গল্প।। শেষ চিঠির আগে: অপেক্ষার প্রেম ।। আদিল হোসেন মাহি


 

ছবিঋণ - ইন্টারনেট 


শেষ চিঠির আগে: অপেক্ষার প্রেম

আদিল হোসেন মাহি


কলকাতার এক ভীষণ বর্ষার বিকেল। কফিহাউসের জানালার পাশে দাঁড়ানো অদিতিকে দেখে অরিন্দম বুঝল—সময় সবকিছু বদলাতে পারে, কিন্তু কিছু স্মৃতি স্থির থাকে।

তাদের পরিচয় হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে, বাংলা বিভাগের করিডোরে। অদিতি হাতে রবীন্দ্রনাথের "শেষের কবিতা" নিয়ে দাঁড়িয়েছিল। অরিন্দম হেসে বলেছিল, "শেষ দিয়ে শুরু করছ?" অদিতি চোখে হাসি নিয়ে উত্তর দিয়েছিল, "সব শুরুর মধ্যেই শেষ লুকানো থাকে।"

বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে প্রেমে বদলাল। কলেজ স্ট্রিটের ভিড়, চায়ের কাপ আর কবিতার তর্ক—সবকিছুর মাঝেই তারা একে অপরকে পড়ছিল। বিশেষ করে এক সন্ধ্যায়, চায়ের গ্লাসের পাশে বসে তারা দু'জনেই অমলিন স্বপ্নের কথা বলত।

কিন্তু পড়াশোনার পরে বাস্তবতা এসে দিল দূরত্ব। অরিন্দম দিল্লি চলে গেল, অদিতি কলকাতায় রয়ে গেল। প্রথমে চিঠি আসত নিয়মিত, ফোনও হত। কিন্তু কেবলমাত্র কথার ফাঁক বাড়তে লাগল। একদিন অদিতি লিখল, "আমাদের সম্পর্ক কি শুধু স্মৃতি হয়ে যাচ্ছে?" অরিন্দমের দেরি—সেই দেরি তাদের সবচেয়ে বড় দূরত্ব হয়ে দাঁড়াল।

মাস কয়েক পরে অরিন্দম কলকাতায় এল। বাড়িটি বিক্রি, অদিতি এক স্কুলে পড়াচ্ছে। খুঁজে পেল না—ভয়, অনিশ্চয়তা আর অপরাধবোধ তাকে থামাল।

বছর কেটে গেল। এক বর্ষার বিকেলে ফোন এলো। অদিতির কণ্ঠ—শান্ত, স্থির।
"আমি বিয়ে করছি, অরিন্দম। অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছি।"

ফোন কেটে, অরিন্দম ড্রয়ারের উপর বসে চিঠি লিখল—
"প্রেম সব সময় কাছে থাকা নয়। কখনও কখনও ছেড়ে দেওয়াও প্রেম। তুমি সুখী হও।"

চিঠিটা সে পোস্ট করল না। ড্রয়ারে রেখে দিল।

বহু বছর পরে সাহিত্যসভায় দূর থেকে দেখল অদিতিকে। পাশে স্বামী, কোলে ছোট্ট মেয়ে। অরিন্দম এগোল না, শুধু মনে মনে বলল,
**"শেষ দিয়ে যে শুরু হয়েছিল, তার শেষটা আজ পূর্ণ হলো। কিছু প্রেম শেষ হয় না—তারা কেবল শেষ চিঠির আগে থেমে থাকে।"
================= 

নাম= আদিল হোসেন মাহি।
ঠিকানা= সানকিপাড়া ময়মনসিংহ।
দশম শ্রেণীর ছাত্র। 




Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.