ছবিঋণ - ইন্টারনেট
খিদে
প্রতীক মিত্র
চল্লিশ টপকানোর পর আর কিছু কেন যে টপকাতে ইচ্ছে করে না। আত্মরক্ষা আর স্বার্থপরতার মধ্যে সীমানাটাই ঘেঁটে যায়। গল্পের নায়ক ওইসব কথার মারপ্যাঁচ বোঝে না। অফিস থেকে বাড়ি, বাড়ি থেকে অফিস: অভ্যেসের এই জ্যামিতির ভৃত্যগিরি করেই ও ভুলে থাকতে চায় বাকি সব...অফিসের খুচরো সমস্যা, রাস্তার ভীড়, সমাজের প্রতিটা বৃত্তে ছোটো-বড়-মেজো আপোষ। সংসার তার আর একটা ঢাল কিম্বা আড়াল। বিপদ বাড়াবাড়ির জায়গায় গেলেই সে সংসারের ফণার ভেতর লুকিয়ে পড়ে। ভিক্ষের বাড়ানো হাতের সংখ্যা গুণিতকে বাড়তে থাকে। গল্পের নায়কের এইসব দিকে চোখ দেওয়ার সময় নেই। কিন্তু কান? বুড়িটা মনোযোগ টানতে জানে। এমন একটা সুরে বলতে থাকে, " কচুরি খাবো! " অনেকের মতন নায়কও সেই বুড়িকে পাশ কাটায়। মনুষ্যত্ব স্বার্থপরতার পাঁচিলটুকু টপকালেই ছিল। কিন্তু ওই যে ও বয়স টপকেছে চল্লিশ। ফলে ও পুনরায় এই সব মানুষ সাজার প্রলোভন টপকে অফিস যেতে সক্ষম হয়। খালি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়টা হল, ওর অ্যাদ্দিন খেয়ালই হয়নি, পেট ভরে খেয়ে এলেও বেশ ক'দিন ধরে অফিস পৌঁছেই ওর খুব খিদে পেয়ে যাচ্ছে। বুড়িকে নাকচ করলো হেলায়, কিন্তু এই খিদেটাকে?
----------------------------------
কোন্নগর, হুগলী