নিবন্ধ ।। যোগ্যতমের টিকে থাকা—একটি স্ববিরোধিতা ।। রণেশ রায়

Uploaded Image

 

যোগ্যতমের টিকে থাকা—একটি স্ববিরোধিতা

(প্রকৃতি, পুঁজিবাদী বাজার ও ভারতের আর্থসামাজিক বাস্তবতা)

 

রণেশ রায় 



১. ভূমিকা: প্রকৃতির নিয়ম, না সমাজের নির্মম দর্শন?


‘যোগ্যতমের টিকে থাকা’—কথাটি শুনতে যতই যুক্তিযুক্ত স্বাভাবিক মনে হোক না কেন, তার অন্তর্নিহিত অর্থ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায় সঠিক পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টা না বুঝলে । জীবনের প্রতিযোগিতায় যে বেশি সক্ষম, যে পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে, সেই টিকে থাকবে—এমন একটি ধারণা এর মধ্যে নিহিত। প্রকৃতির বিবর্তন সম্পর্কে এই ধারণার একটি বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে। কিন্তু যখন এই ধারণাকে মানুষের সমাজ, অর্থনীতি এবং বাজারব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করা হয়, তখনই এক জটিলতার উদ্ভব ঘটে, এক মধ্যে দেখা যায় এক স্ববিরোধিতা।


আধুনিক পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে প্রায়ই এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা হয় যে, বাজারে যে টিকে থাকতে পারবে, সেই যোগ্য; যে পারবে না, তার অক্ষমতাই তার ব্যর্থতার কারণ। অর্থাৎ বাজারের প্রতিযোগিতায় সাফল্যকে ব্যক্তিগত যোগ্যতার প্রমাণ এবং ব্যর্থতাকে ব্যক্তিগত অযোগ্যতার ফল বলে ধরে নেওয়া হয়।


কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রতিযোগিতার ময়দানে প্রবেশ করার সুযোগ যদি সবার সমান না হয়, তবে সেই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও পরাজিতের বিচার কতটা ন্যায়সংগত? কারও হাতে যদি থাকে পুঁজি, উন্নত শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগের সুবিধা, আর অন্য কেউ যদি জন্ম থেকেই দারিদ্র্য, অপুষ্টি, অশিক্ষা ও অনিশ্চয়তার শিকার হয়, তবে তাদের প্রতিযোগিতাকে কি সমান সুযোগের প্রতিযোগিতা বলা যায়?


এইখানেই ‘যোগ্যতমের টিকে থাকা’ ধারণাটি সামাজিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে এক গভীর স্ববিরোধিতার জন্ম দেয়। যে সমাজ মানুষের যোগ্যতা বিকাশের সমান সুযোগ দেয় না, সেই সমাজে বাজারের সাফল্যকে যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি বলে প্রতিষ্ঠা করা অন্যায়।



২. ডারউইন কী বলেছিলেন?


চার্লস ডারউইন তাঁর বিবর্তনবাদে জীবজগতের পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচনের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। জীবের মধ্যে বংশগত বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য থাকে। পরিবেশের সঙ্গে যেসব বৈশিষ্ট্য প্রজনন ও বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে তুলনামূলক সুবিধা দেয়, সেগুলি পরবর্তী প্রজন্মে বেশি ছড়িয়ে পড়তে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রক্রিয়া জীবজগতের বিবর্তনে ভূমিকা রাখে।

‘যোগ্যতমের টিকে থাকা’ বা Survival of the Fittest কথাটি ডারউইনের প্রথম সংস্করণের On the Origin of Species (১৮৫৯)-এ ব্যবহৃত হয়নি। দার্শনিক হার্বার্ট স্পেন্সার ১৮৬৪ সালে কথাটি ব্যবহার করেন। পরে ডারউইন তাঁর The Origin of Species-এর পঞ্চম সংস্করণে (১৮৬৯) প্রাকৃতিক নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যাখ্যায় শব্দবন্ধটি গ্রহণ করেন।


এখানে ‘যোগ্যতম’ বলতে সর্বশক্তিমান, সবচেয়ে ধনী কিংবা নৈতিক বিচারে শ্রেষ্ঠকে বোঝায় না। বরং নির্দিষ্ট পরিবেশে বেঁচে থাকা ও প্রজননের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে উপযোগী বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়। প্রকৃতির বিবর্তন কোনো নৈতিক বিধান নয়; এটি জীবজগতের পরিবর্তন ব্যাখ্যা করার একটি বৈজ্ঞানিক ধারণা।



কিন্তু এই বৈজ্ঞানিক ধারণাকে যখন মানুষের অর্থনৈতিক জীবনে একটি নৈতিক বিধান হিসেবে প্রয়োগ করা হয়, তখন সমস্যা দেখা দেয়। প্রকৃতিতে যার টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি, সে টিকে থাকতে পারে—এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক বক্তব্য। কিন্তু মানুষের সমাজে যে দরিদ্র, সে দরিদ্র থাকারই যোগ্য; যে বাজারে পরাজিত, সে পরাজিত হওয়ারই যোগ্য—এমন সিদ্ধান্ত ডারউইনের বিবর্তনবাদ থেকে টেনে আনা যায় না।


প্রকৃতির নিয়ম থেকে সমাজের ন্যায়-অন্যায়ের নিয়ম নির্ধারণ করা এক ধরনের যুক্তিগত ভ্রান্তি। প্রকৃতিতে যা ঘটে, সমাজে তা-ই হওয়া উচিত—এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে আলাদা নৈতিক ও সামাজিক যুক্তি প্রয়োজন।

মানুষের সভ্যতার বিশেষত্ব এখানেই যে, মানুষ কেবল প্রকৃতির প্রতিকূলতার কাছে আত্মসমর্পণ করে না; সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই প্রতিকূলতা অতিক্রম করার পথও তৈরি করে।


৩. পুঁজিবাদী ব্যবস্থা ও বাজারে প্রবেশাধিকার: সক্ষমতার মাপকাঠি


পুঁজিবাদী অর্থনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বাজারের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন, বিনিময়, বিনিয়োগ এবং সম্পদ আহরণের প্রক্রিয়া পরিচালিত হওয়া। বাজারে প্রতিযোগিতা থাকে, উদ্যোগের সুযোগ থাকে, নতুন প্রযুক্তি ও উৎপাদনপদ্ধতি বিকাশের সম্ভাবনা থাকে। এই প্রতিযোগিতা অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, নতুন পণ্য ও পরিষেবা সৃষ্টি করে এবং অর্থনৈতিক বিকাশে ভূমিকা রাখে।



কিন্তু বাজারের প্রতিযোগিতা তখনই ন্যায়সংগত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছতে পারে, যখন প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণের বাস্তব সুযোগ থাকে। বাজারের দরজা কাগজে-কলমে সবার জন্য খোলা থাকলেই যে সবাই সমানভাবে প্রবেশ করতে পারবে, তা নয়।


স্বাস্থ্য: অপুষ্টি, অসুস্থতা এবং চিকিৎসার অভাব শ্রমের সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

পুঁজি ও ঋণ: সঞ্চয়, সম্পত্তি এবং সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার সুযোগ উদ্যোগের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রযুক্তি ও তথ্য: ডিজিটাল পরিষেবা, ইন্টারনেট এবং বাজারের তথ্যের অভাব ছোট উৎপাদককে পিছিয়ে দেয়।


সামাজিক নিরাপত্তা: অসুস্থতা, বেকারত্ব কিংবা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় ন্যূনতম সুরক্ষা না থাকলে মানুষ দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের বদলে তাৎক্ষণিক বেঁচে থাকার লড়াইয়ে আটকে যায়।


অর্থাৎ বাজারে সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত দক্ষতার ওপর নির্ভর করে না। নির্ভর করে সেই দক্ষতা বিকাশ ও প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরিবেশের ওপরও।


তাই বাজারে যে বেশি সফল, সে সব ক্ষেত্রেই বেশি যোগ্য—এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। অনেক সময় বাজারের সাফল্য ব্যক্তিগত প্রতিভার সঙ্গে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ, সামাজিক সুবিধা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার সম্মিলিত ফল।

বাজারের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার পরীক্ষা হতে পারে; কিন্তু সেই পরীক্ষার ফলকে মানুষের সামগ্রিক যোগ্যতার চূড়ান্ত বিচার বলে ধরে নেওয়া যায় না।


স্বাধীনতার সময় ভারত ছিল দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, অপুষ্টি এবং ঔপনিবেশিক শোষণের দীর্ঘ ইতিহাসে বিপর্যস্ত একটি দেশ। অর্থনৈতিক ও সামাজিক পশ্চাৎপদতা দূর করা, উৎপাদন বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি ঘটানো ছিল স্বাধীন রাষ্ট্রের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।


এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব গ্রহণ করে। পরিকল্পিত অর্থনীতি, সরকারি বিনিয়োগ, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প, কৃষির উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্প্রসারণ—বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার চেষ্টা হয়।


শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তি ও পেশাগত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রসার ঘটে। প্রাথমিক শিক্ষার সর্বজনীনতা বাড়ানোর জন্য পরবর্তী সময়ে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়। ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইন ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুদের বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


একজন ধনী উদ্যোক্তার কাছে থাকে নিজস্ব পুঁজি, ঋণ পাওয়ার সুবিধা, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং ব্যবসায়িক ঝুঁকি বহন করার ক্ষমতা। ব্যবসায় লোকসান হলে তিনি অন্য সম্পদ থেকে ক্ষতি সামাল দিতে পারেন। প্রয়োজন হলে নতুন করে বিনিয়োগ করতে পারেন।


অন্যদিকে, একজন দরিদ্র মানুষের কাছে হয়তো রয়েছে শ্রম ও উদ্যোগ, কিন্তু নেই প্রাথমিক পুঁজি। ব্যর্থ হলে তাঁর হারানোর মতো সম্পদ সীমিত হলেও তার সামাজিক মূল্য অনেক বেশি। ব্যবসায় ক্ষতি হলে পরিবারের খাদ্য, চিকিৎসা কিংবা সন্তানের শিক্ষার ব্যয় বিপন্ন হতে পারে। ফলে তিনি এমন ঝুঁকি নিতে পারেন না, যা একজন ধনী ব্যক্তির কাছে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত।


শিক্ষা ও দক্ষতা: উন্নত শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ ছাড়া আধুনিক অর্থনীতির বহু ক্ষেত্রে প্রবেশ করা কঠিন।

স্বাস্থ্য: অপুষ্টি, অসুস্থতা এবং চিকিৎসার অভাব শ্রমের সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

পুঁজি ও ঋণ: সঞ্চয়, সম্পত্তি এবং সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার সুযোগ উদ্যোগের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রযুক্তি ও তথ্য: ডিজিটাল পরিষেবা, ইন্টারনেট এবং বাজারের তথ্যের অভাব ছোট উৎপাদককে পিছিয়ে দেয়।

সামাজিক নিরাপত্তা: অসুস্থতা, বেকারত্ব কিংবা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় ন্যূনতম সুরক্ষা না থাকলে মানুষ দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের বদলে তাৎক্ষণিক বেঁচে থাকার লড়াইয়ে আটকে যায়।

অর্থাৎ বাজারে সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত দক্ষতার ওপর নির্ভর করে না। নির্ভর করে সেই দক্ষতা বিকাশ ও প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরিবেশের ওপরও।


বাজারের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার পরীক্ষা হতে পারে; কিন্তু সেই পরীক্ষার ফলকে মানুষের সামগ্রিক যোগ্যতার চূড়ান্ত বিচার বলে ধরে নেওয়া যায় না।


তাই বাজারে যে বেশি সফল, সে সব ক্ষেত্রেই বেশি যোগ্য—এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। অনেক সময় বাজারের সাফল্য ব্যক্তিগত প্রতিভার সঙ্গে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ, সামাজিক সুবিধা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার সম্মিলিত ফল।

বাজারের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার পরীক্ষা হতে পারে; কিন্তু সেই পরীক্ষার ফলকে মানুষের সামগ্রিক যোগ্যতার চূড়ান্ত বিচার বলে ধরে নেওয়া যায় না।


৪. ভারতের বাস্তবতা: শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ

স্বাধীনতার সময় ভারত ছিল দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, অপুষ্টি এবং ঔপনিবেশিক শোষণের দীর্ঘ ইতিহাসে বিপর্যস্ত একটি দেশ। অর্থনৈতিক ও সামাজিক পশ্চাৎপদতা দূর করা, উৎপাদন বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি ঘটানো ছিল স্বাধীন রাষ্ট্রের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব গ্রহণ করে। পরিকল্পিত অর্থনীতি, সরকারি বিনিয়োগ, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প, কৃষির উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্প্রসারণ—বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার চেষ্টা হয়।


শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তি ও পেশাগত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রসার ঘটে। প্রাথমিক শিক্ষার সর্বজনীনতা বাড়ানোর জন্য পরবর্তী সময়ে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়। ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইন ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুদের বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও সরকারি হাসপাতাল, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, টিকাকরণ এবং জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি বিস্তৃত হয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা, বিদ্যালয়ে মধ্যাহ্নভোজ, গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং দরিদ্র পরিবারের সামাজিক সুরক্ষার জন্যও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০০৫ সালে জাতীয় গ্রামীণ স্বাস্থ্য মিশন এবং ২০০৫ সালের মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইনের মতো উদ্যোগ রাষ্ট্রের সামাজিক দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে।

এসব উদ্যোগের ফলে বহু মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষার সুযোগ বেড়েছে, শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যু কমেছে, গড় আয়ু বেড়েছে এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের কিছু সুরক্ষা তৈরি হয়েছে।


তবে এই অগ্রগতি অসম্পূর্ণ। দেশের বিভিন্ন রাজ্য, গ্রাম ও শহরের মধ্যে শিক্ষার মান, চিকিৎসার সুযোগ, পুষ্টি, কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার অধিকার থাকলেও মানসম্মত শিক্ষা সব শিশুর কাছে সমানভাবে পৌঁছয় না। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও চিকিৎসক, পরিকাঠামো ও পরিষেবার প্রাপ্যতা সর্বত্র সমান নয়। বহু পরিবারকে এখনও চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে ঋণ নিতে হয় কিংবা সঞ্চয় শেষ করতে হয়।

অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ কিছু ক্ষেত্রে বাজারের বাইরে মানুষের ন্যূনতম অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সেই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করেছে বরাদ্দ অর্থ, প্রশাসনিক দক্ষতা, পরিষেবার মান এবং বাস্তব প্রয়োগের ওপর।

এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য কি কেবল বাজারে প্রতিযোগিতা করার উপকরণ, নাকি এগুলি মানুষের মৌলিক অধিকার?


যদি শিক্ষা কেবল ধনীদের কেনার মতো পণ্য হয়ে ওঠে, তবে দরিদ্র পরিবারের প্রতিভাবান সন্তানও তার সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারবে না। যদি চিকিৎসা প্রধানত ক্রয়ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে, তবে অসুস্থ দরিদ্র মানুষ সুস্থ হয়ে আবার কর্মজীবনে ফিরতে বাধার মুখে পড়বে।

তাহলে যে মানুষ প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পায়নি, বাজারে তার পিছিয়ে পড়ার দায় কি সম্পূর্ণ তার নিজের?

ভারতের সামাজিক বাস্তবতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, রাষ্ট্রের ভূমিকা শুধু বাজার পরিচালনা করা নয়; মানুষের সক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি নির্মাণ করাও তার দায়িত্ব।


অর্থনৈতিক উদারীকরণের পর ভারতীয় অর্থনীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগ, বাজারভিত্তিক প্রতিযোগিতা এবং বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯১ সালের অর্থনৈতিক সংস্কার এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ।

বেসরকারি উদ্যোগ উৎপাদন, পরিষেবা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ এবং ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বেড়েছে, নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষও এমন কিছু পণ্য ও পরিষেবা পেয়েছেন, যা আগে সহজলভ্য ছিল না।

কিন্তু এই পরিবর্তনের সঙ্গে আরেকটি প্রশ্নও জড়িয়ে আছে: অর্থনৈতিক বিকাশের সুফল কারা কতটা পাচ্ছেন?

বাজারভিত্তিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত সাধারণত মুনাফা, ঝুঁকি এবং প্রত্যাশিত চাহিদার ওপর নির্ভর করে। ফলে যে ক্ষেত্রে লাভের সম্ভাবনা বেশি, সেখানে পুঁজি প্রবাহিত হওয়ার প্রবণতা থাকে। কিন্তু সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন সব সময় লাভজনক বাজার তৈরি করে না।


যে অঞ্চলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কম, সেখানে উন্নত বেসরকারি হাসপাতাল গড়ে তোলার উৎসাহ কম হতে পারে। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সব সময় লাভজনক উদ্যোগ নয়। গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের ক্ষুদ্র উৎপাদন, ছোট ব্যবসা কিংবা জীবিকার নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এখানে বেসরকারিকরণের প্রশ্নটি কেবল সরকারি সম্পদ বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, রাষ্ট্র কি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহণ, বিদ্যুৎ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অন্যান্য মৌলিক পরিষেবার দায়িত্ব থেকে ক্রমশ সরে আসছে, নাকি সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থার মধ্যে এমন ভারসাম্য তৈরি করছে, যাতে সাধারণ মানুষও প্রয়োজনীয় পরিষেবা পেতে পারেন?

সব বেসরকারি উদ্যোগকে জনস্বার্থবিরোধী বলা যেমন যুক্তিসংগত নয়, তেমনই সব সমস্যার সমাধান বাজারের হাতে ছেড়ে দেওয়াও বাস্তবসম্মত নয়। যেখানে প্রতিযোগিতা কার্যকর, সেখানে বেসরকারি উদ্যোগ দক্ষতা ও উদ্ভাবন বাড়াতে পারে। কিন্তু যেখানে মানুষের মৌলিক প্রয়োজন, একচেটিয়া ক্ষমতা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক স্বার্থ জড়িত, সেখানে কার্যকর সরকারি নীতি, নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণের জবাবদিহি অপরিহার্য।


 


রতের অর্থনৈতিক বিকাশের পাশাপাশি সম্পদ ও আয়ের বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তবে বৈষম্য বলতে শুধু ধনী ও দরিদ্রের আয়ের পার্থক্য বোঝায় না। সম্পদের মালিকানা, উন্নত শিক্ষায় প্রবেশাধিকার, চিকিৎসার মান, বাসস্থান, নিরাপদ কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবিলার ক্ষমতার মধ্যেও বৈষম্য প্রকাশ পায়।

একটি পরিবারের হাতে যদি জমি, বাড়ি, সঞ্চয় ও উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ থাকে, তবে তার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুযোগ তৈরি করা সহজ হয়। অন্যদিকে, দরিদ্র পরিবারে সন্তানকে অল্প বয়স থেকেই উপার্জনে নামতে হতে পারে। তার শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হয়, দক্ষতা অর্জনের সুযোগ কমে যায় এবং ভবিষ্যতে তার আয়ও সীমিত থাকার আশঙ্কা বাড়ে।

এভাবে বৈষম্য এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে সঞ্চারিত হতে পারে।


দারিদ্র্যকে প্রায়ই কম আয় দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়। কিন্তু দারিদ্র্যের বাস্তবতা আরও ব্যাপক। দরিদ্র মানুষ অনেক সময় প্রয়োজনীয় খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপদ পানীয় জল, পরিবহণ এবং তথ্যের অভাবে ভোগেন। তাঁর সামনে শুধু আয় বাড়ানোর সমস্যা থাকে না; থাকে জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলি পূরণ করার সংগ্রাম।

একজন দিনমজুরের কথা ধরা যাক। তাঁর শ্রমের ওপর নির্ভর করে পরিবারের খাদ্য ও বাসস্থানের ব্যবস্থা। কাজ না পেলে আয় নেই; অসুস্থ হলে কাজ নেই; কাজের সুযোগ থাকলেও যাতায়াতের খরচ জোগাতে না পারলে সেই কাজ গ্রহণ করা কঠিন। সন্তানের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং পরিবারের চিকিৎসার ব্যয় মেটানোও অনিশ্চিত হয়ে ওঠে।


এখানে টিকে থাকার সংগ্রাম দুই শ্রেণির মানুষের জন্য এক নয়। একজনের কাছে প্রতিযোগিতা হতে পারে উন্নতির নতুন সুযোগ; অন্যজনের কাছে তা হতে পারে আগামী দিনের খাদ্য ও বাসস্থান নিশ্চিত করার লড়াই।

বাজারে প্রবেশাধিকার বলতে তাই শুধু দোকান খোলা, পণ্য কেনা কিংবা শ্রম বিক্রি করার সুযোগ বোঝালে চলবে না। এর অর্থ হতে হবে এমন বাস্তব সক্ষমতা, যার সাহায্যে মানুষ উৎপাদন, বিনিময়, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে।

এই সক্ষমতা তৈরির জন্য প্রয়োজন:

1. সর্বজনীন ও মানসম্মত শিক্ষা, যাতে দরিদ্র পরিবারের শিশুরাও দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পায়।

2. সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি, যাতে অসুস্থতা কিংবা অপুষ্টি মানুষের কর্মক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ নষ্ট না করে।

3. সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোগে সহায়তা, যাতে পুঁজির অভাব উদ্যোগের প্রধান বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।


6. বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা, যাতে একচেটিয়া পুঁজি, বৈষম্যমূলক সুযোগ এবং অতিরিক্ত বাজারক্ষমতা ক্ষুদ্র উৎপাদক ও সাধারণ ভোক্তার স্বার্থকে বিপন্ন না করে।

এসব উদ্যোগের লক্ষ্য বাজারকে অস্বীকার করা নয়; বরং বাজারে অংশগ্রহণের সুযোগকে আরও ব্যাপক ও ন্যায়সংগত করে তোলা।

এখানে আরও একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। দরিদ্র মানুষের সহায়তা মানেই তাঁকে চিরকাল রাষ্ট্রের অনুদানের ওপর নির্ভরশীল করে রাখা নয়। বরং এমন পরিবেশ তৈরি করা, যাতে তিনি নিজের শ্রম, জ্ঞান ও উদ্যোগের মাধ্যমে মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন। সামাজিক নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগ পরস্পরের বিরোধী নয়; যথাযথ নীতির মাধ্যমে তারা একে অপরের পরিপূরক হতে পারে।


৭. স্ববিরোধিতার মূল: যোগ্যতা তৈরি করার সুযোগ কার হাতে?

এবার মূল প্রশ্নে ফিরে আসা যাক। ‘যোগ্যতমের টিকে থাকা’ যদি বাজারের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়, তবে জানতে হবে, যোগ্যতা তৈরি হয় কীভাবে।

কেউ জন্মগতভাবে নির্দিষ্ট প্রতিভা নিয়ে জন্মাতে পারেন। কিন্তু সেই প্রতিভার বিকাশ নির্ভর করে শিক্ষা, পুষ্টি, অনুশীলন, সামাজিক পরিবেশ এবং সুযোগের ওপর। প্রতিভা থাকলেই তার পূর্ণ বিকাশ ঘটে না; প্রয়োজন অনুকূল পরিবেশ।

একইভাবে, ব্যবসায়িক উদ্যোগের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত মেধা বা পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে না। প্রয়োজন পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষ শ্রমিক, অবকাঠামো, বাজারের তথ্য এবং ঝুঁকি বহনের সামর্থ্য। এই উপাদানগুলি সবার কাছে সমানভাবে উপস্থিত নয়।


এই পরিস্থিতিতে বাজারের ফলাফলকে ব্যক্তিগত যোগ্যতার চূড়ান্ত বিচার হিসেবে তুলে ধরা আসলে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যকে আড়াল করতে পারে।

তবে সমাধান প্রতিযোগিতা সম্পূর্ণ তুলে দেওয়া নয়। মানুষের উদ্যোগ, উদ্ভাবন, শ্রম ও দক্ষতার মূল্য অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু সেই মূল্যায়নকে ন্যায়সংগত করতে হলে প্রতিযোগিতার ভিত্তি প্রসারিত করতে হবে। সমাজের প্রত্যেক মানুষকে অন্তত এমন একটি অবস্থানে পৌঁছতে সাহায্য করতে হবে, যেখান থেকে সে নিজের সক্ষমতা বিকাশ ও প্রয়োগের বাস্তব সুযোগ পায়।

এই কারণেই ন্যায়সংগত অর্থনীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু মোট উৎপাদন কিংবা জাতীয় আয় বৃদ্ধি নয়; সেই বিকাশের সুফল কতটা মানুষের জীবনে পৌঁছচ্ছে, কতটা বৈষম্য কমছে এবং কতটা নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, তা বিচার করাও জরুরি।


প্রকৃতির বিবর্তন ও মানুষের সমাজের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। প্রকৃতিতে প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রক্রিয়া জীবজগতের পরিবর্তন ব্যাখ্যা করে। কিন্তু মানুষের সমাজ তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান, আইন, নীতি, নৈতিকতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারে।

মানুষের সভ্যতা কেবল শক্তিশালীর সাফল্যের ইতিহাস নয়। এটি দুর্বলকে রক্ষা করার, রোগীর চিকিৎসা করার, অশিক্ষিতকে শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার, বঞ্চিতকে অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার এবং বৈষম্য কমানোর চেষ্টারও ইতিহাস।

এই কারণেই ‘যোগ্যতমের টিকে থাকা’ কথাটিকে মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের চূড়ান্ত আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। বাজারে সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানুষের মূল্য বাজারের সাফল্যের চেয়ে অনেক বড়। একজন মানুষের আয় কম হতে পারে, তাঁর উৎপাদনক্ষমতা সীমিত হতে পারে, কিংবা প্রতিযোগিতায় তিনি পিছিয়ে পড়তে পারেন। তাই বলে তাঁর বেঁচে থাকার অধিকার, শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য ও মর্যাদার অধিকার কমে যায় না।



প্রকৃতির বিবর্তন আমাদের শেখায় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার গুরুত্ব। কিন্তু মানবসভ্যতার শিক্ষা আরও গভীর: মানুষ চাইলে নিজের পরিবেশকেও বদলাতে পারে। তাই মানুষের সমাজে প্রশ্ন শুধু কে টিকে থাকল, তা নয়; প্রশ্ন হলো, কে কী সুযোগ পেল, কে কেন পিছিয়ে পড়ল, এবং পিছিয়ে পড়া মানুষকে এগিয়ে আসার সুযোগ দিতে আমরা কী করলাম।

যে সমাজে মানুষের টিকে থাকা তার ক্রয়ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, সেই সমাজে বাজারের সাফল্যকে সভ্যতার সাফল্য বলা যায় না। সভ্যতার প্রকৃত পরীক্ষা হলো—যারা দুর্বল, বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়েছে, তাদেরও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার এবং নিজেদের যোগ্যতা বিকাশের সুযোগ দেওয়া যাচ্ছে কি না।



সুতরাং, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত কেবল ‘যোগ্যতমের টিকে থাকা’ নয়, বরং প্রত্যেক মানুষের যোগ্যতা বিকাশের সুযোগ এবং প্রত্যেকের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকার নিশ্চিত করা। বাজারকে মানুষের জন্য গড়ে তুলতে হবে; মানুষকে বাজারের নিষ্ঠুরতার হাতে সমর্পণ করলে চলবে না।


================= 


Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Below Post Ad