মাধব ও মালতি
সমীরন সরকার
(পূর্ব কথা:--গভীর রাতে ঘোড়ার পিঠে চেপে মানবেন্দ্র নারায়ণ ও পুনি কমলাপুর গ্রাম ছেড়ে সোমড়া গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হলো। পথে একটা পান্থশালায় রাত্রি বাস করার উদ্দেশ্যে ওরা জঙ্গলের রাস্তা পেরিয়ে এসে উপস্থিত হলো জয়পুরে।পুনি দেখতে পেল এত মস্ত বড় ঝাঁকড়া গাছের প্রায় গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে একটা মাটির দোতলা ঘর। ভিতর থেকে হালকা আলোর আভা বেরিয়ে আসছে।
মানবেন্দ্র নারায়ণ দোতলা মাটির ঘরটির থেকে একটু দূরে চেতককে দাঁড় করিয়ে ঘোড়ার পিঠ থেকে ঝাঁপিয়ে নামল। তারপর খুব সন্তর্পনে গর্ভবতী পুনিকে নামালো।
পুনির জিজ্ঞাসার উত্তরে মানবেন্দ্র নারায়ণ উত্তর দিলো যে, জগন্নাথ পাত্র নামে জনৈক ভদ্রলোক ওই পান্থশালাটির দেখাশোনা করে। জগন্নাথ পাত্র মানবেন্দ্র নারায়ণের পরিচিত।তাঁর খোঁজ করতে এগিয়ে চলো মানবেন্দ্র নারায়ণ।)
********************************************
কুমার মানবেন্দ্র বেশ কিছুক্ষণ আগে সরাইখানার দিকে গেছে। কিন্তু এখনো ফিরে আসছে না কেন? তবে কী ও ওখানে কোন সমস্যায় পড়ল? সরাইখানায় কী থাকার জন্য
জায়গা পায়নি? কিন্তু তা কী করে হয়? কুমার তো বলছিল কালে ভদ্রে এখানে রাত্রে থাকার লোক আসে। দূরবর্তী জায়গায় যাওয়ার পথে কখনো এই জয়পুরের কাছাকাছি এসে সন্ধ্যা নামলে পথিকেরা আশ্রয় নেয় এই পান্থশালায়?
তাহলে? কী হলো কুমারের?
প্রায় নিশ্চিদ্র অন্ধকারে একা দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে এমনি নানা দুশ্চিন্তায় , উৎকণ্ঠায় জর্জরিত হচ্ছিল পুনি। একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে কুমারের সাদা ঘোড়া । সাদা রঙের ঘোড়া বলেই বোধহয় এত অন্ধকারেও ওর চেহারা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
হঠাৎ পান্থশালার দিক থেকে উত্তেজিত কথোপকথনের শব্দকানে আসে পুনির।কিসের গন্ডগোল? তবে কী জগন্নাথ পাত্রের বদলে অন্য কেউ এখন পান্থশালাটি দেখাশোনা করে?
কুমারের সঙ্গে তার কী কোনো রকম বচসা হচ্ছে?
না, আর ধৈর্য রাখা যাচ্ছে না। একটু এগিয়ে দেখতেই হবে। পুনি চেতকের কাছে গিয়ে খুব ধীরে ধীরে ওর গায়ে হাত বুলিয়ে দিল। চেতক ঘাড় ঘুরিয়ে একবার দেখলে পুনিকে।
পুনি খুব নরম গলায় ধীরে ধীরে বলল, চেতক, তোমার প্রভু কুমার মানবেন্দ্র অনেকক্ষণ আগে পান্থশালায় খোঁজ নিতে গেছে, এখনো ফেরেনি। আমার খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছে। আমি একবার গিয়ে দেখে আসি।
চেতক কী বুঝল সেই জানে, তবে সে বারদুয়েক মাথাটা এদিক ওদিক করে মনে হল যেন সম্মতি দিল। গাছপালার ফাঁকে ফাঁকে খুব সন্তর্পনে এগিয়ে চলল পূর্ণিমা। বেশ কিছুটা যাওয়ার পর সে পান্থশালার কাছাকাছি হয়ে যে দৃশ্য দেখলো তাতে তার মাথা ঘুরে গেল। পান্থশালার সামনে
হাতে পায়ে দড়ি বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি। অদূরে একটি বিবাহিত স্ত্রীলোক মাটিতে বসেই কপাল চাপড়ে হাউ হাউ করে কাঁদছে আর বলছে, হায় হায়,আমার সোনাদানা, গয়নাগাটি সব ডাকাতে নিয়ে গেল গো! সবগুলো আমার মায়ের গয়না ছিল গো। আমার মা তো স্বর্গেও শান্তি পাবে না।
হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকা লোকটি নানারকম কথা বলে ক্রমাগত সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে স্ত্রীলোকটিকে।
কুমার মানবেন্দ্র নারায়ণকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে চারজন লোক। প্রত্যেকের হাতে লাঠি। লোকগুলোর চেহারা দেখেই হিংস্র ডাকাত মনে হচ্ছে।
(চলবে)
Regards
Dr. Samiran Sarkar
Khelaghar, Lautore,
P.O : Sainthia, Dist : Birbhum.
W.B - 731234
Mob : 8509258727
Dr. Samiran Sarkar
Khelaghar, Lautore,
P.O : Sainthia, Dist : Birbhum.
W.B - 731234
Mob : 8509258727

