ছবিঋণ- ইন্টারনেট
রাতের কালবৈশাখী
অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)
দিনটি ১৬ ই মার্চ ১লা চৈত্র সোমবার সময়টা রাত দশটা বেজে পনের মিনিট। তখনও নৈশ ভোজনের আয়োজন হয়ে ওঠেনি। হঠাৎই কানে ভেসে এলো কর কর করে মেঘের সঞ্চার ;
আকাশ খুব ঘন ও কালো পরিবেশটা যেন অন্য দিনের চেয়ে একটু থমথমে। রাতের আঁধারে তেমন দেখা যাচ্ছে না কিছুই মাঝে মাঝে শিয়াল কুকুরের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে।
জালনার ধারে দাঁড়িয়ে এক পশলা বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছিলাম সেদিন ; সকাল থেকেই কালো মেঘ আকাশের এক প্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে ভেসে বেরোচ্ছে সাথে ঝড়ো হাওয়া । তাই সকাল থেকেই বৃষ্টি হওয়ার একটা সম্ভাবনা ছিলো ।।
সাথে সাথেই তালপাতার খসখস শব্দে খুব ঝড় উঠেছিলো সাথে প্রচন্ড বৃষ্টি। আবহাওয়ার সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে এক শীতল বাতাস শরীরে অনুভূত হলো। বসন্তের রাতে এমন একটি ঝড়ের রাত মনে দোলা দিয়ে গেলো। দক্ষিণের জানালা দিয়ে দেখলাম পুকুর পাড়ে তালগাছ ও কদম গাছটি অনবরত ঝড়ের তালে তালে মাথা দোলা দিচ্ছে তার সাথে ভেসে আসছে খড় কুটোর মতো ছেঁড়া কচি আম, দেবদারু, লম্বু, মেহগনি গাছের ডাল পালা ও কচি পাতা। কখন যেন বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। তার মাঝে ছাদের বাসের খুঁটিটা ঝপাত করে সশব্দে পড়ে গেলো। এবার পুবের জালনা দিয়ে বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ এর আলোতে দেখলাম বর্ষাদের ছাদে বাঁকা রুপোলি বৃষ্টির রেখা। বাহ্ অপরূপ ঝড়ের রাতে ব্যাঙেদের ডাক। পশ্চিমের জালানার ফাঁকা দিয়ে বৃষ্টির জল ঢুকছে অনবরত। সেই রাতে একখানি গাড়ির আলোতে দেখলাম ঝড়ে ছোট ছোট কচি আম বাড়ির উঠোনে পড়েছে। বাচ্চারা ভয়ে নিজেদের মতো চুপ করে বসেছিলো। এরপর ঝড়ের দাপট কমে গেলে বাচ্চাদের খাইয়ে দেওয়া হলো সেদিনের নৈশ ভোজনে ছিলো ডিম ভাত। বাচ্চারা ঘুমিয়ে পড়ার পর আবারো ভারী বৃষ্টি শুরু হলো ; কাঁচের জানালা লাগানো ঘরে বসে কিছু সময়ের জন্য উপলব্ধি করেছিলাম। মনে পরে গেলো ছোটবেলায় পরীক্ষার খাতায় লেখা রচনার কথা - একটি ঝড়ের রাত ।
সেদিন শুতে অনেকটা রাত হয়ে গিয়েছিলো।
পরের দিন খুব সকালে উঠে ছাদে গিয়েছিলাম আমার শখের ছাদ বাগান দেখতে। ঠান্ডা বাতাসে গায়ে হালকা চাদর জড়িয়ে লাল রবির আলোয় নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম। ছাদে বিছিয়ে ছিলো সবুজ আমের গুটির সাথে নতুন আম্র পত্রিকা। গোলাপি, সাদা, কমলা, দুধে আলতা রং এর বাগান বিলাসের পাঁপড়ি গুলি ঝড়ে পড়ে আছে চারিদিকে। কিছু নতুন কুড়ি পাঁপড়ি মিলেছে যেমন লাল কমলা জবা, বেলি ফুল, গাঁদা, টাইম ফুল, ছোট ছোট অলকানন্দা, ক্যালানঞচু, জারবেরা, নয়ন তারা, এক ধরনের গোলাপি ফুল তাদের বাহারি ডালি মেলে ধরেছে। যাইহোক ছাদ পরিষ্কার করে নিচে নেমে নিজের কাজ শেষ করে চললাম বাচ্চাদের বিদ্যালয়ের পথে...............
প্রকৃতির ঝড় থামলেও মনের ঝড় তখনও অবিচল কারণ আজ তাদের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল।
সুন্দর সকালের নতুন রবির আলোকে সাক্ষী রেখে আমার মেয়েরা সকল বিষয়ে সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। এই যে আমার জীবনের বড় পাওনা।
এবার যে সকল ঝড়ের অবসান ঘটেছে।।
-------------------------------
ভাঙ্গড় , দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ।
আকাশ খুব ঘন ও কালো পরিবেশটা যেন অন্য দিনের চেয়ে একটু থমথমে। রাতের আঁধারে তেমন দেখা যাচ্ছে না কিছুই মাঝে মাঝে শিয়াল কুকুরের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে।
জালনার ধারে দাঁড়িয়ে এক পশলা বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছিলাম সেদিন ; সকাল থেকেই কালো মেঘ আকাশের এক প্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে ভেসে বেরোচ্ছে সাথে ঝড়ো হাওয়া । তাই সকাল থেকেই বৃষ্টি হওয়ার একটা সম্ভাবনা ছিলো ।।
সাথে সাথেই তালপাতার খসখস শব্দে খুব ঝড় উঠেছিলো সাথে প্রচন্ড বৃষ্টি। আবহাওয়ার সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে এক শীতল বাতাস শরীরে অনুভূত হলো। বসন্তের রাতে এমন একটি ঝড়ের রাত মনে দোলা দিয়ে গেলো। দক্ষিণের জানালা দিয়ে দেখলাম পুকুর পাড়ে তালগাছ ও কদম গাছটি অনবরত ঝড়ের তালে তালে মাথা দোলা দিচ্ছে তার সাথে ভেসে আসছে খড় কুটোর মতো ছেঁড়া কচি আম, দেবদারু, লম্বু, মেহগনি গাছের ডাল পালা ও কচি পাতা। কখন যেন বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। তার মাঝে ছাদের বাসের খুঁটিটা ঝপাত করে সশব্দে পড়ে গেলো। এবার পুবের জালনা দিয়ে বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ এর আলোতে দেখলাম বর্ষাদের ছাদে বাঁকা রুপোলি বৃষ্টির রেখা। বাহ্ অপরূপ ঝড়ের রাতে ব্যাঙেদের ডাক। পশ্চিমের জালানার ফাঁকা দিয়ে বৃষ্টির জল ঢুকছে অনবরত। সেই রাতে একখানি গাড়ির আলোতে দেখলাম ঝড়ে ছোট ছোট কচি আম বাড়ির উঠোনে পড়েছে। বাচ্চারা ভয়ে নিজেদের মতো চুপ করে বসেছিলো। এরপর ঝড়ের দাপট কমে গেলে বাচ্চাদের খাইয়ে দেওয়া হলো সেদিনের নৈশ ভোজনে ছিলো ডিম ভাত। বাচ্চারা ঘুমিয়ে পড়ার পর আবারো ভারী বৃষ্টি শুরু হলো ; কাঁচের জানালা লাগানো ঘরে বসে কিছু সময়ের জন্য উপলব্ধি করেছিলাম। মনে পরে গেলো ছোটবেলায় পরীক্ষার খাতায় লেখা রচনার কথা - একটি ঝড়ের রাত ।
সেদিন শুতে অনেকটা রাত হয়ে গিয়েছিলো।
পরের দিন খুব সকালে উঠে ছাদে গিয়েছিলাম আমার শখের ছাদ বাগান দেখতে। ঠান্ডা বাতাসে গায়ে হালকা চাদর জড়িয়ে লাল রবির আলোয় নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম। ছাদে বিছিয়ে ছিলো সবুজ আমের গুটির সাথে নতুন আম্র পত্রিকা। গোলাপি, সাদা, কমলা, দুধে আলতা রং এর বাগান বিলাসের পাঁপড়ি গুলি ঝড়ে পড়ে আছে চারিদিকে। কিছু নতুন কুড়ি পাঁপড়ি মিলেছে যেমন লাল কমলা জবা, বেলি ফুল, গাঁদা, টাইম ফুল, ছোট ছোট অলকানন্দা, ক্যালানঞচু, জারবেরা, নয়ন তারা, এক ধরনের গোলাপি ফুল তাদের বাহারি ডালি মেলে ধরেছে। যাইহোক ছাদ পরিষ্কার করে নিচে নেমে নিজের কাজ শেষ করে চললাম বাচ্চাদের বিদ্যালয়ের পথে...............
প্রকৃতির ঝড় থামলেও মনের ঝড় তখনও অবিচল কারণ আজ তাদের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল।
সুন্দর সকালের নতুন রবির আলোকে সাক্ষী রেখে আমার মেয়েরা সকল বিষয়ে সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। এই যে আমার জীবনের বড় পাওনা।
এবার যে সকল ঝড়ের অবসান ঘটেছে।।
-------------------------------
ভাঙ্গড় , দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ।

