ছবিঋণ- ইন্টারনেট
পূর্ব কথা
কাকলী দেব
এই জীবন আবার পেল সে, রাজনন্দিনী রূপে! এর আগের জন্মের কিছু ইচ্ছা পূরণ করতে এবার আবার পৃথিবীতে ফিরে আসা! যজ্ঞের আগুন থেকে উঠে আসা কন্যার ভবিষ্যত গননাকালে রাজ জ্যোতিষীরা বললেন, "এই কন্যা ভারতবর্ষের ইতিহাসকে পালটে দেবে। "কি হবে আর কেমন হবে, সেই সুদূর ভবিষ্যত, সেই চিন্তা করে, পাঞ্চাল রাজ দ্রুপদ চিন্তিত মুখে এলেন ঋষি বেদব্যাসের কাছে। ত্রিকালদর্শী ঋষি বললেন, "রাজন, নারী চিররহস্যময়ী, সে যখন অনন্তের বার্তাসহ পুরুষের জীবনে, তার অপরূপ মাধূর্য্য নিয়ে ধরা দিতে চায় তখন সেখানে দেবতার আশীর্বাদ থাকে! এই কন্যা দেবতাদের নির্দেশে তোমার ঘরে এসেছে এবং সে স্বামী রূপে ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ পাঁচ পুরুষকে পাবে। এই অবশ্যম্ভাবী ঘটনার পূর্ব ইতিহাস তাহলে তোমাকে বলি। "
"অনেক কাল আগে ছিলেন ঋষি মৌদগল্য এবং তাঁর স্ত্রী নলায়নী। নলায়নী ছিলেন নল আর দময়ন্তির কন্যা। নলায়নীর আরেক নাম ছিল ইন্দ্রসেনা। অপূর্ব সুন্দরী, পরম বিদূষী, ধর্মপরায়না নলায়নীর বিবাহ হল রাজা মৌদগল্যর সঙ্গে। প্রথম জীবন খুব সুখে কাটল তাঁদের। মধ্যবয়সে এসে মৌদগল্যর কুষ্ঠ রোগ ধরা পড়ল! নলায়নী মন প্রাণ ঢেলে তার সেবা করলেন। সেরেও উঠলেন রাজা, কিন্ত সমস্ত পার্থিব কামনা, জাগতিক বাসনা পরিত্যাগ করে তিনি আধ্যাত্মিক জগতে ডুবে যেতে চাইলেন!"
'নলায়নী বললেন, "আমি কি নিয়ে থাকব তাহলে, আমার ভোগ বাসনা তো শেষ হয়ে যায়নি!"
'ঋষি মৌদগল্য মোক্ষ লাভের পথে যাত্রা করার আগে ক্রন্দনরতা স্ত্রীকে বললেন ভগবান শিবের তপস্যা করতে।
নলায়নী তথা ইন্দ্রসেনা তখন কঠোর তপস্যা শুরু করলেন। দেবাদিদেব, তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে নলায়নীকে আশীর্বাদ করে বর দিতে চাইলেন। নলায়নী বললেন, জীবনে এমন একজন পুরুষকে পেতে চাই যার মধ্যে অন্তত পাঁচ রকম সেরা গুন থাকবে। শঙ্কর ভগবান বললেন, "একজন পুরুষের মধ্যে তো এত গুণ থাকতে পারেনা ,তুমি পরজন্মে পাঁচজন পুরুষের সঙ্গ লাভ করবে। কালক্রমে তুমি হবে রাজার নন্দিনী,পঞ্চস্বামী লাভ করবে আর পরিপূর্ণ ভাবে জীবন উপভোগ করবে"। "নলায়নী বোঝাতে চাইলেন, তিনি এই বর চাননি! তিনি চেয়েছেন এক, একম অদ্বিতীয়ম পুরুষ যার মধ্যে রূপ এবং সর্বগুনের সমাহার হবে। কিন্ত একবার বর দেওয়া হয়ে গেলে তা তো আর ফেরানো যায়না!"
"অতএব, হে রাজা দ্রুপদ, তুমি চিন্তা কোরোনা। নিয়তিকে খন্ডন করা যায়না।তোমার ঘরে যে অতুলনীয়া রমনী, তোমার কন্যা রূপে এসেছে, যার চিকন শ্যাম বর্ণ, পদ্মফুলের মত বড় বড় চোখ দুটি কালো ভ্রমরের মত, ঘন নীলরঙের কুন্চিত কেশ, সে পূর্ব নির্দিষ্ট অমোঘ ভবিষ্যত বাণীর ফলস্বরূপ, আজ তোমার কাছে এসেছে।
যজ্ঞের আগুন থেকে সে উঠে এসেছে, তাই সে যাজ্ঞসেনী, পাঞ্চাল দেশের রাজকন্যা বলে, সে পাঞ্চালী, তোমার স্ত্রী পৃশতীর কন্যা বলে সে হল পার্শ্বতী, আবার তোমার কন্যা বলে সে দ্রৌপদী, যে নামে সে সমধিক পরিচিতি পাবে, আর অদূর ভবিষ্যতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, নিজের নামের সঙ্গে মিল রেখে ওর নামকরণ করবেন, কৃষ্ণা। "
দ্রুপদ, ব্যাসদেবকে প্রনাম করে বললেন, "হে, সত্যবতী পুত্র, আপনি আমাকে যেভাবে প্রাঞ্জল করে বুঝিয়ে দিলেন,তাতে আমার মনে আর কোনও দ্বিধা রইল না। সমস্ত ব্যাপার যে দেবতাদের আশীর্বাদ ধন্য, এটা আমি সম্যক ভাবে উপলব্ধি করলাম। "
==================
কাকলী দেব

