ছবিঋণ- ইন্টারনেট
মাধব ও মালতি
সমীরণ সরকার
(পূর্ব কথা:--গভীর রাতে ঘোড়ার পিঠে চেপে জঙ্গলের পথ পেরিয়ে মানবেন্দ্র নারায়ণ ও পূর্ণিমা এসে উপস্থিত হলো জয়পুরের পান্থশালায়। মানবেন্দ্র নারায়ন ঘোড়াটিকে পান্থশালা থেকে একটু দূরে দাঁড় করিয়ে প্রথমে নিজে নামল, তারপর গর্ভবতী পুনিকে সন্তর্পনে নিচে নামাল। পুনিকে অপেক্ষা করতে বলে মানবেন্দ্র পান্থশালার তত্ত্বাবধায়ক জগন্নাথ পাত্রের সঙ্গে দেখা করতে এগিয়ে গেল।
নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে একা দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে নানারকম দুশ্চিন্তায় ,উৎকণ্ঠায় জর্জরিত হচ্ছিল পুনি। হঠাৎ পান্থশালার দিক থেকে উত্তেজিত কথাবার্তার আওয়াজ শুনে পুনি আরো দুশ্চিন্তায় পড়ল। চেতকের গায়ে হাত বুলিয়ে, ওকে অপেক্ষা করতে বলে, পুনি চুপি চুপি এগিয়ে গেল প্রকৃত ঘটনা জানতে। কাছাকাছি গিয়ে দেখল হাত পা বাঁধা অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে জনৈক মধ্যবয়সী ব্যক্তি। আর কপাল চাপড়ে হাউ হাউ করে কাঁদছে জনৈকা বিবাহিত স্ত্রীলোক। তার মায়ের দেওয়া গয়না গাটি সব ডাকাতি নিয়ে গেছে বলে প্রচণ্ড আক্ষেপ করছে সে আর তাকে ক্রমাগত সান্ত্বনা দিচ্ছে মাটিতে পড়ে থাকা লোকটি। মানবেন্দ্র নারায়ণকে ঘিরে লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছে চারজন হিংস্রদর্শন ব্যক্তি।)
***********†********************************
পুনি বুঝতে পারল, ওই চারজন হিংস্র দর্শন ব্যক্তিই সম্ভবত ডাকাত। ওরাই সম্ভবত স্ত্রীলোকটির গয়নাগাটি অপহরণ করেছে। কিন্তু তার থেকেও বড় সমস্যা এই মুহূর্তে এটাই যে, মানবেন্দ্র নারায়ণ নিরস্ত্র। যেকোনো মুহূর্তে যে কোন ডাকাত তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করতে পারে।
নিরস্ত্র অবস্থায় চারজন ডাকাতের সঙ্গে করা তার রাজকুমারের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। আর এই মুহূর্তে তাকে যোগান দেওয়ার মত কোন অস্ত্র পুনির হাতের কাছে নেই। নিদেনপক্ষে একটা লাঠি হলেও হতো। কারণ পুনি জানে যে, মানবেন্দ্র নারায়ণ লাঠি এবং তরবারি দুটো অস্ত্রই ভালো চালাতে জানে। কিন্তু এই মুহূর্তে পুনি কোথায় পাবে লাঠি, কোথায় পাবে তরবারি। অথচ মানবেন্দ্র নারায়ণকে রক্ষা করতে গেলে সাহায্য প্রয়োজন। তখন তার মাথায় দ্রুত একটা বুদ্ধি খেলে গেল। চেতক, হ্যাঁ, একমাত্র চেতক পারবে তার প্রভুকে সাহায্য করতে। কোন রকমে চেতককে এখানে নিয়ে আসতে পারলে মানবেন্দ্র নারায়ণ ওই ঘোড়ার সাহায্যে হয়তো বা ডাকাতদের জব্দ করতে পারবেন। আর কিছু না হোক , উনি ঘোড়ার পিঠে উঠতে পারলে, ডাকাতরা অন্তত সরাসরি ওঁকে আঘাত করতে পারবে না।
হরিণীর মত দ্রুত অথচ লঘু পদক্ষেপে পূর্ণিমা এগিয়ে গেল চেতকের কাছে। চেতক চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। পূর্ণিমা ওর কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল, চেতক, তোমার প্রভু বিপদে পড়েছে।
তোমাকে এক্ষুনি ওখানে যেতে হবে, সাহায্য করতে হবে তোমার প্রভুকে।
চেতক কী বুঝল তা সেই জানে, ও কোনরকম শব্দ না করে পূর্ণিমার গায়ে মুখ ঘষে দিল তারপর পূর্ণিমার নির্দেশ মতো তার পাশেপাশে এগিয়ে চলল।
অকুস্থলের একটু দূরে এমন জায়গায় চেতককে দাঁড় করালো পূর্ণিমা যে, সেখান থেকে চেতক পুরোটা দেখতে পাচ্ছিল।
মিনিট কয়েক পার হতেই হঠাৎ তীব্র জোরে চিৎকার করে উঠলো চেতক। অকস্মাৎ ঘোড়ার ডাক শুনে ডাকাতের দল চমকে উঠলো, ঘাবড়িয়ে গেল কেউ কেউ। আর ঠিক সেই অবসরে চেতক ছুটে গেল তার প্রভুর কাছে। বিন্দুমাত্র কালক্ষেপ না করে মানবেন্দ্র নারায়ণ প্রায় ঝাঁপিয়ে চাপল চেতকের পিঠে। আর সেই মুহূর্তেই ওদের দলের সর্দার লাঠি দিয়ে মানবেন্দ্র নারায়ণকে আঘাত করতে উদ্যত হলো। তড়িৎ গতিতে চেতক লাফিয়ে উঠে সামনের দুটো পা জোড়া করে আঘাত করলো আক্রমণকারীকে। ও মাটিতে পড়ে গেল।
ততক্ষণে পূর্ণিমা পৌঁছে গেছে হাত-পা বাঁধা লোকটার কাছে।। অতি দ্রুত তার হাত পায়ের বাঁধন খুলে তাকে মুক্ত করল। মানবেন্দ্র নারায়ণ চিৎকার করছে, অস্ত্র, একটা অস্ত্র, নিদেন পক্ষে একটা লাঠি দাও আমাকে।
পূর্ণিমা লোকটার হাত পায়ের বাঁধন খুলে দিতে দিতে জিজ্ঞাসা করল, শুনতে পাচ্ছেন না, তাড়াতাড়ি একটা লাঠি দিন কুমারকে। লোকটা ঘরের কোণে রাখা একটা বল্লম দেখিয়ে দিল ইশারায়। পূর্ণিমা এক ছুটে ওটা নিয়ে এসে ছুঁড়ে দিল মানবেন্দ্র নারায়ণের দিকে। চেতক তখন ইচ্ছেমতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ক্ষুদ্র রণক্ষেত্র। মানবেন্দ্র নারায়ণ এবার বল্লম হাতে ডাকাতদের লাঠির মোকাবিলা করতে শুরু করলো। স্ত্রীলোকটি তখনো তার অপহৃত গয়নার জন্য বিলাপ করে যাচ্ছিল। ঘোড়ার পিঠে চেপে মানবেন্দ্র নারায়ণ যেভাবে বল্লমের সাহায্যে ডাকাত দলের আক্রমণ প্রতিহত করছিল এবং মাঝে মাঝে সুযোগ বুঝে বল্লমটির সাহায্যে ডাকাতদের পাল্টা আঘাত করছিল, তাতে ডাকাতরা ক্রমাগত পিছু হটছিল। বেগতিক বুঝে ডাকাতদের একজন একরকম ছুটে গিয়ে অনতি দূরে একটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে রাখা রণ পা বের করল। তাতে চেপে পালানোর উদ্যোগ নিল ওরা। স্ত্রীলোকটি তখনও মাটিতে বসে তার অপহৃত গয়নার জন্য আক্ষেপ করছিল।
মানবেন্দ্র নারায়ণ ডাকাতদের উদ্দেশ্যে বলল, তোরা ভালো চাস তো স্ত্রীলোকের গয়না ফেরত দিয়ে যা।
ডাকাতরা সে কথায় কর্ণপাত না করে রণ পায়ে চেপে পালাতে শুরু করল। মানবেন্দ্র নারায়ণ বল্লম হাতে ঘোড়ায় চেপে ওদের তাড়া করতে শুরু করল। পিছন থেকে পূর্ণিমা অনেক নিষেধ করলেও সে কথায় কর্ণপাত করলো না।
===================================
চলবে
Regards
Dr. Samiran Sarkar
Khelaghar, Lautore,
P.O : Sainthia, Dist : Birbhum.
W.B - 731234
Mob : 8509258727
Dr. Samiran Sarkar
Khelaghar, Lautore,
P.O : Sainthia, Dist : Birbhum.
W.B - 731234
Mob : 8509258727

