্দর শ্রান্ত পরিবেশে সেদিনের ভ্রমণটা ছোটখাটো বা অল্প সময়ের জন্য হলেও আমার খুব ভালো লেগেছে।
এটা ছিলো বসন্তের আমাদের একান্ত নিজস্ব একটি ভ্রমণ।।
-------------------------------
ভাঙ্গড় দক্ষিণ ২৪ পরগনা
