বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন :

ধারাবাহিক উপন্যাস।। মাধব ও মালতি (১৪) ।। সমীরণ সরকার


prem

 
মাধব ও মালতি

সমীরণ সরকার 

(পূর্ব কথা:-জমিদার কৃষ্ণ কমল রায় কে বাজিতে হারিয়ে তার প্রিয় ঘোড়া শুভ্র বর্ণ চেতককে জিতে নিল মানবেন্দ্র নারায়ণ। বিধুমুখীর পিত্রালয়ের একটি পরিত্যক্ত চালাতে সে রাতের মত রাখা হলো ঘোড়াটিকে।
সেদিন রাতেই পূর্ণিমাকে স্বপ্ন দেখে তাকে চর্মচক্ষে দেখার ইচ্ছা প্রবল হলো মানবেন্দ্রের। 
চেতকের পিঠে চেপে মানবেন্দ্র নারায়ণ কমলাপুর গ্রামে গেল, পূর্ণিমার সঙ্গে দেখা করতে। গভীর রাতে গর্ভবতী পূর্ণিমা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে , তাদের বাড়ির উঠোনে কামিনী ফুল গাছের নীচে মস্ত কালো পাথর টার উপর ঘুমিয়ে পড়ল, মানবেন্দ্রের কথা ভাবতে ভাবতে। একটু পরে মানবেন্দ্র এসে ৈ হলো সেখানে। ঘুম ভেঙ্গে তার প্রিয় মানুষকে হঠাৎ দেখে চিৎকার করতে যাচ্ছিল পূর্ণিমা। মানবেন্দ্র নারায়ণ তার দুই ঠোঁট পূর্ণিমার ঠোঁটে চেপে ধরল তাকে চুপ করাবার জন্য।) 

পরিচ্ছেদ - ১৪
 
বহুকাল ধরে স্বামীর অদর্শনে বিরহ কাতর প্রোষিতভর্তৃকা  হঠাৎ করে স্বামীর দেখা পেলে তার মনের অবস্থা যেমন হয়, পূর্ণিমার অবস্থা ঠিক তাই হলো। তার সমস্ত শরীর প্রচন্ড আবেগে থর থর করে কাঁপতে থাকলো। তার দুই চোখ অশ্রু সজল হয়ে উঠলো। এই অসম্ভব ব্যাপার সে সত্যি বলে মেনে নিতে পারছিল না। পুরোটা তার কাছে স্বপ্ন বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু যখন  সে তার উপোষী শরীরে প্রিয় পুরুষের স্পর্শ পেল, ঠোঁটে পেল চেনা ঠোঁটের স্বাদ, তখন সে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল। 
মানবেন্দ্র নারায়ণ দীর্ঘ চুম্বনের পর যখন পূর্ণিমার ঠোঁট থেকে নিজের ঠোঁট বিচ্ছিন্ন করল, তখন পূর্ণিমা অস্ফুট স্বরে বলল, আমি স্বপ্ন দেখছি না তো? তুমি কি সত্যি এসেছ কুমার?
----হ্যাঁ, আমি এসেছি পুনি, তুই মোটেই স্বপ্ন দেখছিস না।
 
----কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব হলো? তুমি এত রাতে তোমার ঠাকুমার বাপের বাড়ি থেকে এখানে এলে কী করে?
মানবেন্দ্র নারায়ন দূরে আঙ্গুল দেখিয়ে জ্ঞজ্ঞ, ওই দেখ, ওর পিঠে চেপে এখানে এলাম। মানবেন্দ্র নারায়ণ আঙ্গুল দিয়ে যেদিকে নির্দেশ করলো,
বিস্মিত পূর্ণিমা সেদিকে তাকিয়ে দেখল, একটি ধবধবে সাদা রঙের ঘোড়া দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। 
----একি! ওকে পেলে কোথায়? 
-----ও চেতক, আমার ঘোড়া। 
------তোমার ঘোড়া! কোথায় পেলে ওকে? 
------বাজিতে জিতেছি। 
-----কিরকম? 
------সেসব কথা পড়ে শুনিস। এতদিন পরে দেখা এখন আমার আর ধৈর্য ধরছে না।
-----মানে? 
----কাছে আয়। 
------কাছেই তো আছি। 
-----তোকে দেখার জন্য এত রাতে ছুটে এ?জ্ঞজ্ঞধধ্যধ্বদ্য,ৌলাম আর তুই আমার কাছ থেকে অত দূরে কেন? 
কথা বলতে বলতে মানবেন্দ্র নারায়ণ দু হাতে সবলে পূর্ণিমাকে টেনে নিল নিজের বুকের কাছে। শুরু করলো এক দীর্ঘ চুম্বন। নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে মানবেন্দ্র নারায়ন তার প্রেমিকার ঠোঁটে ভালোবাসার স্বাক্ষর রাখতে গিয়ে বেসামাল হয়ে পড়ছিল, তার সবল বাহু দুটো প্রেমিকার সমস্ত শরীর হাতড়ে সুখ খুঁজছিল। পূর্ণিমা প্রথম প্রথম একটু দ্বিধায় থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রেমিকের স্পর্শে তার সমস্ত শরীর শিহরিত হতে থাকল। আর তার প্রতিক্রিয়ায় সে দুহাতে তার প্রেমিকের শরীর প্রবল জোরে জাপটে ধরল। দুটো শরীর মিশে এক হয়ে যেতে চাইলো।
শুক্ল দ্বাদশীর চাঁদ আকাশ থেকে সাক্ষী হলো তাদের এই বাঁধ ভাঙ্গা ভালবাসার। 
কিছুক্ষণের মধ্যেই দুজনের সংযমের বাঁধ যখন সম্পূর্ণ
ভেঙে পড়ার উপক্রম হলো, হঠাৎ পূর্ণিমা বলে উঠলো, আর এগিয়ো না কুমার, আজ এটুকুই থাক। 
-----কেন রে? 
-----ওর কষ্ট হতে পারে।
বিস্মিত মানবেন্দ্র নারায়ণ পূর্ণিমার শরীর থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে করতে একটু ক্রুদ্ধ হয়ে বলল,
কার কষ্ট হবে?---কার কথা বলছিস তুই? 
-----তোমার আর আমার সন্তানের কথা কুমার। 
ও বড় হচ্ছে আমার শরীরের ভিতর। 
-----কী বলছিস তুই!এটা সত্যি? 
------শতকরা একশো ভাগ সত্যি। কিন্তু...
-----কিন্তু কি? 
------আমার মা ওকে ভূমিষ্ঠ হতে দেবে না। 
-----তোর মা জানে? 
------না। তবে সন্দেহ করছে। আর সন্দেহের বশে বারবার আমাকে সত্যিটা জানতে চাইছে। সত্যিটা জানলে আমার সন্তানকে অবৈধ বলে নষ্ট করে দিতে চাইবে ।
-----কেন, অবৈধ কেন?তুই তোর মাকে সত্যিটা বলবি।  বলবি যে, দু'বছর আগে শীতলপুরে রক্ষাকালী মেলা দেখতে গিয়ে,মা কালী কে সাক্ষী রেখে আমি তোর সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে
বিয়ে করেছি।
----সে কথা কেউ মানতে চাইবে না। সমাজের চোখে আমি বিধবা। আমি তাই ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছি,কী করে যে আমার সন্তানকে রক্ষা করব সেই চিন্তাতে আমি দিনরাত চোখের পাতা এক করতে পারিনা। তার মধ্যে আবার তুমি কাছে ছিলে না।। 
----এখন তো এসেছি। আমি আমার সন্তানকে যেভাবে পারি, রক্ষা করব।
-----কিন্তু কিভাবে? তোমার ঠাকমা ওকে মেনে নেবেন না।
------তোকে নিয়ে পালিয়ে যাবো আমি! 
-----কোথায় যাবে? তোমার এমন কেউ পরিচিত আছে, এখানে আমাকে আর আমার সন্তানকে লুকিয়ে রাখতে পারবে? 
------না, যেখানেই রাখি, ঠিক জানতে পারবে  বিধুমুখী।
-----ছিঃ! ওভাবে বলোনা। 
-----মানে? 
----ঠাকমা তোমাকে কত ভালোবাসেন!
-----হুম। আচ্ছা তোর এমন কেউ নেই, যেখানে তোকে লুকিয়ে রাখতে পারব?
----আছে একজন। তার কথাই ভাবছিলাম। কিন্তু সে থাকে বহু দূরে। 
-----কে, কার কথা বলছিস? 
----সে আমার রামু মামা, আমার মায়ের সৎ ভাই। ------কোথায় থাকেন তিনি? 
-------অনেক দূরে, বলাগড়ের কাছে একটা ছোট্ট গ্রামে।
------গ্রামের নাম কী, জানিস? 
-----সোমড়া।
-----তিনি তোকে থাকতে দেবেন??
-------মনে তো হয় দেবে। 
-----চল, তাহলে সেখানে পালিয়ে যাই। আমার সন্তানকে বাঁচাতেই হবে। 
-----কিভাবে যাবে? 
-----আমার চেতক আছে তো।
কথা বলতে বলতেই মানবেন্দ্র নারায়ণ চেতকের কাছে গিয়ে তার গলায় হাত বুলিয়ে বলল, কিরে 
চেতক, আমাকে আর আমার সন্তানের মাকে বলাগড় নিয়ে যেতে পারবি না? 
চেতক কি বুঝলো কে জানে,সে তার প্রভুর মাথায় নিজের মুখ ছুঁইয়ে দিল নিঃশব্দে। 
মানবেন্দ্র নারায়ণ বলল, তবে আজকে চেতকের পক্ষে অতটা পথ যাওয়া সম্ভব হবে না। আজকের রাতটা আমাদের কাছাকাছি কোথাও লুকিয়ে থাকতে হবে। কালকে রওনা হব বলাগড়ের পথে। যা, তোর জামা কাপড় নিয়ে আয় চট করে। 
পূর্ণিমার মা আশালতার ঘুম ভেঙে গেছে অনেকক্ষণ। বিছানায় শুয়ে ঘুমোবার চেষ্টা করছিলেন তিনি। হঠাৎ তার কানে কথা বলার শব্দ ভেসে এলো। তিনি অবাক হলেন। এত রাতে কে কথা বলছে? কেমন যেন সন্দেহ হলো তাঁর। কিন্তু রাজকুমার তো এখন অনেক দূরে। তাহলে? পূর্ণিমার ঘরের দিকে যাবেন বলে তক্তপোশ থেকে নামলেন তিনি।

(চলবে) 

*******************************
Regards
Dr. Samiran Sarkar
Khelaghar, Lautore,
P.O : Sainthia, Dist : Birbhum.
W.B - 731234
Mob : 8509258727

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.