ছবিঋণ- ইন্টারনেট
বেটি বাঁচাও
তপন তরফদার
অখিলেশ ও সমরেশ দুই পরিবার একই সঙ্গে বেড়াতে যায়। সবাই জেনে যায় একই মাসে দুজনের সংসারে সন্তান আসছে। কিছুদিন বাদে দুই পরিবার এক সঙ্গেই বেড়াতে গেল। অখিলেশ খোঁজ পেয়েছে বিলাসপুরের এক নার্সিংহোম গর্ভস্থ ভ্রুনুর লিঙ্গ বলে দেয়। জানতে পারল দুজনেই কন্যা সন্তান ধারন করে আছে। সমরেশ বলে মেয়ে আমি চাইনা। আমার বংশ রক্ষা হবেনা। মেয়েকে মাইনাস করেই আমি ফিরবো। অখিলেশ বলে হোক না মেয়ে ক্ষতি কি?
সমরেশে পরের বছরই পুত্রের পিতা হলো। দুই সংসারই এগিয়ে চললো। খবরের কাগজে বিঞ্জাপন দিয়ে পাত্র-পাত্রী যোগাড় করে ধূমধাম করে ওরা বিয়ে দিল। সেই ঘটনাটাই ঘটলো। কাজের সূত্রেই ওরা ব্যাঙ্গালোরে থিতু হলো।
সময় চোখের পলকে পিছলে যায়। ওরা নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যতিব্যস্ত্য। এরা বয়স জনিত রোগে ব্যতিবস্ত্য। সমরেশ ছেলেকে ফোন করে বলে তোর মায়ের হার্টের গন্ডোগোল ধরা পড়েছে। ওখানে দেবী শেঠকে দেখাবো। ব্যবস্থা কর। বাবার কথা শুনেই গরম তেলে ছাড়া ফুলুরীর মতো ফুলে ওঠে বলল, এখানে হবে না। যা করার কলকাতাতেই করবে। এখানে সব কিছুতেই সবার অসুবিধা হবে।
অখিলেশের স্ত্রী মেয়েকে ফোন করে বলে তোর বাবার হার্টে গন্ডোগোল ধরা পড়েছে। ব্যাঙ্গালোরে দেবী শেঠকে দেখাবার জন্য সবাই বলছে। মেয়ে মাকে ধমকে বলে এতদিন বলোনি কেন। বাপিকে নিয়ে এখুনি চলে এসো।তোমাদের বয়স হচ্ছে, সাবধানে থাকতে হবে। দুই পরিবারই বুঝলো, বেটি বাঁচাওর মর্ম কথা।
====================তপন তরফদার। খড়্গপুর।

