মুক্তগদ্য ।। নৈঃশব্দ্যের ভাষা ।। আদিল হোসেন মাহি

ছবিঋণ- ইন্টারনেট 
 

নৈঃশব্দ্যের ভাষা

আদিল হোসেন মাহি


সন্ধ্যা নামার নিজস্ব এক ছন্দ আছে—ধীর, মগ্ন, গভীর। সেই ছন্দে আকাশ নিঃশব্দে রঙ বদলায়; আলো থেকে অন্ধকারে পা বাড়ায় এক অনির্বচনীয় মাধুর্যে। পশ্চিম দিগন্তে অস্তগামী সূর্য শেষবারের মতো পৃথিবীকে ছুঁয়ে দেয়—যেন বিদায়ের আগে এক দীর্ঘ, নীরব স্পর্শ।

নদীর তীরে বসে ছিল রুদ্র। চারপাশে কোনো মানুষের কোলাহল নেই, অথচ নিস্তব্ধতা ভরা নয়—বরং এক অদ্ভুত শব্দমালায় পূর্ণ। এই শব্দ কানে ধরা পড়ে না, অনুভব করতে হয় অন্তরের গভীরে।

গাছের পাতায় বাতাসের মৃদু দোলা, দূরে নীড়ে ফেরা পাখিদের ডানার ছন্দ, নদীর কলকল ধ্বনি—সব মিলিয়ে যেন এক অনন্ত সিম্ফনি। কোনো সংগীতজ্ঞের সৃষ্টি নয়, কোনো নিয়মে বাঁধা নয়—তবু নিখুঁত, তবু পূর্ণ।

রুদ্র চোখ বন্ধ করল।

চোখ বন্ধ করতেই শব্দগুলো যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। বাতাস ফিসফিস করে কিছু বলছে, নদী তার গভীরতা থেকে তুলে আনছে প্রাচীন কোনো কাহিনি। পাখিদের শেষ উড়ান যেন দিনের শেষ কবিতা, যা আকাশের বুক জুড়ে লেখা হয়ে থাকে।

তার মনে প্রশ্ন জাগল—
শব্দ কি কেবল উচ্চারণেই সীমাবদ্ধ?

মানুষের ভাষা নিয়মে বাঁধা—ব্যাকরণে, গঠনে, সংজ্ঞায়। কিন্তু প্রকৃতির ভাষা? তা তো সীমাহীন। সেখানে কোনো ব্যাকরণ নেই, তবু অর্থ আছে; কোনো শব্দ নেই, তবু প্রকাশ আছে।

ঠিক তখনই একটি জোনাকি অন্ধকারে জ্বলে উঠল। ক্ষণিকের সেই আলো যেন নিঃশব্দে জানিয়ে দিল—অস্তিত্বের জন্য উচ্চারণের প্রয়োজন হয় না।

রুদ্র মৃদু হাসল।

সে অনুভব করল—প্রকৃতি কখনো নীরব নয়। তার প্রতিটি স্তব্ধতায় লুকিয়ে থাকে অসংখ্য উচ্চারণ, প্রতিটি অন্ধকারে জ্বলে ওঠে অদৃশ্য আলোর ভাষা।

সন্ধ্যা ধীরে ধীরে রাত্রির গভীরে বিলীন হলো। আকাশে একে একে তারা জ্বলে উঠল—নিঃশব্দ অথচ স্পষ্ট, দূরবর্তী অথচ গভীরভাবে উপস্থিত।

সেদিন রুদ্র বুঝেছিল—
নৈঃশব্দ্য কোনো শূন্যতা নয়;
এ এক পূর্ণতা, যেখানে শব্দের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়।

আর সেই ভাষা—
যার কোনো বাঁধন নেই, কোনো সীমা নেই—
শুধু অনুভবের বিস্তীর্ণ আকাশে অবাধে ভেসে থাকে।
-------------------------------------------
 
নাম=আদিল হোসেন মাহি 
যোগাযোগ নাম্বার=০১৩১৭৫৪৪৫০২(whatsapp) 
ঠিকানা=ময়মনসিংহ সানকিপাড়া 



Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.