গল্প ।। ভুল বসন্ত ।। জনি সিদ্দিক


 
ভুল বসন্ত
 
জনি সিদ্দিক
 

ঢাকার আজিমপুর পলাশীর বাজারের এক সরু গলিতে তিনতলা বিল্ডিংয়ের ছাদের উপর ছোট্ট একটি রুমে অমিত থাকত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র সে। বাবা–মা টাঙ্গাইলের করটিয়ার এক গ্রামে থাকেন। গরিব পরিবারের একমাত্র সন্তান সে। টানাটানির সংসার, তাই অমিত টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা আর ব্যক্তিগত খরচ চালায়। গরিব হলেও তার ভেতর ছিল অদম্য ইচ্ছাশক্তি—একদিন বড় চাকরি পাবে, ভাল মানের বেতন পাবে, আর তা দিয়ে পরিবারকে সুখে রাখবে; এই ছিল তার লক্ষ্য। সে দিনে তিনটি টিউশনি করত। এক ঘণ্টা করে বিকেল পাঁচটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত।
সর্বশেষ টিউশনিটা রাত আটটায় মিতুদের বাসায়। ওদের বাসাটা পিলখানা রোডে। মিতু আর মায়া দুই বোন । ওরা দু’জনেই আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়ে । ওদের বাবা–মা দু’জনেই ব্যবসায়ী । মিতু ক্লাস ফাইভে পড়ে আর মায়া ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে । মায়াদের বাসায় অমিত প্রায় বছর খানেক যাবত আসা–যাওয়া করছে । ওর আচার–ব্যবহার আর মেধায় মুগ্ধ হয়ে মিতুর বাবা অমিতকে আর চেঞ্জ করেননি । অনেকটা নিজের ভাতিজার মতোই ভাবেন । পরিবারের সবাই ওকে বেশ পছন্দ করে । মায়া আর মিতু ধনী পরিবারের মেয়ে । তাই আধুনিক জীবনযাপন করে ।

কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এই দীর্ঘদিন পরস্পরের সাথে চলাফেরা করতে করতে মায়া খুব সহজেই অমিতের সাদামাটা কথাবার্তা, নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে যায় । কথায় আছে—“মনের ভেতর কাউকে যদি একবার ভাল লেগে যায়, তাহলে আর কারো হিতাহিত জ্ঞান থাকে না! যার যাকে ভাল লাগে, সে তাকে নিয়েই সবসময় ভাবতে থাকে । তাকে ছাড়া কোনো কিছু বোঝে না । ”

একদিন মিতুর প্রাইভেট পড়া শেষে মায়া অমিতকে বলল— “ভাইয়া, আপনার কি একটু সময় হবে ? এই মিনিট দশেক । কফি খাওয়ার সময়টুকু । একটু কথা ছিল । ”
অমিত উত্তর দেয়— “শিওর সিস্টার, হোয়াই নট ? ”
পরে দুজনেই ফ্ল্যাটের নিচে একটি কফি শপে গল্প করতে থাকে । কফির কাপে মৃদু ঝড় ওঠে । আবার এর চাইতে বেশি ঝড় উঠে মায়ার বুকের ভেতর । হৃদয়ের গহীনে যেন হাতুড়ি পেটানোর শব্দ হচ্ছিলো । কিভাবে কথাটা বলবে সে ভেবে পাচ্ছিল না । মায়াকে নীরব দেখে অমিতই প্রথমে নীরবতা ভেঙে কথা বলে—“কি যেন বলবে ? বলেছিলে সিস্টার । ”
অমিতের আচমকা প্রশ্ন শুনে মায়ার হাতুড়ি পেটানোতে সাময়িক ছেদ পড়ে । সম্বিত ফিরে পায় । উত্তর দেয় অমিতের প্রশ্নের— “ও হ্যাঁ ভাইয়া, বলছিলাম— হ্যাভ ইউ এভার ফলেন ইন লাভ ? ”
মায়ার মুখে আচমকা এমন প্রশ্ন আশা করেনি অমিত । তাই কিছুটা হতবাক হয়ে রিপ্লাই দিল— “নো সিস্টার, লাভ ইজ নট ফর মি । বিকজ প্রেম মানুষের স্বপ্ন ভেঙে দেয় । যারা প্রেম করে তাদের স্বপ্ন আর স্বপ্ন থাকে না । মাই লাইফ ইজ অনলি এ স্ট্রাগল । ”
অমিতের কনফিডেন্টলি স্ট্রং উত্তরে আর কি বলবে মায়া ভেবে পায় না । আবার কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে— “বাট, কেউ যদি রিয়েলি আপনাকে ভালোবেসে ফেলে ? ”
অমিত মায়ার প্রশ্ন শুনে দৃষ্টি নিচে নামিয়ে ফেলে । কিন্তু মনে মনে অদ্ভুত এক ঢেউ খেলে গেল ওর হৃদয় গহীনে । ও সেটা মায়াকে বুঝতে দেয় না । বরং কার্যকরী উত্তর দেয়— “শোনো মায়া, একজন আরেকজনকে ভালবাসতেই পারে, লাইক করতেই পারে । তার মানে এই না যে সেটা প্রেমে পরিণত হবে । প্রেম হলো নেশা, আর ভালোবাসা হলো মনের টান । ঠিক আছে সিস্টার, আজকের মতো আল্লাহ হাফেজ । ”
কথাগুলো বলেই কফি শপ ত্যাগ করে অমিত । যদিও অমিত কথাগুলো বলেছিল, কিন্তু তারপরও তার মনের মধ্যে একটু দুর্বলতা তৈরি হয়ে গেছে! আসলে মানুষের মন কখন কার প্রেমে পড়ে আর কার প্রতি মনের টান তৈরি হয়ে যায় এটা কেউ গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারে না ।

দিন যতই যাচ্ছিল, দু'জনের দূরত্ব কমছিল । আলাপ বাড়ছিল, কখনো কৌতুক, কখনো হাসি–ঠাট্টা । মায়া মাঝে মাঝে চকলেট এনে দিত, নতুন জামা কিনে দিতে চাইলে অমিত লজ্জা পেত, তবে এক সময় তার মনে হতো—মায়ার সাথে থাকলে পৃথিবীটা অন্যরকম লাগে । কেন জানি মনের মধ্যে ভালো লাগা কাজ করে ।

এভাবে কেটে যায় মাস ছয়েক । এক বিকেলে মায়া অমিতকে এক কাপ কফি অফার করে । রাজি হয় অমিত । রেস্টুরেন্ট বয় লাভ শেপের নকশা করা দুই কাপ স্পেশাল কফি দেয় দুজনকে । নকশাটা দেখতে অসাধারণ লাগছিল । দুজন কফিতে চুমুক দিতে দিতে গল্প শুরু হয় ।
মায়া কফি পানের এক মুহূর্তে হঠাৎ অমিতের হাত ধরে বলল— “অমিত ভাইয়া, আই লাভ ইউ । আই লাভ ইউ সো মাচ । আমি তোমার সঙ্গে বাকি জীবন কাটাতে চাই । ”
অমিত চমকে উঠে । যদিও সে মায়ার প্রতি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তবু সে নিজেকে কন্ট্রোল করে বলল— “তুমি কি পাগল সিস্টার! তোমার পরিবার যদি জেনে ফেলে, তারা আমাকে মেরে ফেলবে! তারা আমাকে অনেক বিশ্বাস করে । আমি তাদের এই বিশ্বাসের অমর্যাদা করতে পারি না । এন্ড মাই লাইফ ইজ নট ইজি! তুমি আমার জীবন মানিয়ে নিতে পারবে না ?”
মায়া দৃঢ়ভাবে উত্তর দিল—“আমি তো তোমাকে ছাড়া বাঁচব না । প্রয়োজনে আমি সব ছেড়ে আসব । যেকোনো কিছুর মূল্যে আমি তোমাকে চাই । আমি তোমাকে কাছে পেলে সব প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে যাব । ”
প্রথমে অমিত দ্বিধায় ছিল । কি করবে ভেবে পাচ্ছিল না । অবশেষে মায়ার নাছোড়বান্দা মনোভাবের কাছে ভালোবাসার টানে সেও হার মানে । এরপর শুরু হয় তাদের নতুন পর্ব ।

এভাবে চলতে থাকে আরো কয়েক মাস । ওদিকে অমিতের পড়াশোনা শেষ হয়ে যায় । চাকরির খোঁজে হন্য হয়ে আবেদন করতে থাকে । এই অবস্থায় ওদের সম্পর্ক আরো গভীর হয় । কেউ কাউকে না দেখে থাকতে পারে না । মায়ার পরিবার এ সম্পর্ক মেনে নেবে না সেটা ওরা দুজনেই জানে । তাই মায়া বলেছিল অমিতকে, সে যেকোনো মুহূর্তে তার কাছে চলে আসবে ।
কিন্তু ঘটনাক্রমে তাদের সম্পর্কের কথা মায়ার বাবা–মা জানতে পারে । মায়াকে ঘরে বন্দি করে রাখে । বন্ধ হয়ে যায় অমিতের মিতুর টিউশনিটা । অবশ্য এর মাসখানেক পরে ছোট–খাটো একটা চাকরির ব্যবস্থা হয়ে যায় অমিতের । অমিত মায়ার আশায় বাসা চেঞ্জ করে ফেলে ।
এক রাতে মায়া সত্যিই পরিবার ছেড়ে অমিতের ছোট্ট ভাড়া বাসায় চলে এল । পরদিন উভয়েই কোর্ট ম্যারেজ করে নেয় যেন পরবর্তীতে ঝামেলা না হয় ।
এরপর প্রথম বছরটা যেন রূপকথার মতো কাটে ওদের । বছর পার হয়ে গেলেও মায়ার বাবা–মা আর কোনোদিন খোঁজখবর নেয়নি ।

দুজন মধুর সময় পার করছে । জীবনটা ওদের কাছে স্বপ্নের মতো মনে হয় । রাতে ছাদে বসে দুজনে চাঁদ দেখা, একসাথে রান্না করা, হাসি–ঠাট্টায় কাটানো সময় । ছুটির দিন উদ্যানে একসাথে হাতে হাত ধরে ঘোরাঘুরি করার ফিলিংসই অন্যরকম । মায়া বলত— “দেখেছো জান আমার, আমি বলেছিলাম, শুধু ভালোবাসা থাকলেই সব হয় । আমি তোমাকে পেয়ে অনেক খুশি, জান পাখি । আই লাভ ইউ সো মাচ ডিয়ার । আই অ্যাম ভেরি হ্যাপি । ”

অমিতও তখন মনে করত সত্যিই তাই । ভালোবাসার মানুষকে কাছে পেলে, জড়িয়ে ধরলে সব দুঃখ–কষ্ট দূর হয়ে যায় । ওদের জীবনটা আবেগের নদীতে পাল তোলা নৌকার মতো বয়ে যায় ।

কিন্তু সুখের স্বপ্নময় দিনগুলো বেশিদিন টেকে না । ঢাকা শহর আবেগের জায়গা নয় । ঢাকা শহর মানে টাকার শহর, টাকার খেলা । নিয়তি যখন পক্ষে থাকে না, তখন কোনো কিছুই সাথে থাকে না ।

এদিকে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়ে যায় । সরকার পরিবর্তন হয় । বেশ কিছু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যায় । অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় । চাকরির সোর্স কমে, সাথে অনেক লোক বেকার হয়ে যায় । এর মধ্যে অমিতও একজন । নতুন চাকরির পাশাপাশি সে আগের বাকি দুটো টিউশনিও চালাত । কিন্তু এখন দুটো টিউশনির টাকায় নিজের সংসার আর বাড়ির বাবা–মায়ের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে । সংসারে দেখা দেয় অভাব । অনেক কষ্ট করেও নতুন কোনো চাকরি ম্যানেজ করতে পারে না ।

কোনো উপায় না পেয়ে অমিত রিকশা চালানো শুরু করে । রিকশা চালানোর মতো কঠিন কাজ করতে করতে হাত দুটো শক্ত হয়ে যায় । কঠিন পরিশ্রম আর অত্যধিক টেনশনে চেহারা শুকিয়ে যায় । কিন্তু কখনো মায়াকে সেটা জানতে দেয় না । নরম তুলতুলে হাত হঠাৎ করে এমন শক্ত হয়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকবার এর কারণ জিজ্ঞাসা করে মায়া । কিন্তু অমিত এড়িয়ে যায় । বলে হয়তো কোনো রোগ হয়েছে । কিন্তু শহুরে ধনীর দুলালী মায়া এটা বুঝতে পারে না যে— হাত দিয়ে কঠিন পরিশ্রম করলে হাতের তালু শক্ত হয়ে যায় ।

অল্প ইনকামের টাকায় দুই সংসার চালাতে কঠিন বেগ পেতে হচ্ছে অমিতের । বাসা ভাড়ার টাকা, খাবারের টাকা জোগাড় করা বেশ কঠিন হয়ে গেল । সবকিছু মিলিয়ে তিনবেলা খাবারের টাকা মাঝেমধ্যে থাকত না । একদিন মায়া ক্ষুধার্ত হয়ে কেঁদে ফেলে, আর বলল— “অমিত, আমি এত কষ্টের জন্য আসিনি । আমার অভ্যাস এমন ছিলনা । মানিয়ে নিতে পারছিনা। ”

অমিত রেগে গিয়ে বলে— “তাহলে কেন এসেছিলে? আমি তো বলেছিলাম , আমার জীবন সহজ নয় । তুমি মানিয়ে নিতে পারবে না । তখন শুনেছিলে আমার কথা? তুমি বলেছিলে, যত কষ্টই হোক তুমি আমার সাথে মানিয়ে নেবে । ”

এরপর মাঝেমধ্যে ছোট ছোট ঝগড়া–ঝাটি শুরু হয় । কখনো ক্ষুধার জন্য, আবার কখনো টাকার অভাবের কারণে । মায়া ধনী জীবনে অভ্যস্ত ছিল, প্রতিদিনের এই অভাবে তার ধৈর্য ভাঙতে থাকে ।
একদিন অমিত টিউশনি থেকে ফিরে দেখে মায়া বসে আছে বিষণ্ণ মুখে । তা দেখে জিজ্ঞেস করে— “কি হয়েছে?”

মায়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে উত্তর দেয়— “জান আমার, আমি জানি তুমি চেষ্টা করছ, কিন্তু আমি কি এভাবে বাকি জীবন কাটাতে পারব? ভালোবাসা দিয়ে কি পেট ভরে ? ”

মায়ার এ কথা শুনে অমিতের বুকটা ধক করে উঠল । উত্তর না দিয়ে উল্টো প্রশ্ন করে — “তুমি কি করতে চাইছ? তাহলে তুমি আমাকে ছেড়ে কি চলে যাবে?” 
— “আমি জানি না… কিন্তু আমি শান্তিতে থাকতে চাই । ” মায়া জবাব দেয় ।

সেদিন রাতে দু’জনেই ঘুমাতে পারেনি । অমিত ভেবেছিল— মায়া তো বলেছিল তাকে পেলে সব সহ্য করে থাকতে পারবে, তবে এখন কেন পাল্টে যাচ্ছে? কি কারণ? শুধু কি অভাবই এর মূল কারণ?

কিছুদিন পর অমিত টের পেল, মায়া লুকিয়ে পরপুরুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে । একদিন তা বুঝতে পেরে রাগে কাঁপতে কাঁপতে সে জিজ্ঞেস করল— “তুমি কি আমার সাথে প্রতারণা করছ?”
মায়া কেঁদে ফেলে বলে— “না অমিত, আমি শুধু একটু স্বস্তি খুঁজছি । আমি ভুল করেছিলাম । ভেবেছিলাম শুধু ভালোবাসায় মানুষের জীবনে যথেষ্ট । কিন্তু এখন বুঝতে পারছি ভালোবাসার সাথে অর্থনৈতিক সক্ষমতাও আরো বেশি দরকার । ”

মায়ার কথা শুনে অমিত চুপ করে রইল । চোখ ভিজে গেল, কিন্তু সে কান্না লুকিয়ে রাখল ।

এর সপ্তাহখানেক পর এক ভোরে ঘুম ভাঙতেই অমিত বুঝল মায়া নেই । বিছানার পাশে রাখা একটা চিরকুট—

“অমিত, আমি জানি তুমি আমাকে ভালোবাসো । আমিও ভালোবেসেছিলাম । কিন্তু আমি বাঁচতে চাই, এই অভাবের ভেতরে আমি ডুবে মরতে চাই না । আমাকে ক্ষমা করো । ভালো রেখো নিজেকে । ”

অমিত হাতে চিরকুট নিয়ে খোলা জানালা দিয়ে আকাশের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল ।
মনে পড়ে যায় সেই বিখ্যাত স্লোক—“অভাব যখন আসে ভালোবাসা তখন জানালা দিয়ে পালায়!” মনে হলো পৃথিবীর সব আলো নিভে গেছে । হৃদয়ের শান্ত শহরে যেন নয় মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে সবকিছু উলটপালট হয়ে গেছে । সে কিছুক্ষণের জন্য কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে রইল ।

অমিতের ডায়েরি লেখার অভ্যাস ছিল । নিজেকে সামলে নিয়ে ডায়েরিতে লিখল—
“ভালোবাসা সুন্দর, কিন্তু দায়িত্ব ছাড়া ভালোবাসা টেকে না। পরিবার, বাস্তবতা, ত্যাগ এসব ছাড়া প্রেম কেবল কল্পনা । আবেগের বশে নেওয়া সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত চোখে জল আনে । সত্যিকারের প্রেম হলো—যেখানে হাসি–কান্না, দুঃখ–সুখ সব একসাথে ভাগ করে নেওয়া যায়। ভালোবাসা যদি দায়িত্ব আর বাস্তবতার সাথে না মেশে, তবে তা আগুনের মতো । শুরুতে আলো দেয়, শেষে শুধু ছাই করে । আমি আজ সেই ছাই। ”
পরিশেষে দু চোখ মুছতে মুছতে কবিতা লিখল—

কলজে পোড়া গন্ধ কেমন?
কেউ কি জানে?
যখন তুমি আমাকে ছেড়ে গেলে
অমাবস্যার আঁধার আমার হৃদয়ে জায়গা নিল।
গভীর রাতে যখন বিছানায় একা;
ঘুম আসে না চোখে,
শুধুই এপাশ-ওপাশ করি।
স্মৃতির দৃশ্যপটে মোনালিসার মতো হাসিমাখা মুখখানি বারে বারে আমাকে জ্বালিয়ে ভস্ম করে দেয়!
কলজে পোড়া গন্ধ কেমন, তা কেউ জানে না।
কারণ সবাই তা দেখতে পায় না।
শুধু যার পোড়ে সেই বোঝে!
কলজে পোড়া গন্ধ কেমন? কেউ কি জানে?
কলজে পোড়া গন্ধ!
============================  


 

Uploaded Image 

আবু বক্কার সিদ্দিক জনি 

দক্ষিণ সালনা, গাজীপুর ।
বয়স-৩৪ , পেশা- বেসরকারি চাকরি
01739-029234;

 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.