ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস ।। মৎস্যকন্যা ও জোনাক মেয়ে (পর্ব -৫,৬)।। সপ্তদ্বীপা অধিকারী

 

 
 

 মৎস্যকন্যা ও জোনাক মেয়ে

 সপ্তদ্বীপা অধিকারী      

 

পঞ্চম পরিচ্ছেদ 


"যতটুকু বিপদ বলে 
জো ভেবেছে মনে
দিদার মুখের ছবি দেখে
ভাবল পরক্ষণে
বিপদ থেকে মুক্তি ফাঁকি
কনে বন্দি বনে
শক্তিহীন এক ছোট্ট জীবন
জিতবে কি সে রণে?"

জো সারাদিন ছটফট করে কাটিয়েছে। দিদাটাও খুব দুশ্চিন্তা করছিলেন দেখে সে বুঝতে পেরেছিল যে, বিপদ যতটা সে ভাবছে তার থেকেও অনেক বেশি। কে জানে মৎস্যরাজকন্যাকে বাঁচানো সম্ভব হবে কিনা! বিকেলের দিকে দিদা কোথায় যেন গেলেন। জো মাকে বলল--"মা, দিদা কোথায় গেলেন?"
মা জোনাক বললে--"আমাদের কিছুই বলে যাননি তো। কেমন করে জানবো বলতো!"

জো বলে--"তাহলে মা আমি এক কাজ করব? উড়ে উড়ে দেখে আসবো দিদা কোথায় গেছে?"
জোনাক বাবা এক ধমক দিলে--"না, একদম নয়। তিনি নিজে থেকে যখন যেতে বলেননি কেন যাবি? তিনি তো মৎস্যকন্যার জীবন বাঁচানোর চেষ্টাই করছেন!"
জোনাক মাও সেই কথাই সমর্থন করল।
 এদিকে সন্ধে হয়ে গেছে দিদা আসছেন না! 

জো বললে--"দিদা কখন আসবে মা? কখন যাব সাগরে? আমার যে আর তর সইছে না!"
সে বলে:
"কখন যে মা পারব যেতে
গভীর সাগর তলে
মৎস্যরাজার পাতাল প্রাসাদ
সেথায় গভীর জলে।
খবর পেয়ে মৎস্যরাজা
জড়িয়ে নেবেন গলে!
আমরা তখন যুদ্ধে যাব
ভারী হয়ে দলে।
রাজার মেয়ে বাবার কাছে
ফিরবে সে এক পলে!
রাক্ষসী ওই মানুষগুলো
পড়বে তখন কলে!
কখন যে মা পারব যেতে
গভীর সাগর জলে!"
বলতে বলতেই দিদা এলেন। হাতে তাঁর একটা নীল অপরাজিতা ফুল। তিনি জোকে বললেন:
"চল নারে মা, দেখাই তোকে
পাতাল যাবার পথ।
ভরসা রাখিস যদি মনে
পুরবে মনোরথ!
অন্যেরে যে নিজের ভাবে
মনে এমন সৎ
তারেই দেখাই এমন গোপন
গভীর যাবার পথ!"

জো মহানন্দে ডানা মেলে চলল। জোনাক মা আর জোনাক বাবাও চলল সাথে সাথে! জোনাক মায়ের চোখ ভরা জল। জোনাক বাবা অতোটাও আবেগপ্রবণ নয়। তবু তারও মেয়ের জন্য ছলোছলো চোখ। তারা অন্ধকারে সমুদ্রের একদম পশ্চিমপাড়ে এল। তারপর দিদা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে কিছু একটা খুঁজতে থাকেন। জো বলে--"দিদা, আমি কি জলে ঝাঁপিয়ে পড়বো?"
দিদা বলেন--"একদম চুপ করে থাকো সোনা মেয়ে। আমাকে দেখতে দাও আগে।"
বলে দিদা অনেকক্ষণ জলের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলেন যেন কিছু। জোও তাকাল। জলে তো কিছুই নেই। খালি কতোগুলো পদ্মফুলের গাছ রয়েছে। জলতলের উপরে পদ্মফুলের গাছগুলো নিজেদেরকে কেমন করে মেলে দিয়েছে! কী অপূর্ব লাগছে দেখতে। দিদা ওইদিকেই চেয়ে রয়েছেন।

 জো আবার কিছু বলতে যাবে তার আগেই দিদা একটা পদ্মগাছের পাতার দিকে অঙুলি নির্দেশ করে বললেন--
"সবুজ পাতা, বন্ধু আমার
দোদুল দোলে মন
মৎস্যদেশে যাইবে মেয়ে
দ্বার খোলো এখন!"
পদ্মপাতা ওমনি বলে--"কে যাবে গো ভালোদিদা? কার হয়েছে সখ?"
দিদা বলেন--"শখের কথা আর বলো না। তার তো সীমা নাই! মৎস্যকনের বড্ড বিপদ। খবর যাবে তাই!"
সাথে সাথে সেই পদ্মপাতাটা বনবন করে ঘুরতে লাগল। সেদিকে চেয়ে রইল জো তার জোনাক মা এবং জোনাক বাবা!

জলের উপর তৈরি হলো কম্পন। সেই কম্পন ছড়িয়ে পড়তে লাগল দূর থেকে আরও দূরে! তারপর ধবধবে সাদা মেঘের মতো তুলোর সৃষ্টি হলো। আর সেই তুলোর রাজ্যে হঠাৎ একটা ছোট্ট পাখি এলো উড়ে। সে একটা তিতির পাখি। সে বললে:
"যে যাবে সে উঠুক পিঠে
পৌঁছে দেবো ঠিক।
ভয় পেলে দোষ আমার নয়কো
ভয়ের মন্ত্র নিক!"
জো বলল--"না,না, আমি ভয় পাবো না! একটুও ভয় পাবো না!"

তখন দিদা সেই নীল রঙের অপরাজিতা ফুলটি জোএর মাথায় বেঁধে দিলেন। বললেন--"ভয় পেলেই তিতির পাখিকে বলবে! ও এই ফুলের গন্ধ শুঁকিয়ে দেবে। এই ফুলের গন্ধে ভয় দূর হয়ে যায়!"
তিতিরটি খুব খুশি হয়ে গেল। সে হেসে উঠল। আর বলল--"নীল অপরাজিতা পেয়েছো যখন, ভয়ের কারণ নাই!"
জো বলল--"এবার তবে যাই?"
তিতির পাখি বলল--"দাঁড়াও, এখনো তো গাড়িই আসেনি। কেমন করে যাই?"
জো অবাক হয়ে বলল--"গাড়ি? কিসের গাড়ি?"

তখন তিতির পাখিটা নিজের চারিদিকে সেই তুলোর মতো মেঘ মাখছে! 
"তিতির পাখি সারা গায়ে
মাখছে তুলোর মেঘ
বনবনাবন ঘুরছে সে মেঘ
বাপরে সেকি বেগ!"
আর কী আশ্চর্য ঘটনাই না তখন ঘটল! সেই মেঘের রাশি কুণ্ডলি পাকাতে লাগল। তখন আর তাকে মেঘ বলে চেনাই যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে যেন মা যশোদা কৃষ্ণের জন্য মাখন তৈরি করেছেন। মাখনে পাক দিতে দিতে তা এমন রসালো আর সাদা ধবধবে নরম মুখরোচক খাদ্যে পরিণত হয়েছে। সেই মাখনের মতো দেখতে পদার্থের ভিতরেও তিতির ঘুরেই চলেছে বনবনবনবন। হঠাৎ সেই পদার্থের রঙ আরও পরিবর্তিত হতে থাকল। জো পলকহীন চেয়ে রইল। কিছুক্ষনেই সে দেখল যে সেই পদার্থের উপর জলের রঙের একটা ছোট্ট ট্রেন তৈরি হয়ে গেল! একদম ছোট্ট! এই হাত দুয়েক লম্বা মতো হবে। যার ভিতরে জোএর বসার এবং ঘুমানোর জায়গা রয়েছে।
 তিতিরের বসার জায়গাও রয়েছে!

"জলের রঙের গাড়ির ভিতর
আরামদায়ক বাসা
আসল কথা তাহার ভিতর
বুকের সকল আশা!
জো দ্যাখে তার ভিতর পানে
বসার জায়গা খাসা
আসল কথা তাহার ভিতর
বুকের সকল আশা!"
 এই বিশাল সমুদ্রে এই ছোট্ট একখানা গাড়ি নিয়ে পাড়ি দেবে জো। ভাবতেই জোনাক মায়ের বুক ফেটে যেতে লাগল। জোনাক বাবার চোখেও জল দেখা গেল!

দিদা তখন বললেন:
"পৌঁছে দিও তিতির পাখি
মৎস্যরাজার কাছে!
না খেয়ে নেয় প্রাণটি তাহার
দেখো বোয়াল মাছে!
বললে কেঁদে জোনাক মায়ে
বিপদ আরও আছে!
পৌঁছে দিও তিতির পাখি
মৎস্যরাজার কাছে।"

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ 


"রাজার আদেশ, মৎস্যযুবক
এদিক ওদিক ঘোরে
কোত্থাও নেই রাজার মেয়ে
নিয়েছে কি  চোরে?
" হিরামণি" ডাকে সবাই
গলা ছেড়ে জোরে!
বিশ্রামহীন। রাতের বেলা
কিংবা অবাক ভোরে!"

 মৎস্যরাজ পান্নালাল তাঁর সমস্ত  মৎস্যদলকে দিকে দিকে তাঁর একমাত্র মেয়ের খোঁজ করতে পাঠিয়েছেন। দলবদ্ধভাবে মৎস্যযুবকেরা   সমস্ত সমুদ্র চষে ফেলেছে। তাদের ক্ষিপ্র গতিতে সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাস উঠেছে। সমুদ্রের বিভিন্ন প্রাণীরা তটস্থ হয়ে উঠেছে। কিন্তু কেউই মৎস্যরাজকন্যার হদিস পায়নি। 

ইলিশ মাছেরাও খবর শুনেছে। তারা নিজেরাই এসেছে রাজপ্রাসাদে মৎসরাজকন্যা হিরামণির সংবাদ নিতে। ভেটকি মাছও এসেছে। রূপচাঁদা মাছ গাল ফুলিয়ে ইলিশ মাছকে বলল:
"সমুদ্দুরে তার তো কোনো
শত্রু এমন নাই!
পেলেই তাকে কপাৎ করে
গিলে নেবে ভাই!
আমরা বরং আর একটি বার
খবর নিগে যাই
রাক্ষুসি ওই হাঙরটাকে
মোটে বিশ্বাস নাই!"

কথা শুনে তুলতুলে নরম লইট্যা মাছও দলবদ্ধভাবে এগিয়ে এলো। এলো বিভিন্ন প্রজাতির চিংড়ি মাছও।জেলিফিশ, কাঁকড়া, টুনা কেউই বাদ থাকল না। যেভাবেই হোক আমাদের মৎস্যরাজকন্যা হিরামণিকে উদ্ধার করতেই হবে।
জলের উপর ডুব দিতে দিতে আর ভাসতে ভাসতে এই এত্তো বড়ো বড়ো ডলফিসও চলে এসেছে রাজদরবারে।

 রাজা পান্নালাল দরজা খুলে দিয়েছেন। তিনি মৎস্যদেশের রাজা হলেও তিনি সকলের প্রতি কর্তব্যে দায়বদ্ধ থাকেন। দরজা খুলে সকলের সাথে আলাপ-আলোচনা করলেন। মতামত নিলেন সবার। সকলেই কথা দিলে, যে কোনো মূল্যেই মৎস্যরাজকন্যাকে খুঁজে বার করবেই। সমস্ত সমুদ্রে আবার ঝাঁপিয়ে পড়ল মাছেরা দলে দলে। সমুদ্র তোলপাড় করতে লাগল। কিন্তু নাহ! মৎস্যরাজকন্যা হিরামণি যেন উবে গেছে। সমুদ্র রাজ্যে কারও মনে শান্তি নেই, সুখ নেই, খিদে নেই, ঘুম নেই! সকলেই তাদের মৎস্যরাজকন্যাকে প্রাণাধিক ভালোবাসে।

"সমুদ্দুরে অশান্তি আজ
ঘুম নাই কো চোখে
এমন কাণ্ড এর আগে আর
হয়নি জললোকে!
হাঙর এলো, চিংড়ি আছে
এসেছে আজ জোঁকে।
অক্টোপাস তার সরু ভুজে
কাঁকড়া বাসায় ঢোকে!
সবার চোখে অশ্রু ঝরে
অশ্রু ঝরে শোকে!"
একদিন ভোরে, তখনো সূর্য তার আলোর রোশনাই জ্বালেনি। সমুদ্রের গভীরেই তখন তাই অন্ধকার!

 রাত্রে মৎস্যরাজ পান্নালাল কিছু শব্দ টের পেয়েছেন। কিন্তু তিনি রাজপ্রাসাদের দরজা খোলেননি। তাঁর মেয়ের জন্য এমনিতেই তাঁর মন খারাপ। এখন মৎস্যরাজকন্যা ছাড়া মৎস্যযুবরাজদের প্রতিও অন্যান্য মাংসাশীদের লোভ থাকতেই পারে! তাদের সকলকে রক্ষা করা রাজা হিসেবে তাঁর কর্তব্য। তাই তিনি দরজা খোলেননি।

 কিন্তু এখন সূর্যের অল্প আভায় তিনি টের পেলেন তাঁর প্রাসাদের বাইরে বিশাল দেহধারী কেউ একজন অপেক্ষা করছে! তিনি চুপচাপ ভিতরে গিয়ে মৎস্যযুবকদের ডেকে তুললেন। বললেন:
"সামনে দেখো শত্রু আছে
নজর রাখার দায়!
এমন করেই কন্যে আমার
হারিয়েছে হায়!
বন্দি করো যেমন পারো
এটাই আমার রায়!
নজর রাখে রাজার প্রাসাদ?
পান্নারাজ গর্জায়!"

সঙ্গে সঙ্গে শত শত মৎস্যযুবক  বেরিয়ে পড়েছে! সাহস তো নয় কম?  দরজা খুলেই তারা অবাক বিস্ময়ে দেখে তাদের প্রাসাদের সামনে এই এত্তো বড়ো একটা হাঙর চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। মৎস্যমহারাজ পান্নালাল বল্লেন--"কী ব্যাপার? আপনার এতো সাহস হয় কী করে? আপনাকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আপনি আমার একমাত্র মৎস্যরাজকন্যাকে খেয়ে ফেলবেন? আবার এসেছেন অন্যদেরও খাবেন বলে?"

হাঙর দু:খিত হয়ে বলল--"আমি খবর পেলাম যে, আপনি এবং আপনার মৎস্যযুবকেরা আমাকে মৎস্যরাজকন্যার খাদক বলে ভেবেছেন! মহারাজ আমি কখনো রাজকন্যাকে খাইনি। আমি যে তাকে খাইনি সেই খবরটা দেওয়া জরুরি মনে করেই এখানে এসেছি।"
মৎস্যযুবকেরা চিৎকার করে উঠল--"মহারাজ, একবার শুধু আদেশ করুন। যত শক্তিশালীই হোক না কেন, শেষ করে দেবো এই রাক্ষসী হাঙরকে।"
 হাঙর বলল--"আমি জানি, আমি একা এসেছি। তোমরা সব্বাই মিলে আমাকে মেরে ফেলতেই পারো। কিন্তু ভেবে দেখো, আমি কেন নিজে নিজেই মরতে এলাম। আমার পরিবারের আরও কয়েকজনকে নিয়ে আসতে পারতাম তো। তাই না? এই বিপদের মধ্যে একা একা কেন ঝাঁপালাম?"
কথাটা যুক্তিপূর্ণ।  ভাবলেন মৎস্যরাজা পান্নালাল। 
তিনি বললেন--"বেশ, বলুন কেন এসেছেন?"
হাঙর বলল--"আমি খোঁজ নিয়েছি আমার আত্মীয়-বন্ধুরা কেউই মৎস্যরাজকন্যাকে খায়নি। তাহলে ব্যাপারটা কী দাঁড়াল? আমাদের কোনো শত্রু আছে। এবং সেই শত্রু জলে বসবাস করা কেউ নয়। আমাদের এখন এক হয়ে লড়তে হবে। মনে রাখতে হবে, নিজেদের মধ্যে শত্রুতা করলে শত্রুরা জিতে যাবে! আর তাছাড়া...!".
বলে হাঙরটি মুখ নীচু করল। দু:খে যন্ত্রণায় তার মুখটা ম্রিয়মান হয়ে উঠল। সে ধরা গলায় বলল--"মৎস্যরাজকন্যা হিরামণিকে সব্বাই ভালোবাসে! কে জানে মেয়েটা আমার কোথায় আছে, কেমন আছে?"

মৎস্যরাজ বুঝতে পারলেন যে সত্যিই তার মেয়েটি বিপদে পড়েছে। আর মানুষ জাতটার মতো মাছেদের রাজ্যে মিথ্যা কথার প্রচলন হয়নি এখনো। তিনি জানেন হাঙর মাংসাশী। কিন্তু তিনি এটাও জানেন যে, হাঙর মিথ্যে বলে না।
মৎস্যরাজ ঘোষণা করলেন--"পৃথিবীর তিন ভাগ জল। সেই জলের জীবের সাথে শত্রুতা করছে স্থলের স্বার্থপর জীবেরা। ওদের আর কিছুতেই ছাড় দেওয়া যাবে না!"
সব্বাই যে যার মতো চিৎকার করে উঠল। সমুদ্র আলোড়িত হয়ে উঠল। সমুদ্র উপকূলবর্তী কোনো কোনো এলাকা প্লাবিত হলো। বন্যায় সেই সব দেশের ফসল নষ্ট হলো। কিছু গরিব মানুষের কুঁড়ে ঘর ভেসে গেল। অনেক গাছে বসবাসকারী পাখিদের বাসা ভেঙে গেল। গৃহহীন মানুষ আর গৃহহীন পশুদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠল।

"তিন ভাগে জল এই পৃথিবীর 
করলে তারা চেষ্টা
ভাসাতে তার একটি পলক
লাগে পুরো দেশটা!
সাজিয়েছে জলই তাদের
মধুর পরিবেশটা!
তাদের ছাড়া একটি বারও
মেটে না কো তেষ্টা!
জলের প্রাণী রক্ষা করে
রক্ষা করে শেষটা!
রাগ দেখালে সামান্যটুক
থাকবে রে এর রেশটা!" 
====================
চলবে ----  

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Below Post Ad