বিমূঢ় বিস্ময়
শংকর ব্রহ্ম
ঠাকুর দেবতার প্রতি সুমিতের কোনও কালে তেমন কোনও আকর্ষণ বা সুমতি ছিল না। তবু সে প্রতি সোমবার শিব মন্দিরে যেত। তবে পুণ্য অর্জন করতে নয়, মেয়েটিকে দেখতে। প্রতি সোমবার মেয়েটি সেখানে পুজো দিতে আসত।
মেয়েটির রঙ একটু শ্যামলা হলেও, পানপাতা মুখ, চোখদুটি পটল-চেরা, নদীর ঢেউয়ের মতো এক ঢাল চুল তার ঘাড় বেয়ে গড়িয়ে এসেছে। পৃথিবীর সব লাবণ্য যেন দেবতা তার মুখেই ঢেলে দিয়েছেন। মন্দির থেকে বেরিয়ে এলে, তাকে দেখে মনেহয়, যেন পার্বতী মন্দির ছেড়ে বেরিয়ে এলেন।
একটিবার মেয়েটিকে দেখবার জন্য মন্দিরে গিয়ে, বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা, সুমিতের নেশার মতো হয়ে গেল। মেয়েটির পিছু পিছু গিয়ে একদিন সে তার বাড়িটাও চিনে এসেছে। ওর মা বেরিয়ে এসে মেয়েটিকে সুমিতা নামে ডেকেছিল। নামেরও কী মিল ! সুমিতের সঙ্গে সুমিতা। মেয়েটির মুখখানা মনে করে, একবার দু'হাতে তুলে ধরে, আলতো করে ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়াবার কথা ভাবতেই, যেন একটা শিহরণ খেলে যায় সুমিতের শরীরের কোষে কোষে।
সুমিতা একদিন মন্দির থেকে বেরিয়ে আসতেই, সুমিত মনের মধ্যে সাহস সঞ্চয় করে, হটকারী ভাবে তার সামনে গিয়ে হাত পেতে দাঁড়িয়ে বলেছিল, একটু প্রসাদ দেবে না আমাকে? সুমিতা প্রথমটায় একটু হত-চকিত হয়ে গেলেও, থালা থেকে তার হাতে একটি সন্দেশ তুলে দিয়েছিল।
তারপর থেকে সুমিতাকে আর মন্দিরে আসতে দেখা যায়নি। সুমিতার মা মন্দিরে পূজা দিতে আসতেন।
এরপর থেকে সুমিত মাঝে মাঝে সুমিতার খোঁজে মন্দিরে গিয়ে, তাকে না দেখতে পেয়ে, হতাশ হয়ে ফিরে আসত। তবুও নেশার মতো, প্রতি সোমবার মন্দিরে গিয়ে না দাঁড়িয়ে থেকে সে পারত না।
অনেকদিন এইভাবে কেটে যাবার পর, একদিন সুমিত দেখতে পায়, সুমিতা তার মায়ের সঙ্গে মন্দিরে এসেছে। কপালে তার সিঁদুরের টিপ। সিঁথিতে দগদগে সিঁদুরের ঘা। তারপর থেকে সুমিত আর কোনদিনও মন্দির-মুখো হয়নি।
হঠাৎ সুমিতার বিয়ের কারণ কি, তার সেদিনের হটকারীতা? সুমিত আজও তা জানে না। সে ঠিক করল, হঠাৎ আবার পথে কোনওদিন তার সাথে দেখা হলে, সে অবুঝের মতো তার কাছে সে কথা জানতে চাইবে।
সত্যি সত্যি কোনওদিন আবার সুমিতার সাথে দেখা হবে সুমিত ভাবতে পারেনি। বেশ কয়েকমাস পরের কথা। সুমিত পোষ্ট অপিস থেকে ফিরছিল। মন্দিরের পাশের রাস্তা দিয়েই পোষ্ট অপিসে যাতায়াত করতে হয়। হঠাৎ সুমিতার সাথে দেখা হয়ে গেল। সে একা মন্দির থেকে ফিরছে পুজোর থালা হাতে করে। পরনে কালো পাড় সাদা থান। সিঁথি সাদা। সুমিত বিমূঢ় বিস্ময়ে তার দিকে একবার তাকিয়ে, চোখ নামিয়ে নিল। সে আর মুখ তুলে তার দিকে তাকাতে পারল না। সুমিতের বুকের ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে যাচ্ছিল। কাউকে কিছু বলতে পারল না সে আর।
----------------------------------------------------------------------------
নাম - ঠিকানা - ফোন নম্বর
----------------------------------------------------------------------------
SANKAR BRAHMA.
8/1, ASHUTOSH PALLY,
P.O. - GARIA,
Kolkata - 700 084.
PHONE NUMBER - 98306 36623 (Whatsapp).
----------------------------------------------------------------------------

