গল্প ।। চল্লিশ বছর পর ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি

 

 চল্লিশ বছর পর 

 জয়শ্রী ব্যানার্জি 

 
ঝাড়গ্রামের লাল মাটির পথ, শাল-পিয়ালের জঙ্গলে মোড়া বিকেলের আলো—সব মিলিয়ে যেন এক রহস্যময় ছবির মতো পরিবেশ। সেই পরিবেশেই মা বাবাদের সাথে বেড়াতে এসেছে  বর্ধমানের শক্তিগড় থেকে একই পাড়ার চার বন্ধু—বিহান, সৌম্য, রুবি আর ইলিনা। তারা ক্লাস ইলেভেনের ছাত্র ছাত্রী। সৌম্য আর রুবি সায়েন্সে , বিহান কমার্স ও ইলিনা আর্টসের ছাত্রী ।
উঠেছে ঝাড়গ্রামের রাজবাড়ির কাছেই এক পুরোনো অতিথিশালায়। এখন চৈত্র মাস ।
এখানে বিকালে পৌঁছনোর পর সন্ধ্যে থেকে অনেকক্ষন বিশাল ঝড় বৃষ্টি হয়ে গেছে । যেনো মনে হচ্ছিল আকাশ বুঝি ভেঙে পড়বে ।সকালে অবশ্য শান্ত মনোরম  আবহাওয়া ।একটু ঠাণ্ডা ভাব ও। সুন্দর পরিবেশে সকালবেলায় সবার সাথে রাজবাড়ি ঘুরে দেখার সময় থেকেই ওদের  কৌতূহল বাড়ছিল। বিশাল দরজা, ধুলো জমা করিডর, পুরোনো দেওয়ালের ফাটল—সবকিছুতেই যেন লুকিয়ে আছে অতীতের গল্প। রাজবাড়ির এক কোণে একটি ভাঙা প্রদর্শনী কক্ষ দেখে সৌম্য বলল,
—"এখানে নিশ্চয়ই অনেক পুরোনো জিনিস ছিল একসময়।"
সেদিন বিকালে তারা চারজন রাজবাড়ির পেছনের জঙ্গলের দিকে হাঁটতে বেরোল। সূর্য তখন গাছের ফাঁক দিয়ে সোনালি আলো ফেলছে। 
হাঁটতে হাঁটতে গল্প করতে করতে একটু গভীরে চলে গেছে ।একটু হঠাৎ রুবি চিৎকার করে উঠল উঃ!
সবাই ঘুরে তাকালো রুবি কিছুতে হোঁচট খেয়েছে ।
—"এই দেখ! এখানে কিছু একটা আছে!"
মাটির ভেতর থেকে অর্ধেক বেরিয়ে থাকা একটা কাঠের কিছু  । এদিক ওদিক তাকিয়ে শক্ত লাঠি জোগাড় করে কিছু খুঁড়ে তারা সেটাকে বের করতেই দেখা গেল—একটি অত্যন্ত সুন্দর কারুকার্য করা বাক্স। সেটা খুলতেই সবাই হতবাক।ভিতরে  খুবই সুন্দর একটা কৃষ্ণমূর্তি ।মূর্তির গায়ে সূক্ষ্ম কারুকাজ, চোখে যেন জীবন্ত দৃষ্টি। তারা সবাই প্রণাম করলো । 
শুকনো কিছু রয়েছে ভিতরে  । বিহান হাতে নিয়ে বলল মনে হচ্ছে শুকনো ফুল পাতা ।
ভিতরে একটি লাল শালু তে মোড়ানো কিছু । কৌতুহলী হয়ে তারা খুলে দেখলো ।দেখেই বোঝা যাচ্ছে  ভীষন পুরোনো একটা কাগজ তাতে লেখা সমৃদ্ধ, বর্ধিষ্ণু স্থানের পুরাতন শাসক তাঁর উচ্চ পদস্থ কর্মে নিযুক্ত যে ব্যক্তি  সেই রকম সমপদের নামে সেই স্থানের কাছে জলাশয় আছে ,  সেই পদাধিকারী ব্যক্তির যাঁর নামের অর্থ নূতন তনয় সেই কুলীন কাশ্যপ গোত্রের বাড়ির শ্রী গোবিন্দ প্রভু ।
বাবা ! এ তো এক ধাঁধা।  কি করবি ? পুলিশ কে বলবি? 
পুলিশ কে বলবো তার আগে দেখি না একটু চেষ্টা করে এর অর্থ বার করতে পারি কিনা ?
 
ইলিনা মুগ্ধ হয়ে বলল,
—"এটা তো খুব পুরোনো মনে হচ্ছে!"
বিহান একটু ভেবে বলল,
—"তাতে সন্দেহ নেই ,হয়তো এখানকার রাজবাড়িরই কিছু বা জন্য কোনো জায়গার … কিন্তু এখানে এল কীভাবে?"
তারা মূর্তিটা সাবধানে নিয়ে অতিথিশালায় ফিরে এল। রাতে খাওয়ার সময় ওরা বিষয়টা তাদের মা বাবাদের বললো । তাঁরা পরামর্শ দিলেন বিষয় টা অতিথি শালায় জানাতে তার পর ওদের মারফত পুলিশ কে বলতে ।
রুবি বলল ঠিক আছে আরো দুটো দিন আছি তো যদি ধাঁধা টা সমাধান করতে পারি দেখি নাহলে এখানে জানাবো পুলিশ কে ।
হ্যাঁ বলা যায় না কোনো চোরা মূর্তি কিনা ! তখন ঝামেলা হবে কি দরকার ! সৌম্যর মা বললেন ।
খাবার পর ওরা অতিথিশালার বারান্দায় বসলো ধাঁধাটা র অর্থ বার করতে ।
দোতলায় চারটে রুম নেওয়া হয়েছে ।একটাই তাদের বাবারা একটাই মায়েদের দল একটাই সৌম্য বিহান একটাই ইলিনা রুবি। 
বিহান বললো আচ্ছা সমৃদ্ধ, বর্ধিষ্ণু বলতে কি মনে আসে প্রথমে?ইলিনা বলল বর্ধিষ্ণু অর্থাৎ যা বৃদ্ধি প্রাপ্ত হচ্ছে বর্ধমান ।রুবি বলল ঠিক তার পর স্থান অর্থাৎ জায়গা সেটাও জেলাও ধরতে পারিস ।বিহানের চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল বলল তারপর ? সৌম্য বললো পুরাতন শাসক মানে আগেকার রাজা যদি ধরি অর্থাৎ বর্ধমান জেলার রাজা । বিহান বললো হ্যাঁ তাদের উচ্চ পদস্থ কর্মচারী বলতে কি কি মনে আসে? আমার যেমন মনে হচ্ছে মন্ত্রী সেনাপতি । রুবি বলল নায়েব গোমস্তা ,সৌম্য বললো রাজ পুরোহিত ,রাজ জ্যোতিষী ,ইলিনা বলল মুন্সী দেওয়ান  । বিহান এবার আয় এই পদ গুলোর নামে কোনো কাছাকাছি কোনো জলাশয় ? সবাই ভাবতে ভাবতে সৌম্য বলে উঠলো , ইউরেকা! দেওয়ান দিঘী!
বাঃ দারুন সবাই প্রশংসার চোখে তাকালো । এবার আয় নামে নূতন বলতে নতুন নব ,রুবির কথা ,
ইলিনা বললো তনয় অর্থাৎ পুত্র ছেলে আত্মজ নন্দন কুমার । বিহান বললো দাঁড়া দাঁড়া নব আত্মজ কি নব পুত্র কারও নাম হয়না এ ক্ষেত্রে হতে পারে নব কুমার কি নব নন্দন ।
রুবি বলল হ্যাঁ তার পর কুলীন কাশ্যপ গোত্র অর্থাৎ ব্রাহ্মণ। কাশ্যপ তো চ্যাটার্জি দের গোত্র ।আমার মামার বাড়ির যেমন ।
সৌম্য বললো তাহলে দাঁড়াচ্ছে বর্ধমান রাজার কোনো উচ্চ পদস্থ কর্মচারী ধর দেওয়ান জাতীয় কোনো পদ ওই নামে দিঘী আছে বর্ধমানের  কাছেই সেই পদাধিকারী 
ব্যক্তি যাঁর নাম নবনন্দন  কি নব কুমার চট্টপাধ্যায় তাদের বংশের শ্রী গোবিন্দ এর মূর্তি ।কোনো কালে হয়তো চুরি গেছিলো , হাত বদল হয়ে এখানে রেখে গেছিলো সেটাই আমরা পাই।কাল প্রচুর ঝড় বৃষ্টি হয়েছে কোনো ভাবে উঠে এসেছে বক্স টা।
পরদিন তারা অতিথি শালার ম্যানেজার মারফত পুলিশ কে জানায়। সাথে ধাঁধাটাও।  ঝাড়গ্রামের পুলিশ বর্ধমান পুলিশ কে বলে ।ঠিক হয় আপাতত 
ওরা ফিরে মূর্তি নিয়ে ওখানে পুলিশের সাথে দেখা করবে ।তার পর কথা বার্তা হবে ।
ফেরার পথে চার বন্ধু আবার সেই জঙ্গলের পথ ধরে হাঁটছিল। হাওয়ায় শালপাতার মৃদু শব্দ, দূরে পাখির ডাক, আর লাল মাটির গন্ধ—সব মিলিয়ে ঝাড়গ্রাম যেন আরও সুন্দর লাগছিল তাদের কাছে।
রুবি হেসে বলল,
—"এই ট্রিপটা কিন্তু সেরা হয়ে গেল!"
সৌম্য যোগ করল,
—"শুধু ঘোরা নয়, একটা রহস্যও পেলাম  যদিওযাদের বাড়ির মূর্তি তারা যখন পেয়ে যাবে তখন স্বার্থক হবে আরো!"
বিহান একটু চুপ করে থেকে বলল,
—"কখনো কখনো ইতিহাস নিজেই আমাদের ডাক দেয়… শুধু শুনতে জানতে হয়।"
সূর্য তখন ডুবতে বসেছে। চার বন্ধুর ছায়া লাল মাটির পথে লম্বা হয়ে পড়েছে—আর তাদের মনে রয়ে গেল এক অদ্ভুত সুন্দর স্মৃতি, যেখানে ঝাড়গ্রামের প্রকৃতি আর এক হারানো ইতিহাস একসাথে জুড়ে গেল।
বর্ধমানে ফিরে ওরা পুলিশের সাথে দেখা করলো ।
বর্ধমান বিশ্ব বিদ্যালয় এর  প্রত্নতাত্বিক দের মতে মূর্তির বয়স ৩০০ এর আসে পাশে অবশ্যই হবে ।
আর এটা অষ্ট ধাতুর ।
সেই অনুযায়ী হিসাব করে দেখে সাল বের হয় ১৭২৬ সাল। সেই সময় বর্ধমানের মহারাজা ছিলেন কীর্তিচন্দ্র রায়। তিনি ১৭০২ থেকে ১৭৪০ সাল পর্যন্ত বর্ধমান রাজবংশ শাসন করেছিলেন এবং মুঘল আমলে বর্ধমানের জমিদারি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেন। কীর্তিচন্দ্র রায় ছিলেন এই রাজবংশের একজন অন্যতম প্রভাবশালী শাসক, যার আমলে রাজ্যটি বেশ সমৃদ্ধি লাভ করে। 
হয়তো  তাঁর ই  কোনো উচ্চ পদস্থ কর্মচারীর বাড়ি থেকে কোনো সময় মূর্তি টি চুরি গেছিলো ।ধাঁধার কথার ওপর ভিত্তি করে পুলিশ এবং বিহান দের তরফ থেকে মূর্তির ছবি সহ বিজ্ঞাপন দেওয়া হলো কাগজে এবং সোশ্যাল মিডিয়া তে । ততদিন কৃষ্ণমূর্তি  বিহান দের গ্রামের রাধামাধবের মন্দিরে পূজিত হতে লাগলেন ।এর পর কেটে গেছে দুমাস ।এক ভদ্রলোক এলেন দেখা করলে বয়স আন্দাজ ৫০/৫৫ হবে ।সুদর্শন ফরসা লম্বা সুঠাম চেহারা । চোখে চশমা ।তিনি নাম বললেন অচিন চট্টোপাধ্যায় ।তিনি নিউ জার্সি তে থাকেন । সোশ্যাল মিডিয়া তে বিজ্ঞাপন তাঁর চোখে পড়েছে । তিনি একটা পুরোনো ছবি দেখালেন যেখানে এই মূর্তি দেখা যাচ্ছে ।সম্ভবত কিছু  অনুষ্ঠান হচ্ছে ।তিনি বললেন এই মূর্তি তাঁদের বংশের।তাঁদের পূর্ব পুরুষ নবীনকুমার চট্টোপাধ্যায় 
বর্ধমান মহারাজের অধীনে উচ্চ পদে নিযুক্ত ছিলেন ।মহারাজ নিজ হাতে মূর্তি টি তুলে দিয়েছিলেন ওনার হাতে ।

প্রায় ৪০ বছর আগে এই মূর্তি নিখোঁজ হয় ।কোথাও পাওয়া যায়নি ।পুলিশ হদিশ করতে পারেনি 
তার পর এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটে ওনার এক  কাকা হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে । বিড়বিড় করতে থাকেন সারাক্ষণ । সব সময় উদাস ভাব ।ভুলে যান যেন সব কিছু ,একদিন হঠাৎ আত্মহত্যা করেন । তিনি ডায়েরি লিখতেন এবং উনি কমিউনিস্ট ছিলেন ।সেই ডায়েরি থেকে জানা যায় বংশের সবাই বাইরে চলে যাচ্ছিল চাকরি সূত্রে কেউ দেশের বাইরে কেউ রাজ্যের বাইরে জেলার বাইরে বাড়ি ফাঁকা হয়ে যাচ্ছিল । গোবিন্দ জির কি হবে এই নিয়ে অনেকে চিন্তায় ছিল কিন্তু কোনো কূল পাচ্ছিলেন না । কারণ সম্পত্তি সব দেবোত্তর ।বাইরে দিলে যদি সম্পত্তি চলে যায় সেই ভয় ছিল তাঁদের বংশের।
এই বার তাঁর সেই কাকা যাঁর নাম নিরঞ্জন চ্যাটার্জি তিনি এত বিশ্বাস করতেন না ঠাকুর দেবতায় ,সেই সময় খুব কমিউনিস্ট মার্কসবাদী দের দাপট ।একদিন সবার অলক্ষ্যে তিনি ই মূর্তি সরিয়ে দেন কোথাও । প্রথমে মূর্তি তিনি বাড়িতেই রেখেছিলেন গোপন জায়গায় , কেউ বুঝতে পারেনি পুলিশ ও না কিছুদিন পর তিনি ব্যাগে করে নিয়ে গিয়ে অন্যত্র রেখে আসেন ।কিন্তু কোথায় সেটা লেখা নেই । পরে তাঁর খুব গ্লানি হয় ও অপরাধ বোধে ভোগেন এবং পরে খুঁজতেও যান কিন্তু ঠিক কোন জায়গায় পুঁতে রেখে এসেছিলেন আর সেই জায়গাটা মনে করতে পারেননি ।এর পর তিনি মারাত্বক মনোকষ্টে আত্মহত্যা করেন । 
সবাই চুপ করে শুনছিল । সৌম্যর বাবা বলেন তাহলে এখন কি করবেন ? ফেরত নিয়ে যাবেন ?
উনি বললেন হ্যাঁ।পরিবারের লোক দের সাথে কথা হয়েছে ।এই মূর্তি আবার প্রতিষ্ঠিত হবে ।পূজারী রাখা হবে আর এই নব প্রতিষ্ঠার দিন টায় আবার সবাই একজোট হবে ।যদি কেউ না দেখে ওনার ছেলে বলেছে এই মূর্তি নিউ জার্সি তে যাবে । সে নিজে পুজো করবে । সে ক্লাস নাইনে পড়ে।
পরে  যদি তাঁরা দেশে ফিরে আসেন পাকাপাকি ভাবে আবার মূর্তিও ফিরবে । কিন্তু ওনাদের বংশের গরিমা ওনাদের কাছেই থাক ।
এটা আমাদের বংশের আশীর্বাদ… আমরা ভেবেছিলাম এটা চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেছে।"
অচিন বাবু  কৃতজ্ঞ হয়ে বললেন,
—"তোমরা শুধু একটা মূর্তি ফেরাওনি, আমাদের ইতিহাস আর বিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছ।"
আমাদের পরিবারের তরফ থেকে তোমাদের পুরস্কৃত করা হবে ।তোমরা ধাঁধার সূত্র ধরে এগিয়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিয়েছ । এ তোমাদের প্রাপ্য।
সবার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল খুশিতে ।
রুবির বাবা বললেন হ্যাঁ বনেদি বাড়িতে এই হয় আগেকার মানুষরা কুলদেবতার প্রতিষ্ঠা করে গেছিলেন কিন্তু সবাই বর্তমানে বাইরে চলে যাওয়া তে কুলদেবতার হয়েছে মহা সমস্যা ।তিনি কোথায় থাকবেন ।আমাদেরও তাই ।এখনও করে যাচ্ছি পুজো দেখা যাক পরে কি হয়!  
সৌম্য দেরও তো বাড়িতে গৃহ দেবতা আছেন শিব।তবে ওরা এখন গ্রামের মন্দিরে রেখেছে ।
তার পর একদিন দিন ক্ষণ দেখে সমারোহ করে অচিন বাবু সহ পরিবারের  লোক জন গোবিন্দ মূর্তি নিয়ে গেলেন । প্রভু গোবিন্দ কিছুদিনের  জন্য এখানে অতিথি হয়ে এসেছিলেন  ওনার শ্রী চরণের ছাপ রাখা হলো রাধা মাধবের মন্দিরে । ওনার জন্য উপহার সামগ্রী দেওয়া হলো ।প্রসাদ বিতরণ করা হলো ।  অচিন বাবু গ্রামের সবাই কে নিমন্ত্রণ করে গেলেন যেদিন নব প্রতিষ্ঠা হবে মূর্তির ।
আবার যেনো নতুন করে ইতিহাস রচিত হলো ।রহস্যের কিনারা হলো ৪০ বছর পর । ৪০ বছর পর গোবিন্দ জি আর মাটির তলায় থাকতে চায়লেন না ।তিনি এক ঝড় বৃষ্টির রাতে দরজায় যেন ধাক্কা দিলেন বেরোবার জন্য।

======================
পাল্লা রোড 
পূর্ব বর্ধমান।
 
ছবি - ইন্টারনেট  

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.