বড়দিনের কেক
অঞ্জনা মজুমদার
শিবুর আর বন্ধু বিশু পঁচিশে ডিসেম্ববর বড়দিন এর জন্য কেক কিনতে এসেছে। বোনেরা বায়না করেছে, দাদা বড়দিনে কেক খাব সবাই মিলে একসাথে।
ভারি সুন্দর করে সাজানো কেকের নতুন দোকানটা। বড় বড় তারা ঝুলছে। চার্চের সিস্টার বলেছেন, যীশুর জন্মের সময় যাজকদের আকাশে এই তারাই পথ দেখিয়ে বেথলহেমে আস্তাবলে যীশুর কাছে পৌঁছে দিয়েছিল। বাইরে সান্তাক্লজ দাঁড়িয়ে আছে, কি সুন্দর সাদা চুল দাড়ি। দোকানে এই সান্তার একটা মজার ব্যাপার আছে। বাচ্চারা সান্তার হাতের নীচে হাত পাতলেই একটা করে ছোট্ট লজেন্স পড়ছে। দোকানে না ঢুকেই লজেন্স উপহার পেতে শিবু আর বিশু খুব খুশি।
একটি মেয়ে, শিবুদের বয়সী হবে, সুন্দর সাজগোজ করা বাইরে বেরিয়ে এল।
ভেতরে এসো, কেক নেবে তো?
সাজানো দোকানে ঢুকতে একটু সঙ্কোচ হচ্ছিল শিবুর। ভেতরে কত রকমের কেক। কাচের শো কেসে রাখা, গায়ে দাম লেখা আছে। দাম দেখে শিবুর মনটা দমে গেল। ওদের কাছে দুজনের মিলিয়েও সবচেয়ে কম দামের কেকটা কেনার টাকা নেই।
বিশু হাত টেনে ধরে ফিসফিস করে বলল, চল আমরা অন্য দোকানে যাই।
মেয়েটি শুনতে পেল কি? একগাল হেসে বলল, আজ পঁচিশে ডিসেম্বর, বড়দিনের জন্য সব কেকে ডিসকাউন্ট আছে। তোমাদের কোনও সমস্যা হবে না। আমার মা আজকে দোকানের জন্মদিনে তোমাদের জন্য ফিফটি পারসেন্ট ডিসকাউন্ট দেবেন, তাই না মা?
এতক্ষণে শিবু দেখল ক্যাশ কাউন্টারে একজন মহিলা। মিস্টি হেসে বললেন, ইয়েস মিস্টি মা আজ পঁচিশে ডিসেম্বর আমাদের দোকানের জন্মদিন তাই সব কেকেই ফিফটি পারসেন্ট ডিসকাউন্ট আছে। ফিফটি পারসেন্ট ডিসকাউন্ট মানে বুঝতে পারছো তো?
শিবু বলল, বুঝতে পারছি অর্ধেক দাম দিতে হবে, তাই তো?
মহিলা মৃদু হাসলেন, বাঃ! তুমি তো ভালোই অঙ্ক জানো।
বিশু উজ্জ্বল মুখে বলল, শিবু খুব ভালো ছাত্র। আমাদের ক্লাস ফাইভে ও প্রথম হয় সব বিষয়ে।
তাই নাকি? তোমরা সব ক্লাস ফাইভে পড়ো? তবে তো তোমরা সবাই মিস্টির বন্ধু।
বলে ছোট ছোট কাগজের প্লেটে করে ছোট্ট ছোট্ট কেক নিয়ে শিবুদের হাতে দিলেন।
শিবু ইতস্তত করছে দেখে বললেন, শিবু তোমার মাসিমা কাকিমারা ভালবেসে কিছু দিলে খাও তো? মনে কর আমি তোমাদের মায়ের বোন।
শিবুরা আর দেরি করল না। প্লেটে দেওয়া চামচ দিয়ে একটু একটু করে কেক কেটে কেটে খেয়ে নিল। বিশু বলল, ভারি সুন্দর খেতে। বোনকে যদি খাওয়াতে পারতাম!
শিবু বলল, আন্টি কেকটা খুব ভালো খেতে।
বলে কাচের শো কেসে একটা কেক দেখিয়ে বলল, তবে আমরা কিন্তু ওই কেকটা কিনে বাড়ি নিয়ে যাব। আমাদের কাছে ওই কেকের ফিফটি পারসেন্ট দাম সত্যিই আছে।
আন্টি হাসলেন, ঠিক আছে দাও। তোমাদের সেল্ফ রেসপেক্ট দেখে আমার খুব ভালো লাগছে। বড় হয়ে এমনই থেকো। মিস্টি, কেকটা প্যাক করে দাও।
মিস্টির প্যাক করা কেক নিয়ে দৃঢ় পদক্ষেপে শিবু আর তার বন্ধু এগিয়ে চলল তাদের পাড়ার দিকে। ওখানে ওদের পরিবারে বোনেরা অপেক্ষা করে আছে বড়দিনের কেক খাবে বলে। সবাই মিলে একসাথে খাবে।
ওই চার্চের সিস্টার বলেন, মেরী ক্রিসমাস। ওরাও পাড়ায় ঢুকে বলল, মেরী ক্রিসমাস। মুখে সবার তৃপ্তির হাসি আর হাতে বড়দিনের কেক।
==============
অঞ্জনা মজুমদার
এলোমেলো বাড়ি
চাঁদপুর পল্লি বাগান
পোঃ রাজবাড়ি কলোনি
কলকাতা।

