গল্প ।। রঙের নদীর ধারে ।। উৎপল সরকার

 
 

 ছবিঋণ-ইন্টারনেট 

 

রঙের নদীর ধারে

 উৎপল সরকার

 

দোলের আগের রাতেই শহরটা বদলে যেতে শুরু করে।যেন অদৃশ্য কেউ চুপটি করে রঙের থালা সাজিয়ে রাখে আকাশের পাশে। বাতাসে তখন কেমন একটা সুন্দর মিষ্টি গন্ধ—পলাশ, শিমুল আর ভেজা মাটির মিশ্রণ সহ। আলিপুরদুয়ার, ছোট্ট শহরটা সারাবছর শান্ত থাকে, কিন্তু দোলের সকালে সে যেন নিজের ভেতরের লুকোনো উচ্ছ্বাস খুলে দেয়।
ভোর না হতেই সুচেতা জেগে উঠল।তার বারান্দার রেলিংয়ে হালকা গোলাপি আবিরের আস্তরন। কে ছুড়ে দিয়েছে—জানা নেই। হয়তো পাশের বাড়ির ছেলেরা। হয়তো হাওয়া নিজেই। আকাশ তখনও পুরোপুরি নীল হয়নি; ধূসর আলোয় শহরটা যেন রঙহীন ক্যানভাসের মতো অপেক্ষা করছে প্রথম তুলির টানের জন্য।
সুচেতা হাত বাড়িয়ে রেলিং ছুঁল। আঙুলে লেগে রইল নরম আবিরের গুঁড়ো। সেই স্পর্শে অদ্ভুত একটা অনুভূতি জেগে উঠল—যেন বহুদিন আগের কোনো দুপুর তাকে আলতো করে ডাকছে।এই শহরে তার শৈশব কেটেছে। এই রাস্তায় জলভরা বেলুনের যুদ্ধ, এই ছাদের কার্নিশে লুকিয়ে থাকা, এই পাড়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে রঙ মাখার প্রথম লজ্জা। তারপর পড়াশোনা, কাজ, শহর বদল—সব মিলিয়ে দোল তার জীবনে ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছিল মোবাইল স্ক্রিনের রঙিন বার্তায়।
"Happy Dol " — টাইপ করা শুভেচ্ছা, ফিল্টার দেওয়া ছবি, সুরক্ষিত হাসি।যেন রঙ ছোঁয়া নয়, রঙ দেখা।এই বছর সে ফিরে এসেছে।হয়তো অজান্তেই কোনো টানে।
আর এই বছরই অর্জুনও ফিরেছে।অর্জুন—যার সঙ্গে তার শৈশবের অর্ধেক গল্প জড়ানো। একই স্কুল, একই পাড়ার দোলখেলা, একই ছাদে বসে আকাশ দেখা। এক দোলের দুপুরে, যখন তারা দুজনেই দশম শ্রেণী,ক্লাস টেন-এ, অর্জুন আচমকা তার গালে নীল আবিরের দাগ টেনে বলেছিল, "এবার তুই অফিসিয়ালি রঙিন।"
সুচেতা হেসেছিল, কিন্তু সেদিন বিকেলে লাজুক ভাবে আয়নায় নিজের মুখ দেখার সময় মনে হয়েছিল, সেই নীলটা শুধু রঙ নয়—একটা কিছুর পথচলার শুরু।
তারপর অর্জুন হঠাৎই চলে গেল। উচ্চশিক্ষা, বড় শহর, বড় স্বপ্ন। 
সকাল বাড়তেই শহর জেগে উঠল।
লাউডস্পিকারে পুরনো দোলের গান, গলির মোড়ে রঙের দোকান, বাচ্চাদের হাসির ঝড়। রোদ্দুরটা আজ একটু আলাদা—মোলায়েম, যেন সেও এবার খেলায় নামবে।
সুচেতা সাদা সালোয়ার পরে বেরোল।
সাদা—সবচেয়ে সাহসী রঙ।
কারণ সাদা মানেই সম্ভাবনা। সাদা মানেই প্রথম স্পর্শে বদলে যাওয়া।
গলির মুখে এসে সে থমকে গেল।
অর্জুন দাঁড়িয়ে আছে।
হাতে পিতলের থালা, তাতে লাল-হলুদ-সবুজ আবির। চুল একটু ছোট হয়েছে, চোখে যেন অল্প ক্লান্তির ছায়া, তবু সেই চেনা হাসি—যেটা শৈশবে তাকে বারবার রাগিয়ে আবার হাসিয়ে তুলত।
চারপাশে রঙ উড়ছে, পিচকারীর জল ছিটছে, চিৎকারে ভরে উঠছে সকাল। অথচ তাদের দুজনের মাঝখানে যেন অদ্ভুত এক স্থিরতা।
অর্জুন এগিয়ে এল।
"হ্যাপি দোল, সুচেতা।"
শব্দগুলো সাধারণ, কিন্তু উচ্চারণে যেন অদ্ভুত সতর্কতা।
সুচেতা মৃদু হেসে বলল, "শুধু হ্যাপি?"
অর্জুন কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর থালা থেকে সামান্য লাল আবির তুলে তার গালে ছুঁয়ে দিল।স্পর্শটা শান্ত, সংযত। যেন সে জানে, এই স্পর্শের ভেতরেই বহু বছরের নীরবতা জমে আছে।
আর তখনই যেন কিছু একটা বদলে গেল।
রঙটা শুধু গালে লাগল না।
তা যেন ভেতর থেকে ফুটে উঠল।
সুচেতার মনে হলো, তার চারপাশের বাতাস ঘন হয়ে আসছে। উড়ে যাওয়া আবিরের কণা মাঝ আকাশে থেমে রইল এক মুহূর্তের জন্য। জলভরা বেলুন ফেটে যাওয়ার আগে স্থির হয়ে গেল। শব্দগুলো ম্লান হয়ে এল, যেন অনেক দূর থেকে ভেসে আসছে।
সে দেখল—রঙের ভেতর ছবি ফুটে উঠছে।
একটি ছোট মেয়ে, চুলে বেণী, হাতে পিচকারি—হাসছে। একটি কিশোর, মুখে দুষ্টু হাসি, তার পেছনে দৌড়চ্ছে।
রঙগুলো যেন স্মৃতি ধরে রেখেছিল।
বছরের পর বছর।
কেউ তাদের ছুঁয়েছে, মুছে ফেলেছে, ধুয়ে দিয়েছে—তবু তারা কোথাও জমে ছিল। আজ আবার ফিরে এসেছে।
"তুই কখনো লিখিসনি," সুচেতা আস্তে করে বলল।
অর্জুন চোখ নামাল। "ভাবতাম, সময় সবকিছু ঠিক করে দেয়।"
এক ঝাপটা হাওয়া এল। লাল-হলুদ-নীল আবির আকাশে উঠে ঘূর্ণি তুলল। কিন্তু তারা ছড়িয়ে পড়ল না। যেন আকাশের ওপরে রঙের এক নীরব ক্যানভাস তৈরি হলো।
"সবকিছু না," সুচেতা বলল। "কিছু কিছু জিনিস অপেক্ষা করে।"
অর্জুন তার দিকে তাকাল। সেই দৃষ্টিতে এবার দ্বিধা নেই।
"আমি পালিয়ে গিয়েছিলাম," সে ধীরে বলল। "ভাবতাম বড় শহরেই সব কিছু আছে। কিন্তু প্রতি বছর দোলের দিন সকালে মনে হতো, কোথাও একটা সাদা ক্যানভাস পড়ে আছে, যেটা আমি রঙ করতে পারিনি।"
সুচেতা হেসে ফেলল—চোখে জল এসে গেল।
ঠিক তখনই পাশের ছাদ থেকে কেউ জল ছুড়ে দিল। ঠান্ডা রঙিন জল দুজনকে ভিজিয়ে দিল একসঙ্গে। নীরবতার ক্যানভাস ভেঙে গেল। শব্দ ফিরে এল। শহর আবার শব্দে ভরে উঠল।
কিন্তু তাদের ভেতরের নীরবতাটা বদলে গেছে।
দুপুরের দিকে তারা নদীর ধারে গেল।
শহরের মানুষজন ধীরে ধীরে ক্লান্ত। রঙিন মুখ, ভেজা জামা, তৃপ্ত হাসি। রোদ নরম হয়ে এসেছে। নদীর জলে গোলাপি আভা পড়েছে—যেন আকাশও আবির খেলেছে।
সুচেতা জলের ধারে বসে পা ছুঁইয়ে দিল। রঙ ধুয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গালের লালটা অদ্ভুতভাবে উজ্জ্বল রয়ে গেছে।
"দেখ," সুচেতা বলল, "এটা যাচ্ছে না।"
অর্জুন মৃদু হাসল। "কিছু রঙ যায় না।"
হাওয়ায় পলাশের পাপড়ি উড়ে এল। একটা এসে পড়ল সুচেতার কাঁধে। সে সেটা হাতে নিয়ে দেখল—রঙিন, আর কি নরম।
"তুই আবার চলে যাবি?" সুচেতা জিজ্ঞেস করল।
অর্জুন একটু চুপ করে থাকল। নদীর ওপরে আলো ঝিকমিক করছে। দূরে কোথাও গানের মৃদু শব্দ।
"জানি না," অর্জুন বলল। "কিন্তু এবার যদি যাইও, পালিয়ে যাব না।"
সুচেতা তার দিকে তাকাল।
"দোল বছরে একবার আসে," সে বলল। "কিন্তু অপেক্ষা যেন বছরে বারে বারে ফিরে ফিরে আসে।"
অর্জুন তার হাত ধরল।
এবার রঙ উড়ল না। বাতাস থামল না। পৃথিবী নিজের গতিতে চলতে থাকল। কিন্তু তাদের হাতের মাঝখানে যেন উষ্ণ একটা আলো জন্ম নিল—যেটা কোনো উৎসবের নয়, কোনো নির্দিষ্ট দিনের নয়।
সন্ধে নামতে শুরু করল। আকাশ গোধূলির রঙে মিশে গেছে। শহরটা যেন ধীরে ধীরে ক্লান্ত উৎসবের পরের নরম নিস্তব্ধতায় ঢুকে পড়েছে। রাস্তার মোড়ে রঙিন জল গড়িয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও বাচ্চারা এখনও শেষ উদ্দম দিয়ে খেলছে।
সুচেতা অনুভব করল—তার ভেতরে যে দীর্ঘদিনের ফাঁকা জায়গাটা ছিল, সেখানে যেন ধীরে ধীরে রঙ ভরছে।
রঙ মানে শুধু ভালোবাসা নয়।
রঙ মানে স্বীকার করা। রঙ মানে ফিরে আসা। রঙ মানে বলা—"আমি এখনও আছি।"
নদীর জলে শেষ আলো পড়ছে। অর্জুন বলল, "পরের বছর?"
সুচেতা হাসল। তার গালে লাল রঙ এখনও উজ্জ্বল।
"পরের বছর," সুচেতা বলল, "আমরা রঙের জন্য অপেক্ষা করব না। আমরা নিজেরাই রঙীন হব।"
হাওয়ায় তখনও আবিরের মৃদু গন্ধ। দূরে কারা যেন গান ধরেছে—পুরনো, চেনা সুর। শহরটা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। রাস্তাগুলো ধুয়ে যাবে। 
কিন্তু কিছু রঙ থেকে যাবে।
চোখের কোণে। হাতের স্পর্শে। অপেক্ষার স্মৃতিতে।
আর হয়তো আগামী বছরের দোলের ভোরে, যখন আবার কোনো অদৃশ্য হাত শহরের বারান্দায় গোলাপি আবির ছিটিয়ে দেবে, তখন রঙগুলো আবার ফিসফিস করে বলবে—
ভালোবাসা ধুয়ে যায় না।
সে শুধু অপেক্ষা করে, ঠিক সময়ে আবার ফুটে ওঠার জন্য। বাতাসে এখনও রঙের হালকা গন্ধ—কিন্তু তার সঙ্গে মিশেছে ধোঁয়া, ভাজা পাপড়ের গন্ধ, আর একধরনের নরম বিষণ্ণতা।
উৎসবের শেষপ্রহর সবসময় একটু চুপচাপ হয়।
সুচেতা বাড়ি ফিরে আয়নার সামনে দাঁড়াল। চুলে রঙের আস্তরন , কপালে হলুদের দাগ, গালে সেই লাল।
সে কল খুলে জল দিল মুখে।
রঙ ধীরে ধীরে গলতে লাগল। নীল, সবুজ, হলুদ মিলেমিশে নেমে গেল সাদা সিঙ্কের দিকে। কিন্তু আশ্চর্য—গালের লালটা পুরোপুরি গেল না। ফিকে হলো, তবু রইল। সে আয়নার দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে ফেলল।
ঠিক তখনই জানালার বাইরে হাওয়া বইল। বারান্দার দিকে ঝুলে থাকা পুরনো রঙিন কাগজের ক্যালেন্ডার দুলে উঠল। মনে হলো কেউ ফিসফিস করে ডাকছে।
"সুচেতা..."
সে চমকে উঠে বারান্দায় এল।
রাতের আকাশ পরিষ্কার। নাম না জানা অনেক তারার নিচে শহরটা শান্ত। দূরে কোথাও হালকা গানের শেষ অংশটুকু বাজছে। গলির আলোয় ধরা পড়ছে বাতাসে উড়ে থাকা অদৃশ্য ধুলো—যেন দিনের বাকি রঙগুলো এখনও পুরোপুরি মাটিতে নামেনি।
হঠাৎ তার মনে পড়ল—বহু বছর আগে, এক দোলের রাতে, সে আর অর্জুন ছাদে বসেছিল। সেদিনও এমনই আকাশ ছিল। তারা দুজনেই রঙে ভেজা। সুচেতা হেসে বলেছিল, "দেখিস, বড় হলে আমরা এই দিনটা ভুলে যাব।"
অর্জুন বলেছিল, "আমরা ভুললেও রঙের এই উৎসব ঠিক মনে করিয়ে দেবে।"
তখন তারা দুজনেই বিশ্বাস করত, পৃথিবী খুব সহজ।
আজ এত বছর পর, সেই কথাটা যেন বাতাসে ফিরে এল।
রাত বাড়তে থাকল।
সুচেতা ঘুমোতে গেল, কিন্তু ঘুম এল না। চোখ বন্ধ করলেই রঙের ভেতর ছবি ভেসে উঠছে। শৈশব, কৈশোর, আজকের নদীর ধারের আলো—সব মিলেমিশে এক অদ্ভুত কোলাজ।
কোনো এক সময় সে যেন স্বপ্ন আর জাগরণের মাঝখানে পৌঁছে গেল।
সে দেখল—পুরো শহরটা বর্ণহীন হয়ে গেছে। একেবারে নতুন ক্যানভাসের মতো। বাড়ি, রাস্তা, গাছ—সব বর্ণহীন।আকাশও রঙহীন।
সে একা দাঁড়িয়ে আছে।
তার হাতে একটা ছোট থালা। তাতে লাল আবির।
দূরে অর্জুন দাঁড়িয়ে। তার হাতেও রঙ।
কিন্তু তারা কেউই এগোচ্ছে না।
ঠিক তখন আকাশ থেকে হালকা গোলাপি ধুলো ঝরতে শুরু করল। মৃদু, ধীর। যেন বসন্তের তুষারপাত।
সেই ধুলো মাটিতে পড়েই ফুল হয়ে ফুটে উঠছে—পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণচূড়া।
সে এক পা এগোল। অর্জুনও এগোল।
দুজনের মাঝখানের ধূসর মাটি হঠাৎ রঙিন নদীতে বদলে গেল। লাল-হলুদ-নীল স্রোত বইছে। নদীটা থামছে না, আবার ভাসিয়েও নিয়ে যাচ্ছে না। শুধু প্রবাহিত।
"ভয় পাস না," দূর থেকে অর্জুনের কণ্ঠ এল। "রঙ ডুবিয়ে দেয় না।"
সুচেতা নদীর ভেতর পা রাখল।
জল নয়—মোলায়েম আবির। তার পায়ের ছাপের জায়গায় ফুল ফুটে উঠছে।
হঠাৎ তার ঘুম ভেঙে গেল।তখন ভোর।
জানালার ফাঁক দিয়ে আলো ঢুকছে। বাইরে আবার সাধারণ সকাল। মিউনিসিপালিটির ঝাড়ুদার ঝাড়ু দিচ্ছে, রাস্তায় জল ছিটাচ্ছে। শহর তার প্রতিদিনের চেহারা ফিরে পাচ্ছে।
সুচেতা বিছানায় উঠে বসে রইল।
স্বপ্নটা তখনো অদ্ভুতভাবে স্পষ্ট।
সে জানালার দিকে এগিয়ে গেল। বারান্দায় কাল রাতের গোলাপি আস্তরন এখনও আছে। কিন্তু তার ওপর ছোট্ট একটা পলাশের পাপড়ি পড়ে আছে।
সে নিশ্চিত—কাল এটা ছিল না।
সুচেতা সেটা তুলে নিল।
পাপড়িটার গায়ে হালকা লাল রঙের দাগ। যেন কেউ ছুঁয়ে দিয়েছে।
ঠিক তখন ফোন বেজে উঠল।
অর্জুন।
"ঘুম ভাঙিয়েছি?" তার কণ্ঠে হাসি।
"না," সুচেতা বলল। "আমি তো জেগেই ছিলাম।"
"আজ সকালে হাঁটতে যাবি? নদীর ধারে?"অর্জুন বলল।
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে সুচেতা বলল, "যাব।"
নদীর ধারে আজ অন্য রকম শান্তি।
রঙের চিহ্ন প্রায় নেই। কেবল জল একটু গাঢ়, যেন গতকালের উচ্ছ্বাস এখনও মিশে আছে।
অর্জুন পাশে এসে দাঁড়াল। দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ।
"কাল রাতে একটা স্বপ্ন দেখলাম," সুচেতা বলল।
"আমি-ও," অর্জুন হেসে উঠল।
তারা দুজনেই থামল।
"সবকিছু ধূসর – বিবর্ণ ," সুচেতা বলল।
অর্জুন তাকিয়ে রইল। "আর তারপর?"
"রঙ নিজে থেকেই নেমে আসলো।"সুচেতা বলল।
অর্জুনের চোখে এক মুহূর্তের জন্য বিস্ময় ঝলক দিল।
"আমার স্বপ্নেও," সে ধীরে বলল, "আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম। মাঝখানে নদী। কিন্তু সেটা রঙের।"
তারা দুজনেই হেসে ফেলল।নদীর ওপরে তখন সকালের রোদ পড়েছে। সোনালি আলো জলে মিশে একধরনের নরম আভা তৈরি করেছে—যেন অনেকদিন পরে সব রঙ সেখানে গিয়ে থিতু হয়েছে।
-------------------------------- 
লেখক
উৎপল সরকার, নিউটাউন, আলিপুরদুয়ার, জেলা :- আলিপুরদুয়ার। 


Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.