বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন :

মুক্তগদ্য ।। একদিনের মিলনমেলা (পিকনিক) ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত


 

 পিকনিক      

মানস কুমার সেনগুপ্ত

                            

                          পিকনিক, চড়ুইভাতি বা বনভোজন যেভাবেই বলা হোক না কেন, আসলে শৈশব থেকেই বুঝতে পেরেছি বাঁধাধরা দৈনন্দিন জীবনের বাইরে এ এক অন্য আনন্দের স্বাদ । পারিবারিক পিকনিক বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে পিকনিক যেন এক মিলনমেলা। আসলে শীতকাল এসে গেলেই পিকনিকের  একটি দিন ঠিক করে কাছে - দূরে কোথাও বেড়িয়ে পরা, আজও স্বল্প সময়ের জন্য হলেও সেই বিশেষ দিনটি আমাদের জীবনে যেন অপরিহার্য। একটা সময় ছিল যখন পিকনিকের বাজার করা থেকে শুরু করে, রান্না, পরিবেশনের দায়িত্ব নিতেন বিশেষ কয়েকজন। বাগানবাড়ি বা নদীর পাড়ের পিকনিকের আনন্দে আজকাল আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। কাছে -দূরে বাসভাড়া করে গিয়ে পিকনিকে গিয়ে অনেক সময়েই দেখা যেত নিজেরাই রান্না করতে গিয়ে অনেক বিড়ম্বনা।  পাঁঠার মাংসটাই হয়তো ভালো করে সেদ্ধ হয়নি, ভাত একটু নরম বা শক্ত। কিন্তু তাতে মিলনমেলার বাৎসরিক আনন্দে এতটুকু ছেদ পড়ত না। আসলে আমাদের সহজ-সরল অনাড়ম্বর জীবনে পিকনিক বা চড়ুইভাতি ছিল এক অনাবিল আনন্দের একটি দিন। যুগ পাল্টেছে, সময় পাল্টেছে। পিকনিকের উদ্যোগ আয়োজনেও হয়তো তাই লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া । এখন রিসর্ট বুকিং থেকে শুরু করে, ক্যাটারার দিয়ে রান্না, পরিবেশনের দায়িত্ব, যাতায়াতের গাড়ি বুকিং সবই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের জীবনে নানা উৎসব, আনন্দের মতো পিকনিক বা চড়ুইভাতিও আজ সময়ের দাবিতে, আয়োজনের নানা অনুষঙ্গে সময়ের সঙ্গে চলেছে। তবে যাই হোক না কেন, বছরের শীতের একটি দিন পিকনিক, চড়ুইভাতি বা বনভোজন এক সামাজিক বা পারিবারিক মিলনমেলার স্বাদ বয়ে আনে।

================= 


মানস কুমার সেনগুপ্ত, ১৭/৮, আনন্দ মোহন বসু রোড, দমদম, কলকাতা ৭০০০৭৪, 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.