গল্প।। স্বপ্ন।। প্রতীক মিত্র


                                                                                                                                                ছবিঋণ- ইন্টারনেট  

 স্বপ্ন

 প্রতীক মিত্র

 
বৃষ্টি সবে ধরেছে। অয়ন ঘরটা থেকে বেরিয়ে এলো। ঘরে তেড়ে এসি চলছিলো। ঘরে ঠাসা ভীড় আর লোকের ঘাম আর সুগন্ধিতে মাথা ধরে যাচ্ছে। জনপ্রিয় টিভি সিরিয়ালের জন্য খুদে অভিনেতাকে নেবে। অডিশন। শর্ত যা দিয়েছিল সেই শর্ত অয়নের ছেলে পূরণ করে ফেলবে এটাই ভেবেছিল সে। ভীড় হবে।  তাবলে এত ভীড়! বৃষ্টি হচ্ছিল তাই। থামতেই ঘরের বাইরে চলে এসেছে। বাইরেটা কি সুন্দর। নির্ঝঞ্ঝাট। এমন ঘিঞ্জি শহরের বাড়িতেও এমন একটা বড় আম গাছ আছে,চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করতো না অয়ন। ঘরে তখন বাচ্চা বাচ্চা ছেলেগুলোকে চড়া মেক আপ করিয়ে বসিয়ে রাখা। তার ছেলের নম্বর যে কত নম্বরে, সে ভুলে গেছে। বউ নীতা জানে। সে ওই সিরিয়ালও দেখে। ইতিমধ্যে ভাব জমিয়ে ফেলেছে অন্যান্য খুদে অভিনেতার বাবা-মা'র সাথে। অয়ন আসতে চায়নি। আনতেও চায়নি বাচ্চাকে। বউ বলে বসলো, যদি সত্যজিৎ রায় বেঁচে থাকতো আর অডিশনের জন্য বলতো, তুমি নিয়ে যেতে না? বোঝো! এ আবার কি বিটকেল যুক্তি! অয়ন বেশ শান্তিতে বসে বসে সবে সনাতন বাগদীর সম্পাদিত লিটল ম্যাগাজিনের পাতা ওলটাতে যাবে, এমন সময় হঠাৎই ' তাহলে এখন তুমি রেডি' বলে একজন চকচকে টাক ওয়ালা মাথার লোক ফোনের অন্যদিকে যে তাকে জিজ্ঞেস করে বসলো, ' বলো, তুমি তাহলে বলো, ইউনিটগুলো কি কি? 'তারপর, সেকি বিরক্তিকর তার কথা। ব্যাটা কারোকে ফোনে পড়াচ্ছিল। অয়ন ম্যাগাজিনের একটা লাইনও পড়ে উঠতে পারেনি। পদার্থবিদ্যার দোহাই দিয়ে পুরো পরিবেশটা কে টাকলুটা করে দিল অপদার্থ। অয়ন জানে না কিভাবে এই বিরক্তিকর পরিবেশ থেকে বেরোনো সম্ভব। ও একটু দূরে গিয়ে বসলো, যদি লোকটার পড়ানোটা একটু কম কানে আসে। লোকটার মুখে আত্মবিশ্বাসের হাসি। ইতিমধ্যে নীতার ফোন আসে। বাচ্চার ইন্টারভিউ হবে। অয়ন যেন চটপট চলে আসে। বাবা-মা'কেও দরকার। টাকলুটা তখনও বকে চলেছে, রীতিমতো হাত পা নেড়ে। ইন্টারভিউ শেষ হয়ে বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত হয়। ছেলে নির্বাচিত হয়নি বলে, মা নীতা রীতিমতো রেগে গুম হয়ে আছে। অয়ন, সং সেজে থাকা ছেলের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে, ব্যাটা বেঁচে গেল। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমোলেও ঘুমটা আসে রাত আরো গভীর হলে। ব্যস আর কিছু হয় না, অয়নের স্বপ্ন দেখা ছাড়া। স্বপ্নে সে দ্যাখে, আম গাছের নিচে বসে। মাথার ওপর বৃষ্টির মতন আমের মুকুল ঝড়ে পরছে। স্বপ্নটা ওর বেশ ভালো লাগে।
========================
কোন্নগর, হুগলী

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.