ধারাবাহিক ভ্রমণকাহিনি ।। দক্ষিণ ভারতের শেষ সমুদ্রতটে (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল

দক্ষিণ ভারতের শেষ সমুদ্রতটে

দীপক পাল



দক্ষিণ ভারতের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি। মহাসাগরের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে এই মহামানবের তীরে। ওপারের সিংহল থেকে ধেয়ে আসা একের পরএক ঢেউ আছড়ে পড়ে যেন জলতরঙ্গের সুর তুলে ফেনা হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে ভারতের তটরেখায়। গার্ডওয়াল ধরে দাঁড়িয়ে দেখছি উৎসাহী বহুলোকের সাথে, আমারছেলে শুভ বৌমা আর নাতিকে নিয়ে গার্ড ওয়াল টপকে বড় বড় পাথর ডিঙিয়ে মহাসাগরের কিনারা গিয়ে ছবি তুলছে। কেউ কেউ ঢেউয়ের সঙ্গে পা মিলিয়ে নিল।এটা এক রোমাঞ্চকর খেলা। এখানকার তটরেখা খুব ছোট হওয়ায় একদম সমুদ্রের অতি নিকটে। তবুও তো জলস্পর্শ করার সুযোগ নেই এই ধনুষ্কোডির শেষ-অংশে।


এবারেও ছেলের পীড়াপিড়িতে আমি আমার স্ত্রী সহ মোট ছজন মিলে বেরিয়ে পড়লাম দক্ষিণ ভারতের শেষাংশে। প্রথমে ঠিক ছিল 20th December ভোর পাঁচটার চেন্নাইয়ের ফ্লাইট ধরে চেন্নাই পৌঁছে সেখান থেকে এক টিকিটেই তিরুবন্তপুরম্ এয়ার পোর্টে নামবো সকাল বারোটায়। টিকিট কাটা ছিল আগেই।এদিকে যাত্রার ঠিক দুদিন বাকি এইসময় মেসেজ এলো নাতির স্কুল থেকে যে স্কুলের স্পোর্টস হবে ঠিক যাত্রার দিনই। আর তাই শুনে আমার নাতি কান্নাকাটিজুড়ে দিল যে সে স্পোর্টসে যোগ দেবে, বেড়াতে যাবেনা। ও স্কুলের স্পোর্টসে দৌড়ে দুটি আইটেমে নাম দিয়েছে। কিছু কথা সে শুনতে চায়না। সে স্পোর্টসে যাবেই।শেষে আমরা ঠিক করলাম ওকে নিরুৎসাহিত না করে বরং স্পোর্টসে যোগ দিতে দেওয়া হোক। শুভ বহু চেষ্টা করে ফ্লাইট চেঞ্জ করে নিল বিকেল তিনটেয়। ততক্ষনে সে ওর মায়ের সাথে পৌঁছে গেছে স্টেডিয়ামে। একটু পরে খবর এলো প্রথম দৌড়ে সে প্রথম হয়েছে। দ্বিতীয় দৌড় হবে একটু পরে। আমরা বেরোবো দুপুর বারোটায়।খেয়েদেয়ে যখন স্টেডিয়ামে পৌঁছলাম তখন পাঁচ মিনিট বাকি বারোটা বাজতে। তখন অন্য দৌড়টা শুরু হচ্ছে। এই দৌড়টায় সে দ্বিতীয় হলো। তারপর অনেক বুঝিয়ে এবং স্পোর্টস অথরিটির স্পেশাল পারমিশন নিয়ে ওকে আর বৌমাকে গাড়িতে তোলা হলো। ওদের লাঞ্চ বিশেষ কায়দায় আনা হয়েছিল।


তিরুবন্তপুরম এয়রপোর্টে যখন লাগেজ বেল্টে গিয়ে দাঁড়ালাম লাগেজ ক্লিয়ার করার জন্য তখন বাজে রাত দশটা দশ। ছটা লাগেজের মধ্যে একটা আসেনি। সেটা বৌমা স্বেতার মায়ের। উনি বেচারা একটা লাগেজ নিয়েই বেরিয়েছেন আর ট্যুর ব্যাগের মধ্যেই ওর জামা কাপড় ওষুধপত্রাদি সব। ফাঁকা হয়ে গেছে প্রায় এয়ারপোর্ট। এর আশেপাশে সবাই তাদের জিনিসপত্র নিয়ে এয়ারপোর্ট ছেড়ে চলে গেছে। খালি আমরা ছজন ছাড়া চারজন এয়ারপোর্টের লোক। কিন্তু বৌমাছাড়ার পাত্রী নয়। রেগেমেগে ইন্ডিগো কোম্পানির অব্যবস্থা নিয়ে হৈচৈ বাধিয়ে দিল। দুজন ইন্ডিগোর লোক হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে শুভ ও স্বেতার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে ওদের কাউন্টারে ডেকে নিয়ে গিয়ে সব কথা শুনে ফোন করে খবর নেওয়ার চেষ্টা করলো। প্রিন্টেড কাগজে দ্রুত কিছু নোট লিখে ওদের আশ্বস্ত করলো এই বলে যে ওরা খোঁজ করছে যে লাগেজটা কলকাতায় আছে, না ব্যাঙ্গালোর এয়ারপোর্টে আছে, না এখানেই কোথাও ভুল হয়েছে। এখান থেকে পাওয়া গেলে ওরা মাঝরাতে হোটেলে পৌঁছে দেবে। আর নাহতো কাল সকালেই আশা করি লাগেজের ট্রেস পাওয়া যাবে। বাইরে আমাদের গাড়ি অপেক্ষা করছিল। গাড়িটা ঘুরিয়ে এনে যখন হোটেলে পৌঁছলাম তখন রাত্রি সওয়া এগারোটা। এখন এই গাড়ি আমাদের সাথে থাকবে, আমাদের ট্যুর করাবে ও যাবার দিন আমাদের মাদুরাই এয়ারপোর্টে পৌঁছে দিয়ে ওর ছুটি। ও ফিরে যাবে। হোটেলে এত রাতে বলে রাখার জন্য আমাদের খাবার গরম করে দেওয়ায় আমরা খেয়েদেয়ে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম। কাল সকালে মন্দির দর্শনে যেতে হবে যে।


সকাল সাড়ে ছটায় আমরা স্নান করে যাত্রা করলাম পদ্মনাভম মন্দির দর্শণে। আগে দেখোছিলাম মন্দির দর্শন করতে ধুতি উত্তরীয় ভাড়া করতে হতো । এবার গিয়ে দেখি ছেলেদের কালো শার্ট, ধুতি এবং সাদা উত্তরীয় কিনতে হলো। শাড়ি পরা থাকলে মেয়েদের কিছু লাগে না। ছেলেদের ধুতিতে নিচের দিকে গোল্ডেনজরির কাজ করা বর্ডার দেওয়া। আমাদের তিনজনের মোট সাড়ে চারশো টাকা লাগলো। খুঁজে দেখলে অন্য অনেক দোকানে এর থেকে বেশ কম টাকায় পাওয়া যায়। গাড়িতে আমাদের জামা-কাপড়, সোয়েটার, জুতো-মোজা খুলে রেখে কেনা কাপড়ে গা ঢেকে, খালি পায়ে মন্দিরে যাওয়ার পথ ধরলাম। পায়ের তলায় লাগছে।এক জায়গায় মোবাইল জমা দিয়ে ধাক্কাধাক্কি করে মন্দিরের ফটক পেরোবার ছটা টিকিট জোগাড় করে ফটকে সিকিউরিটি চেক করিয়ে মন্দিরের ফটক পেরোতে পারলাম। এরপর মহিলাদের এক জায়গায় বসিয়ে লাইনের শেষ খুঁজতে খুঁজতে একেবারে অত বড় বারান্দার একেবারে শেষ প্রান্তে গিয়ে লাইনের শেষ দেখতে পেয়ে দাঁড়ালাম। গুটি গুটি পায়ে এগোচ্ছে লাইন। কিছুক্ষণ পরে মন্দিরের গেট এসে যেতেই আমার স্ত্রী শীলা ও স্বেতার মায়ের গীতা দেবী উঠে আমাদের সাথে যোগ দিলেন। ভেতরে দেখি ভীষণ ভীড়। লাইনের গতি কম। লাইন সোজা গিয়ে ডান দিকে ঘুরেছে। তারপর ডাইনে ঘুরে কতদূর গেছে জানিনা। নিশ্চয় ওপারের অলিন্দের শেষ পর্যন্ত গিয়ে আবার ঘুরে এই পথেই এসে গেট দিয়ে বেরোবার ঠিক আগে মন্দিরের গর্ভগৃহ মনে হয়। শুভ বললো 'বাবা এইভাবে গেলে কোভালামবীচ না দেখেই কন্যাকুমারী যাবার রাস্তা ধরতে হবে। দাঁড়াও, এখানে দেখি একটা অফিস'। বলে সে এগিয়ে গেল। তারপর কাউন্টার থেকে দেড় হাজার টাকা দিয়ে ছটা ডালা কিনল। একজন পথ দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে আমাদের অন্য একটা লাইনে দাঁড় করিয়ে দিল। তারপরেও মোট আড়াই ঘন্টা লাগলো লাইন দিয়ে পুজোর জায়গায় পৌঁছতে। এখানে আছে শ্রীবিষ্ণুর অন্তিম শয়ানের দৃশ্য। তাকে পূর্ণ রূপে দেখতে গেলে তিনটে গেট দিয়ে দেখতে হয়। প্রথম গেটে মস্তক গলা, দ্বিতীয় গেটে মধ্যের অংশ তার নাভিতে আছে পদ্মফুল যেখান থেকে ব্রহ্মার সৃষ্টি হয়। এই ব্রহ্মাই সমগ্র জগৎ সৃষ্টিকারি। তাই তাকে বলে পদ্মযোনি ব্রহ্মা।এরপর তৃতীয় গেটেদেখা যায় বিষ্ণুর পাদপদ্ম। এর আগে আমি তিনটে গেট থেকেই সময় নিয়ে ঠাকুর দর্শন করেছিলাম। এবার ভীড়ের আধিক্য হেতু কিছুই প্রায় দেখতে পারিনি।প্রথম গেটে অর্থাৎ যেখানে শ্রীবিষ্ণুর মস্তক আছে, সেখানেই পুজো পাঠ হচ্ছে। সমগ্র পৃথিবী যখন জলমগ্ন ছিল তখন গোটা হিমালয় ছিল জলের তলায়। শ্রীবিষ্ণু সমুদ্রের তলায় শেষনাগের চূড়ায় অন্তিম শয়ানে ছিলেন।


সকাল ছটাতে এয়ারপোর্ট থেকে খবর পাঠিয়ে ছিল যে আমাদের লাগেজ পাওয়া গেছে। ওটা ব্যাঙ্গালোর এয়ারপোর্ট থেকে তিরুবন্তপুরমের প্লেনে ভুলবশত ওঠেনি। লাগেজটা হোটেলে পাঠাতে বিকেল হবে। তখন এখান থেকে জানানো হলো যে সকালে পদ্মনাভম মন্দির দেখার পর হোটেলে ফিরে সব গুছিয়ে নিয়ে হোটেল ছেড়ে দেওয়া হবে। আমরা কোভালাম যাবার পথে এয়ারপোর্টে গিয়ে ওটা তুলে নেব। টেম্পল দেখে হোটেলে ফিরে আমরা ব্রেকফাস্ট করে নিলাম। লাগেজ সব গাড়িরমাথায় বাঁধা আছে তাই টানাটানি কোন ব্যাপার নেই এক কাঁধের ব্যাগ ও হাতের ছোটমোটো কিছু ছাড়া। কিছুক্ষন বিশ্রাম করে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পড়লাম। গাড়ি এয়ারপোর্টের রাস্তা ধরলো। এয়ারপোর্টের বাইরে গাড়ি দাঁড়ালে শুভ ও বৌমা গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে চলে গেল এয়ারপোর্টে। মিনিট পঁচিশ পরে ট্যুর ব্যাগ গড়িয়ে নিয়েএলো। ড্রাইভার ওটাকে ডিকিতে ঢুকিয়ে দিল। সবার মুখে তখন হাসি ফুটলো। গাড়ি এবার কোভালামের দিকে চললো। কিছুক্ষন পরে আরব সাগরের পাশ দিয়েআমরা চললাম। একটা জায়গায় সমুদ্রের ওপর একটা ছোট সেতু দেখে ড্রাইভারকে জিগ্গেস করায় সে বললো বৃটিশ আমলে এখানে জাহাজ নোঙর হতো।অবশেষে আমাদের গাড়ি একটা খুব সুন্দর হোটেলের এরিয়ার মধ্যে ঢুকে পরে গাড়ি দাঁড় করালো। হোটেলে ভেতরে ঢোকার ঠিক আগে একটা ছোট্ট জায়গায় জলে বিভিন্ন রকম মাছ জলে সাঁতার কাটছে। এতে হোটেলের সৌন্দর্য বেড়েছে। খাওয়া-দাওয়া সেরে আমরা এবার এলাম কোভালাম বীচে। ছিয়াত্তরে যখন এসেছিলাম তখন সমুদ্রের ধারে ছিল প্রচুর নারকেল গাছ যা আর কোথাও ছিল না। আর পাহাড় তো ছিলই। তখন এই কোভালাম বিচ ছিল এশিয়ার মধ্যে শ্রেষ্ঠ। এখন তার আর সেই কৌলিন্য নেই। তবু যা আছে তা এক কথায় অনিন্দ সুন্দর। সী বীচে প্রচুর ভীর। অনেকে ছাতার তলায় চোখে গগল্স লাগিয়ে সামনে সমুদ্রের দিকেতাকিয়ে আছে আবার কেউ শুয়ে আছে চোখ বন্ধ করে নিশ্চিন্তে। প্রায় সওয়া ঘন্টা কোভালাম বীচে কাটিয়ে আমরা রওনা দিলাম কন্যাকুমারীর দিকে। কন্যাকুমারী ছিল আগে কেরল রাজ্যে, আরাবল্লী ছিল তামিলনাড়ুতে। কিন্তু পরবর্তীতে আরাবল্লী চলে যায় কেরলে আর কন্যাকুমারী চলে যায় তামিল নাড়ুতে। সেটা নিশ্চয় কোন রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কারণে অথবা যাতায়াত সংক্রান্ত সুবিধা অসুবিধার কারণে। ঠিক জানি না।

স্বনামধন্য সাহিত্যিক শ্রী সুবোধ কুমার চক্রবর্তীর লেখা রম্যাণি বৃক্ষের কেরল খন্ড থেকে জানা যায় যে বানাসুর নামে এক অসুর খুব পরাক্রান্ত অত্যাচারী ছিল। সে যুদ্ধ করে স্বর্গ থেকে দেবতাদের তাড়িয়ে দিয়ে সিংহাসন দখল করে নেয়। তার অত্যাচারে দেবতারা অতিষ্ঠ হয়ে শ্রী বিষ্ণুর শরনাপন্ন হয়। বিষ্ণু তাদের বলে বানাসুর ব্রহ্মার বরে অজেয়। কোন পুরুষ তাকে বধ করতে পারবেনা। তোমরা পরাশক্তির আরাধনা কর। দেবতারা তাই ধ্যানে বসে পরাশক্তিকে আহ্বান করতে লাগলো।

ভারতবর্ষের রাজা ভারতের পুত্র শতশৃঙ্গের আট পুত্র ও একটি কন্যা ছিল। তিনি তার রাজ্যকে নটি খন্ডে ভাগ করে তার সন্তানদের উপহার দেন। কন্যাকে দিয়েছিলেন কুমারীখন্ড। সম্ভবত পিতা তার কন্যা কুমারীর নামে এই রাজ্যের নামকরণ করেছিলেন। এই কুমারী সাগরে গভীর তপস্যা করেন এবং দেবতাদের আহ্বানে তুষ্ট হয়ে বানাসুরকে বধ করে দেবতাদের নিষ্কৃতি দেন। তার প্রতি শিব আকৃষ্ট হয় এবং দেবর্ষি নারদ তাদের বিবাহের পরামর্শ দেন। এবং শিব এখানে এসে সুচিন্দ্রমে বসবাস শুরু করেন কুমারীশ বা কুমারেশ নামে। বিবাহের দিন শিব ধুম ধাম করে বিবাহের আসরে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু নারদ এই বিবাহ না হবার জন্য মোরগের ডাক ডাকতে থাকায় শিব ভাবলো লগ্ন বুঝি পেরিয়ে গেছে। তিনি সুচিন্দ্রমে ফিরে গেলেন। তাই কুমারী লগ্নভ্রস্টা হলেন। কুমারী কি করে কন্যা কুমারী হলো সেটা জানা কিন্তু জানা যায় না।

আমরা রাত আটটা নাগাদ বুকিং করা রিসর্টের অফিসে পৌঁছলাম। অফিসে সব করণীয় কাজ সেরে এসে শুভ আবার ড্রাইভারের পাশে এসে বসলো।অফিস থেকে একজন একটা বড় টর্চ নিয়ে দ্রুত পদে হেঁটে যেতে লাগলো। আমাদের গাড়ি তার পেছনে পেছনে চলতে লাগলো। একটুখানি যেতেই সেই ভদ্রলোকএকটা কটেজের কটা সিঁড়ি ডিঙিয়ে দরজার তালা খুলে আমাদের আসতে বললেন। কটেজের নাম দেখলাম - আকাশ। ঢুকে প্রথমেই দেখি একটা হলঘরের মতো, তার বাম সাইডে পর্দা দিয়ে কিছুটা পোরসন আড়াল করা। সেখানে চা বা কফি বানিয়ে খাবার ভাল ব্যবস্থা আছে। চেয়ার টেবিল আছে বসে খাবার জন্য। ডানদিকের পোরসনটা বেশ বড়। বসার ও জিনিসপত্র রাখার ব্যবস্থাও বেশ ভালো। বড় সোফায় শুয়েও থাকা যায়। এরই সাথে আছে দুপাশে দুটো ঘর 'A', আর ' B' দুটো ঘরেই এটাচ বাথ সঙ্গে ফারনিচারস। কটেজের ভাড়া মাত্র চার হাজার।


কটেজ গুলোর নামের বৈশিষ্ট্য আছে। যেমন আকাশ, প্রকাশ, পৃথ্বী, জল ইত্যাদি।অনেকটা জায়গা জুড়ে এই রিসর্ট। এখানে একটা সুন্দর মন্দির আছে, লাইব্রেরি আছে, সুন্দর প্রোটেক্টেড বাগান আছে।গাছেদের ফাঁকে সরু পীচের রাস্তা চলে গেছে। সবচেয়ে যেটা ভাল লাগে - বেশ কিছু ময়ূরকে আপন মনে ঘুরেবেড়াতে দেখা যায়। কিন্তু সমুদ্র এখান থেকে তিন চার কিলোমিটার দুরে। এর আগে যখন এসেছিলাম তখন ছিলাম ভগবতী হোটেলে। আর ছিল ট্রাই সী লজ্। দুটোই ছিল সমুদ্রের ধারে। এছাড়া আর কোথাও হোটেল ছিলনা। কিন্তু এই রিসর্টটা যেন একটা আলাদা জগৎ। খুব কাছেই আছে বেশ বড় একটা খাবারের ক্যান্টিন। নাম 'চিত্রা'।আশা করি বাঙালীদের এখানে খেতে কোন অসুবিধা হবেনা। সব দেখে শুনে গুছিয়ে নিয়ে আমরা চিত্রাতে গিয়ে রাতের খাবার খেয়ে নিলাম। খাবার দাবার মোটামুটি ভালই। সব শেষে ভালো লাগলো কফি। হোটেলে ফিরে পরের দিনের প্রোগ্রাম স্থির হলো, বিবেকানন্দ রক্ দেখা সকালে আর বিকালে কন্যাকুমারী মন্দির দেখা।


(চলবে)


Address:-
-------‐-‐-----
Dipak Kumar Paul,
DTC Southern Heights,
Block-8, Flat-1B,
Diamond Harbour Road,
Kolkata - 700104
Contact: 9007139853


Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.