ছবিঋণ-ইন্টারনেট
স্মৃতিকথায় শংকর
সুশান্ত সেন
আমার বাবার বই এর দোকান ছিল । বাবা অসুস্থ থাকায় কর্মচারীরা দোকান টা চালাতেন।
আমাদের সময় প্রথম যে প্রবেশিকা পরীক্ষা দেওয়া হতো তার নাম ছিল " স্কুল ফাইনাল " । স্কুল ফাইনাল পরীক্ষা পাস করার পর আমাদের পড়তে হয়েছিল এক বছরের " প্রী ইউনিভার্সিটি " পাঠ্যক্রম । সেই সময় দশম বছরের প্রবেশিকা পরীক্ষার পর দু বছরের " হাইযার সেকেন্ডারি " স্নাতক পরীক্ষা শুরু হয়েছিল।
কলেজে ঢোকার পর আমি বই এর দোকানে যাওয়া শুরু করলাম। সাধারণত কলেজ ছুটির পর বিকেল বেলায়।
দোকানে খরিদ্দার'রা এসে শংকর আর লেখা " চৌরঙ্গী " র খোঁজ করত। তখন ই প্রথম শংকর এর সাথে আমার পরিচয়। বই টির দাম ছিল দশ টাকা । তিন চার টি কপি আমাদের সেই দোকানে সব সময় থাকত। কাটতি ছিল বেশ।
বিশেষত বিবাহ উপলক্ষ্যে বই উপহার দেওয়ার বেশ চল ছিল।
দোকানে বসে বসেই না বাড়িতে নিয়ে এসে ঠিক মনে নেই এক নিঃশ্বাসে বইটা পড়লাম। নিজেকে মনে মনে শংকর বানিয়ে ফেললাম । কল্পনা করতাম আমিই শংকর আমিই যেন এই বইটি
লিখেছি। এ এক বিচিত্র অনুভূতি।
এর আগে দেশ পত্রিকায় " কত অজানারে " কয়েকটি খাপছাড়া সংখ্যায় পড়েছি । দেশ পত্রিকা আমার কাছে সহজ লভ্য ছিল না।
দোকানে আমি বই বিক্রেতা হয়ে নিয়মিত বিকেলে বসতে শুরু করি সত্তর এর দশকে প্রায় সাত আট বছর। তখন আর তার পরে পরে যখনই শংকর এর নতুন বই প্রকাশিত হত সব পড়তাম। বলতে পারেন শংকরের আমি একনিষ্ঠ পাঠক।
বিক্রেতা হিসেবে আমি দেখেছিলাম শংকর এক জনপ্রিয় লেখক এবং তাঁর লেখা বই এর কাটতি ছিল বেশ।
শংকর কে আমি চাক্ষুষ দেখেছিলাম তিন বার।
আশির দশকে কোন একদিন ওনাকে বেল ভিউ ক্লিনিকে উদ্বিগ্ন মুখে বসে থাকতে দেখেছিলাম। জানতে পেরেছিলাম ওনার মা হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসাধীন।
এর পর বই মেলায় দু বার ওনার সঙ্গে দেখা হয় , একটা দুটি কথা। জানিয়েছিলাম আমি ওনার এক ভক্ত পাঠক। দু বার এ শংকর বই এর প্রথম পৃষ্ঠায় সই করে দিয়েছিলেন - " শংকর " লিখে।
সেই বই দুটি আমার কাছে আছে।
আগের বছরের বই মেলায় উনি " সকাল বিকেল সন্ধ্যে " সংকলন টি সই করে দিয়েছিলেন - এই মাত্র সেই বইটি নাড়াচাড়া করছিলাম।
======================
সুশান্ত সেন

