এই তো কয়েকদিন আগে পুরনো এক আলমারিতে জরুরি কিছু কাগজপত্র খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এল লাল ভেলভেট কভারে মোড়া, ভেতরে কালো রঙের একটু ভারী কাগজের অনেকগুলি পাতায় কর্ণার দিয়ে লাগানো নানা আকৃতির অনেক ছবি। কিছুটা লালচে হয়ে যাওয়া ধূসর ছবির সেই অ্যালবামে রয়েছে আমাদের পারিবারিক সুখ-দুঃখের স্মৃতি বিজড়িত অনেক ছবি। অ্যালবামটি সোনালী রঙের স্পাইরেল দিয়ে বাঁধা। এমন ধূসর সাদা কালো ছবির অ্যালবামের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে থাকে অনেক স্মৃতিমেদুরতার আবেশ। আমার বাবা একটি আগফা বক্স ক্যামেরায় সেসব পারিবারিক ছবি তুলে, সযত্নে লাগিয়ে রাখতেন অ্যালবামের পাতায়। এসব জেনেছি আমার মায়ের কাছে।
বাবা চলে গেছেন বাইশ বছর আগে। উত্তরাধিকার সূত্রে ছবি তোলার নেশা আমাকেও পেয়ে বসেছিল। ঘটনা চক্রে প্রায় চল্লিশ বছর আলোকচিত্রী হিসেবে পেশাদারী জীবন কাটিয়েছি। সাদা কালোর পর রঙিন ফিল্ম নির্ভর
অ্যানালগ যুগ পেরিয়ে, ছবি এখন আধুনিক ডিজিটাল যুগে। অ্যালবামও এখন ডিজিটাল যুগে অন্য চেহারায়। তবে স্মৃতিমেদুরতার আবেশ জড়ানো ধূসর ছবির সেই অ্যালবাম অনেক পরিবারেই আজও সযত্নে রাখা আছে।
=====================
মানস কুমার সেনগুপ্ত, ১৭/৮, আনন্দ মোহন বসু রোড, দমদম , কলকাতা।