বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন :

অণুগল্প ।। ভ্রান্তি দর্শন ।। শংকর ব্রহ্ম

 

  ভ্রান্তি দর্শন

শংকর ব্রহ্ম



                  ভোর হবার আগে নাকি নদীর মোহনায় প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। সেই লোভে স্থানীয় জেলেরা ঐ সময়টা মাছ ধরার জন্য বেছে নেয়। যারা ঐ সময়ে মাছ ধরতে গেছে, তাদের অনেকেরই একটা না একটা অদ্ভুত ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

                  এক রাতে পরাণ মাঝি ভাইপো মানিককে নিয়ে মাছ ধরতে যায়। রাত প্রায় দুটোর সময় নদীর বাতাস হঠাৎ একেবারে থেমে যায়। ঝড়ের পূর্বাভাস। 

                   তিনি মানিককে বলেন হাল ঘুরিয়ে ফিরতি পথ ধরতে। মাছ ধরতে ধরতে অনেকটা ভেতরে চলে গিয়েছিল তারা। হঠাৎ লক্ষ্য করে, কিছুটা দূূর দিয়ে একটি যাত্রীবাহী নৌকা যাচ্ছে। নৌকার উপরে একটা অদ্ভুত রঙের বাতি জ্বলছে। লালচে আভা বের হচ্ছে, তার থেকে। মানুষগুলো হয়তো বিপদে পড়েছে ভেবে দ্রুত বৈঠা বেয়ে মানিক তাদের সাহায্যের জন্য, ঐ যাত্রীবাহী নৌকার পাশাপাশি চলে যায়। নৌকার ভেতরটা দেখে চমকে উঠে পরাণ মাঝি। কোনো চালক নেই নৌকার। নৌকার পাটাতনে পরে আছে একগাদা পুরনো লাশ। পচে গলে গেছে। ভিতর একটা মরচে পড়া হ্যারিকেনে, আগুন জ্বলছে না। পরাণ মাঝির মুখ দিয়ে আতঙ্কের চিৎকার বেরিয়ে যায়।    

                     তার চিৎকার শুনে মাণিক বৈঠা ফেলে দ্রুত তার পাশে চলে আসে। দেখে মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছে সে। দৌড়ে গিয়ে কোনোমতে তাকে ধরে ফেলে মানিক। মাথা উঁচু করে সামনে তাকিয়ে দেখে, সেখানে কোনো নৌকা নেই। শুধু আলকাতরার মতো গাঢ় অন্ধকার। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। অথচ সে নিজে ঐ যাত্রীবাহী নৌকা দেখেছে। নৌকায় জলের ধাক্কা খাওয়ার আওয়াজ পর্যন্ত শুনেছে। তাহলে! 

                   এরপর প্রচণ্ড বাতাসে তাদের নৌকা ডুবু ডুবু হয়ে পড়ে। মানিক ছোটবেলা থেকেই নৌকা বাওয়ায় ওস্তাদ। চাচাকে পাটাতনে শুইয়ে দিয়ে সে দাঁড় টেনে কোনোমতে নৌকা ঘাটে এনে লাগায়। 

                   এরপরে পরাণ মাঝি টানা এক সপ্তাহ কোন কথা বলতে পারেনি। এরপর রাতে মাছ ধরা ছেড়ে দিয়েছে পরাণমাঝি। কারণ শুনেছে সে, মাঝে মাঝেই জেলেরা মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। আবার প্রায়ই নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে।

========================== 




SANKAR BRAHMA.

8/1, ASHUTOSH PALLY,

P.O. - GARIA,

Kolkata

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.