Alone
কাকলী দেব
We are born alone
We live alone
We die alone
Only through our love
And frienships
We can create the illusion for the moment that we are not alone !
কোথাও পেয়েছিলাম এই লাইন গুলো । ভাল লেগেছিল। এই তো যথার্থ সত্য। মানুষ আসলে মূলত একা। কিন্ত এই একাকীত্বকে খুব কম মানুষই মন থেকে মেনে নিতে পারে।
একা হওয়া বা থাকা, শারীরিক ভাবে অনেকেই করে কিন্ত একাকীত্ব মানে মানসিক ভাবে সে একা। এই দুই এর মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে।
একা বা alone ইচ্ছাকৃত। আর একাকীত্ব বা loneliness কিন্ত অনিচ্ছাকৃত। আবার স্বেচ্ছায় আমি একা থেকে যদি একাকীত্বকে পেতে চাই তখন তা উপভোগ্য। তবে না চাইলেও যদি একাকীত্ব আসে তখন সেটা দুঃখজনক।
যখন আমরা একাকীত্বকে নিজে বেছে নেব , সেটা হল ভালবেসে নির্জনতাকে আপন করে নেওয়া। তার মধ্যে যে গভীর আনন্দ আছে, তার স্বাদ নিতে কম মানুষই পারে। কিন্ত যখন কারো ওপরে একাকীত্বকে চাপিয়ে দেওয়া হবে তার মত কঠিন শাস্তি এ জীবনে হয়না।
কেউ কেবল অনেক মানুষের ভীড়ের মাঝখানে জীবন কাটাতে চায়। একা হতে সে ভয় পায়। তার নানা কারণ থাকে। তার হয়ত ছোটবেলার অভ্যাস, হইচই করে, সবার মাঝে থাকার। তাতেই সে শান্তি পায়। সেই মানুষকে যদি পরিস্থিতির বশবর্তী হয়ে একা কাটাতে হয়, তখন সে সেটা জীবনের অভিশাপ ভাবে।
নির্জনতার মধ্যে যে শান্তি পাওয়া যাবে তার জন্যও একটা অভ্যাসের দরকার। কেউই হঠাৎই তা পেতে পারেনা। একটা পরিশীলন লাগে। যে মানুষের মনের গভীরতা থাকে সে চায় তার নিজের মনে থাকতে, ভাবতে, সেই অনূকুল পরিবেশ পেতে। নিজের কোনও কাজ বা কোনও শিল্পসত্তার বিকাশের জন্যও তার একাকীত্ব বা নির্জনতার প্রয়োজন হয়।
অনেক সময়ই আজকাল দেখা যায়, কোনও জমায়েত, পার্টি, আড্ডায় , একজন বা কেউ কেউ হয়ত আড়াল খোঁজে , তখন তার ঘনিষ্ঠতম হিসেবে নিজের স্মার্টফোনে সে নিমগ্ন হয়। এও একরকম একাকীত্ব। অনেক মানুষের ভীড়ে সে নিজেকে খুঁজে পায়না । তখন তার একা হতে ইচ্ছে করে।
আজকাল আমাদের সকলেরই ব্যক্তিসত্তার বিকাশ বেড়েছে। এটা আধুনিক নাগরিক সভ্যতার ফল। বিদেশে থাকা বা আসা যাওয়ার সূত্রে , এটাই দেখেছি , ওদের সমাজে ব্যক্তিগত পরিসরের প্রাধান্য অনেক বেশী। ওরা ব্যক্তির স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আমাদের ভারতীয়দের মধ্যে ইদানীং কালে কিছুটা এই ধরণের সামাজিক কাঠামো তৈরী হয়েছে।
ভারতীয় সমাজ 'কমিউনিটি লিভিং ' এ বিশ্বাস করে। একা থাকা বা একা হতে ভয় পায়। যদিও এখন পরিবর্তন ঘটছে, যৌথ পরিবার প্রায় বিলীন। স্বামী স্ত্রী আর তাদের সন্তানদের ছোট ছোট পরিবার আবার পরবর্তীতে আরও একা হয়ে যাচ্ছে। আর্থিক ব্যবস্থাও বদলে যাচ্ছে। ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষার কারণে মধ্যবিত্ত ভারতীয় পরিবার থেকে তারা বিদেশ যাচ্ছে, বেশিরভাগ ওখানেই থেকে যাচ্ছে। তখন বয়স্ক বাবা মা দেশে একা বাস করছে, কেউ স্বেচ্ছায়, কেউ অনিচ্ছায়।
পাশ্চাত্য সমাজে কিন্ত ছেলেমেয়েদের আঠারো বছরের পরে আলাদা হওয়ার অধিকার দেওয়া হয়। এটাই এদের সামাজিক গঠন। বয়স্ক বাবা মা, একা একাই জীবন কাটাচ্ছে। অর্থনৈতিক কারণে এদের বিদেশ যেতে না হলেও, হয়তো এক শহরেই আলাদা থাকছে।
দলবদ্ধ সমাজ গড়ে উঠেছিল প্রাগৈতিহাসিক কালেই। যখন আদিম মানুষ শিকার করছে, তারপর আরও হাজার হাজার বছর পরে চাষবাস করছে তখনও একজোট হয়ে থাকাটা , প্রয়োজন ছিল।
যত বেশী মানুষ সভ্যতার পথে এগিয়ে এসেছে, নিজের বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়েছে তত তার একা থাকার দরকার হয়েছে।
জীবনে যদি ভালবাসা থাকে , ভালবাসার মানুষরা থাকে তাহলে আর একা থাকতে হয়না বা একাকীত্বর অনুভবও হয়না।
------------------------------------------
.. কাকলী


