রহস্য গল্প।। ভাঙা মন্দিরের গুপ্তছায়া ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি

Uploaded Image 

ভাঙা মন্দিরের গুপ্তছায়া

 জয়শ্রী ব্যানার্জি

    পর্ব ১

   গল্পের পটভূমি:
 
গরমের ছুটি। টুবলু–টুপাই–টুংডারা মামারবাড়িতে এসেছে। মামাদের পূর্বপুরুষ জমিদার ছিলেন ।
বিশাল আগেকার দোতলা বড়ো বাড়ি । বাড়িতে নারায়ণ আছেন কুলদেবতা ।
মামাদের বিশাল বাগান সেখানে আম জাম কাঁঠাল কলা লিচু জামরুল গাছ । আছে আতা সবেদা গাছও। পুকুরে রুই কাতলা সরপুঁটি,আবার বর্ষায় ট্যাংরা, মাগুর আছে ছোট ফুলের বাগানও। গন্ধরাজ ফুলের গন্ধ আসে ভেসে । আছে গেটের পাশে কাগজ ফুলের গাছ । অজস্র ফুল পাতা গেটের সামনে পড়ে আছে । টুবলুর মায়েরা তিনবোন দুই ভাই । টুবলুর মা বড়ো। সে এবার মাধ্যমিক দেবে । অঙ্ক তে তাকে ১০০ পাইয়েই ছাড়বে মনে হয় ছোট মামা । যখনই পারছে তাকে অঙ্ক করাচ্ছে । মামারও ছুটি। টুবলুর মায়ের কড়া নির্দেশ যে কটা দিন থাকবি মামার কাছে অঙ্ক বিজ্ঞান দেখে নিবি ভালো করে । কারন বাড়ি ফিরে এ বছর আর কোথাও যাওয়া হবে না ।পরীক্ষার প্রস্তুতি থাকবে । 
টুবলু চটপটে, কৌতুহলী, পকেটে একটা নোটবুক রাখে। মাঝে মাঝেই এটা সেটা লেখে তাতে । ইতিমধ্যেই ভারতবর্ষের নানা মন্দির নিয়ে তার গভীর জ্ঞান এবং বেশ জানার ইচ্ছা সে সব নিয়ে ।
টুবলুর মেজমাসির ছেলে টুপাই। ক্লাস নাইনে পড়ে মহাকাশে তার প্রবল আগ্রহ । যুক্তিবাদী । খুঁটি নাটি জিনিস লক্ষ্য করতে ওস্তাদ । দিম্মার রোদে দেওয়া আচারের বয়াম থেকে কে আচার চুরি করছে ,
কে কোথা থেকে কোন জিনিস নিয়ে ঠিক জায়গায় রাখে না , বড়ো মামার কোন ক্লায়েন্ট কেমন, ঠিক মনে রাখে । দিম্মার খুঁজে না পাওয়া রসগোল্লার হাঁড়িটা ছোট মামার ঘরের খাটের তলা থেকে সেই বার করেছিল । 
তাতে ছোট মামা প্রীত হয়নি মোটেও । ভাবটা এমন ছিল, উফফ! কি ক্ষুদে শয়তান ভাগনা রে বাবা !
টুবলুর বাংলার টিচার ছোটমাসি আর তার ছেলে টুংডা ক্লাস সেভেনে পড়ে। ক্যারাটে জুডো শেখে ।একটু শান্ত কিন্তু বেশ বিচক্ষণ । তার ইচ্ছা বড়ো হয়ে এয়ার ফোর্স জয়েন করবে ।
ছোট থেকেই তাদের প্রবল আগ্রহ কখন গ্রীষ্মের ছুটিতে মামার বাড়িতে আসবে । তাদের বাবারা দু'তিনদিন থেকে চলে যায় কাজের জন্য। তারা থেকে যায় কিছুদিন । ফিরে গিয়ে আবার তো সেই পড়া আর মা-দের সংসারের কাজ । কদিন একটু হৈ-হুল্লোড় করে কাটে।
এখানে বড়ো মামা জেলা কোর্টের সরকারী আইনজীবী । বেশ ভালো পসার। নাম ডাক আছে । ছোট মামা কলেজের অংকের প্রফেসর । বিয়ে করার ইচ্ছা নেই মামার । খালি অঙ্কতেই ডুবে থাকে । নিত্য নতুন রিসার্চ চালায় । আছে দিম্মা ,বড়ো মামিমা ।বড়ো মামার দুই মেয়ে টুলটুলি ফাইভে আর টুকটুকি থ্রি-তে পড়ে। ক্ষুদ্র বলিয়া উহারা কিন্তু উপেক্ষার পাত্রী না । অতিশয় চতুর। মাঝে মাঝে এমন খবর আনে যা কাজে লাগে ।
আর আছে রান্নার মাসি জবা মাসি । ঠিকে কাজের লোক রেখা মাসি।কেয়ার টেকার দিনুদা ।বাগানের মালি ধনপতি দাদু । 
বিকাল হলে আসে পাশে মামা দের দু এক ঘর জ্ঞাতি আর প্রতিবেশী বাড়ি থেকে গল্প করতে আসে দিম্মার সাথে । টুবলুর মা মাসিরা মামী ও যোগ দেয় তাতে ।


মামার বাড়ির খিড়কি দরজা পেরিয়ে কাছেই জঙ্গলের ধারে একটা ভাঙা, জরাজীর্ণ শিবমন্দির, যেটা নিয়ে সেদিন বিকালের মহিলা মহলে আলোচনা হচ্ছিল , টুলটুলি কান খাড়া করে শুনছিল ।
রেখা বলল ,"হ্যাঁ গো সেদিন বিলুর বাবা রাতে কুমড়োর ক্ষেত থেকে ফেরার সময় নিজে দেখেছে,মন্দিরের ভিতরে মৃদু আলো । কারা যেন ঘোরাফেরা করছে!" 
"দেখ হয়তো ছেলে পুলের দল । মদ খেতে ঢুকেছিল বা কুমড়ো চুরির ধান্দায়! " ওর ঠাম্মা বললো ,
রান্নার মাসি জবা বলে উঠল," হ্যাঁ গো, একদিন সুনীলের কাকাও বলছিল তিন সন্ধ্যেতে মোটর সাইকেল থেকে তিন জন নেমে মন্দিরে ঢুকলো" ।
পাশের বাড়ির পুষ্প ঠাকুমা বলে উঠলেন," অনেক আগে ওখানে পুজো হতো শুনেছেন সে কবেকার কথা তার পর একদিন দেশ স্বাধীন হলো ! কে কোথায় ছিটকে গেলো মন্দির ভেঙে গেলো । ওখানে নাকি বিপ্লবীদের গোপন বৈঠক বসত !"
দোলন পিসী বললো ,"আমিও কিন্তু একদিন দেখেছি রাতে একটা ছায়া মূর্তি চট করে সরে গেলো ।গরমের জন্য ছাদে ছিলাম। "
রেখা বলল ,"ওই দেখো আমিও তো তাই বলছি , রেতের বেলা কাদের সব ছায়া !"

  রহস্যের শুরু

গ্রীষ্মের রোদে যেন আগুন ঝরছে। টুবলু, টুপাই আর টুংডা মামাদের বাগান বাড়ির আমগাছতলার দোলনায় বসে আইসক্রিম চুষছিল। একটু দূরে পুকুরের ধারে গাছের ঘন ছায়াতে বাগানের মালি ধনপতি দাদু গাছপালা ছাঁটছিল। পুকুরের ধারে দুর্দান্ত ফুরফুরে হাওয়া । দুটো খাটিয়া পাতা আছে ওদের । দিনু মামা কে দেখা যাচ্ছে না আসে পাশে । হয়তো কোনো কাজে লেগেছে ।
এমন অলস দুপুরে দুই মামাতো বোন—টুকটুকি আর টুলটুলিও এসে হাজির। — "চলো না আজ কিছু অ্যাডভেঞ্চার করি!" টুংডা বলে উঠল, চোখে দুষ্টু ঝিলিক। — "অ্যাডভেঞ্চার?" টুকটুকি চোখ বড়ো করল। টুলটুলি বলল, "শুনেছি বাগানের দক্ষিণে যে পুরোনো ভাঙা মন্দিরটা আছে, ওটা নাকি রাতে আলো ঝলকায়। রেখা মাসী বলছিল!" বাকিরা একটু শিউরে উঠল। টুপাই প্রথমেই সন্দেহ করে—
“ভাঙা মন্দিরে আলো? কেউ কিছু করছে না তো ওখানে।?
টুকটুকি বলল ওর বন্ধু মিলির বাবাও দেখেছে — রাতে মন্দিরে আলো জ্বলছে । কেউ যেন দোর খুলে ঢুকল। 
গ্রামের ভাঙা শিব মন্দিরটা একসময় জনপ্রিয় ছিল। এখন পথঘাটে লতাগুল্মে ঢাকা। কেউ খুব একটা যায় না। টুংডা ফিসফিস করে বলল, "আগে দেখে আসা যাক। সত্যি কিছু আছে কি না!" মন্দিরের পথে রহস্যের গন্ধ দুপুরের ঘুমে বাড়ি নিঝুম। বড়মামা কোর্ট থেকে ফেরেননি, দিম্মা, মামিমা মাসীরা দুপুর ঘুমে, ছোটমামা নিজের ঘরে অংকের বইয়ে ডুবে—এ যেন পালিয়ে যাওয়ার সেরা সময়। তারা পাঁচজন চুপিচুপি বাগানের পেছনের পথে ঢুকে গেল। ঘন ঝোপঝাড় পার হতে হতে টুবলু বলল— "দেখেছ? এই রাস্তাটা অনেকদিন কেউ পরিষ্কার করেনি।" হঠাৎ টুলটুলি থেমে গেল। — "ওই যে! মাটিতে নতুন পদচিহ্ন!" টুপাই হাঁটু গেড়ে বসে পদচিহ্ন ছুঁয়ে দেখল। — "তাজা। কেউ সম্প্রতি গেছে। কিন্তু কে?" আরও কিছুদূর গিয়ে ভাঙা মন্দিরটা দেখা গেল—অর্ধেক ছাদ ধসে পড়েছে, শ্যাওলায় ঢাকা পাথরের গায়ে পায়রা বসে আছে। কিন্তু ভাঙা দরজার সামনে দাঁড়ানো টুবলু এক অদ্ভুত জিনিস চোখে পড়ল। মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত আওয়াজ মন্দিরের ভেতর থেকে শোনা গেল— টং… টং… টং… কেউ যেন ধাতুর কিছু দিয়ে পাথরে ঠুকছে! টুকটুকি কাঁপা গলায় বলল— "এটা কি ভূত নাকি?" টুংডা ঠোঁট চেপে বলল— "ভূত হলে ধাতু ঠোকার শখ কেনই বা হবে?" ওরা ভেতরে উঁকি দিতেই দেখা গেল এক ছায়া— হাঁটু গেড়ে কেউ যেন মাটির কিছু খুঁড়ছে। আরও কাছে যেতেই হঠাৎ সেই মানুষটা ঘুরে দাঁড়াল— গামছায় মুখ ঢাকা, হাতে একটা কাগজমোড়া মানচিত্র! টুবলু স্তব্ধ। মানচিত্র! কার? আর কী খুঁজছে সে? মানুষটা ছুটে পালাল বাগানের গভীর দিকে। টুপাই চেঁচিয়ে উঠল, "ধর! ও কিছু লুকোচ্ছে!" তারা ছুটল, কিন্তু ঝোপঝাড় দিয়ে লোকটা অদৃশ্য হয়ে গেল। 
টুংডা বললো ,তোমরা এখানে দাঁড়াও বা মন্দিরে যাও আমি আরেকটু দেখি দূরবীন দিয়ে যদি কিছু দেখা যায় ।
ফিরে এসে তারা মন্দিরের মাটিতে দেখল অদ্ভুত কিছু— একটা পুরোনো পিতলের তালা, আর তার পাশে আধা-দমে থাকা খোলা ইটের গাঁথুনি। মনে হচ্ছে লোকটা একটা গোপন খোপ খুলতে চাইছিল। 
খোপ খোলার যে যন্ত্র টা পেলো টুপাই তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে বলল এটা পুরোনো কিন্তু আর দেখেছি মনে হচ্ছে কোথাও ।
কোথায় ? টুবলুর প্রশ্ন । টুপাই উত্তর দিতে যাচ্ছে এমন সময় টুকটুকি বলে উঠলো," এই যন্ত্র টা তো ধনপতি দাদু নিয়ে কাজ করতো।" সবাই অবাক হয়ে গেলো । টুপাই বললো," ইয়েস! থ্যাংক ইউ টুকটুকি।দারুন নজর তোর ।"
টুংডা হাঁপাতে হাঁপাতে এসে বলল ,"দারুন খবর আছে ।মুখ ঢাকা লোকটি গাছের আড়ালে যার সাথে কথা বলছিল সে ধনপতি দাদু ।"
সবাই একসঙ্গে চমকে উঠল। ধনপতি? মালি দাদু ধনপতি ? টুংডা ফিসফিস করে বলল— "মন্দিরের তলায় কী জিনিস লুকানো? আর ধনপতি দাদু কেন জড়িত?" সূর্য ডুবে আসছে। চারপাশে শালিকের ডাক। কিন্তু তাদের চোখে এখন অন্য আগুন—রহস্যের। টুবলু দাঁত চেপে বলল— "এখন থেকে আমরা এই কেসের গোয়েন্দা। আজ রাতেই ধনপতি দাদুকে অনুসরণ করতে হবে!" 

             পর্ব ২: 

ধনপতি মালির গোপন পথচলা 


মামারবাড়ির উঠানে সন্ধ্যার আলো নরম হয়ে নেমে আসছে। কাকডাকা দুপুরের রহস্য এখন পাঁচজনের মাথায় পাক খাচ্ছে। টুবলু, টুপাই, টুকটুকি, টুলটুলি আর টুংডা মিলে বারান্দায় গোপন বৈঠক বসিয়েছে। ঠিক তখনই আচমকা দরজায় খটাস শব্দ— ছোটমামা এসে দাঁড়ালেন।
— "তোমরা পাঁচজন বারান্দায় ফিসফাস কীসের?"ছোটমামার চোখে সন্দেহের রেখা।
সিরিয়াস হয়ে গেলে ছোট মামা ওদের তখন তুমি করে বলে ।
ওরা একে অন্যের মুখ দেখে চুপ। শেষ পর্যন্ত টুংডাই ফোঁস্ করে সব বলে ফেলল— মন্দির, মানচিত্র, মুখ-ঢাকা লোক, পিতলের তালা, আর সেই পুরোনো চিঠির টুকরোতে ধনপতি কাকুর নাম।
ছোটমামা বিস্ময়ে চশমা নামিয়ে বললেন,
— “তোমরা বলছ… মন্দিরে কেউ খোঁড়াখুঁড়ি করছিল? আর ধনপতি কাকা তাতে জড়িত?”
টুবলু বলল,
— “হ্যাঁ মামা। আমাদের মনে হচ্ছে ব্যাপারটা খুবই সিরিয়াস।”
কিছুক্ষণ চুপ থেকে ছোটমামা বললেন,
— “ঠিক আছে, আমি তোমাদের সঙ্গে থাকব। তবে সাবধানে চলবে। রহস্য সমাধান সহজ নয়।”
সবাই হাঁফ ছাড়ল— ছোটমামা এবার তাদের টিমের অফিসিয়াল গোয়েন্দা–অভিভাবক!
রাতের পরিকল্পনা
রাত নামলে বাগান ভরে গেল ঝিঁঝিঁ পোকার আওয়াজে। খাওয়া–দাওয়া সেরে সবাই ঘুমোতে গেলে ছোটমামা ফিসফিস করে বললেন—
— “ধনপতি কাকা আজ রাতেও বাগানে থাকছে। ওকে অনুসরণ করাই প্রথম কাজ।”
সবাই আস্তে আস্তে বারান্দা টপকে বাগানের দিকে এগোল। সবাই বলতে ছোট মামা আর তার তিন ভাগনা ।, টুলটুলি,টুকটুকি কে আনেনি। একে তারা ছোট তার ওপরে ওরা ওদের মা বাবাদের সাথে শোয়।সন্দেহ করতো ।তার পর কোনো বিপদ ও হতে পারে । রিস্ক নেয়নি ওরা ।
কিন্তু টুবলু রা ছোট মামার কাছে শোয় বলে কেউ সন্দেহ করেনি ।
সুযোগ টা ওরা কাজে লাগিয়েছে ।
ধনপতি দাদু লণ্ঠন হাতে ধীরে ধীরে হাঁটছেন, যেন কারও অপেক্ষায়। ওরা ঝোপের আড়ালে। হঠাৎ দেখা গেল—ধনপতির পেছন থেকেই আরেকজন ছায়ামূর্তি এসে দাঁড়াল।
টুংডা ফিসফিস করে বলল,
— “ওই সেই মুখ-ঢাকা লোক!”
লোকটা ধনপতির কানে কিছু বলতেই ধনপতি চমকে উঠল। তারপর দু’জন মিলে দ্রুত দক্ষিণের ভাঙা মন্দিরের দিকে রওনা দিল।
ছোটমামা সিদ্ধান্ত দিলেন—
— “ওদের কিছুটা দূর থেকে অনুসরণ করা ছাড়া উপায় নেই।”
ভাঙা মন্দিরের অন্ধকারে
ওরা যখন মন্দিরে পৌঁছাল, দেখল ধনপতি আর ছায়ামূর্তি ভাঙা দরজার সামনে বসে আছে। ধনপতির হাতে পুরোনো এক লোহার চাবি, আর লোকটার হাতে একই কাগজমোড়া মানচিত্র।
দূর থেকে পড়া যাচ্ছে না ।
লোকটা বলল—
— “আজ রাতেই কাজ শেষ করতে হবে। না হলে আর সুযোগ পাব না।”
ধনপতি দাদু কাঁপা গলায় বললেন—
— “আমি তো শুধু তোমার বাবার পুরোনো জিনিসটাই ফেরত দিতে চাইছিলাম…”
টুবলুর মাথায় বাজ পড়ার মতো লাগল—
লোকটা তাহলে কোনো হারানো জিনিস উদ্ধার করতে চাইছে? কিন্তু কেন গোপনে?
ঠিক তখনই একটা ব্যাপার হলো—টুপাই এর পায়ে শুকনো ডাল চাপা পড়ে কটাস শব্দ হলো!
দুইজনই চমকে পিছন ফিরে তাকাল।
— “কে ওখানে?” মুখ-ঢাকা লোকটা চেঁচিয়ে উঠল।
টুপাই ফিসফিস করে বলল,
— “এবার তো ধরা পড়ে গেলাম!”
ছোটমামা দ্রুত ফিসফিস করে বললেন—
— “সবার নিচে বসে থাকো। আমি সামনে গিয়ে পরিস্থিতি সামলাই।”
তারপর তিনি ঝোপ থেকে বেরিয়ে মন্দিরের সামনে দাঁড়ালেন।
ধনপতি দাদু ছোটমামাকে দেখে হতভম্ব—
— “ছোড়দা?”
মুখ-ঢাকা লোকটার চোখে আতঙ্কের ঝিলিক।
ছোটমামা শান্ত গলায় বললেন—
— “এভাবে ভাঙা মন্দিরে রাতের বেলা খোঁড়াখুঁড়ি? কী চলছে ধনপতি কাকা ?”
লোকটা তখনই পালাতে চাইলে ছোটমামা হাত বাড়িয়ে তাকে থামালেন।
— “তোমার মুখটা খুলে দেখাও।”
আলোতে চেহারা দেখা মাত্র টুংডা হাঁ করে বলল—
“দিনু মামা !!”
হ্যাঁ— পুকুরের ধারের শান্ত, নীরব, মাছকে খাবার দেওয়া দিনুদা,আর বাড়ির কেয়ার টেকার — তিনিই সেই রাতের মুখ-ঢাকা লোক!
সত্যের প্রথম স্তর উন্মোচন
দিনুদা মাথা নিচু করে বলল,
— “আমি চুরি করতে আসিনি। এটা আমার দাদুর পুরোনো মানচিত্র। তিনি বলেছিলেন, স্বাধীনতার আন্দোলনের সময় এক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস এখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। সেই জিনিস খুঁজে পরিবার কি সরকার এর কাছে ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব আমার।”
ছোটমামা বিস্ময়ে জিজ্ঞেস করলেন—
— কী জিনিস?
দিনু মামা বলল,

—"এখনও পুরো কুঠুরিটা খোলা হয়নি। কিন্তু দাদুর চিঠিতে লেখা— ‘এই জিনিস ভারতের স্বাধীনতার স্মৃতি।"
বলে মানচিত্র টা দিলো ছোট মামার হাতে ,
মানচিত্রটা খুলতেই দেখা গেল—ওপরে মাঝারি হরফে লেখা, 
মন্দিরের ভেতরে লুকানো আছে একটি গোপন কুঠুরি।
টুবলুর চোখ চকচক করে উঠল—
তাহলে… মন্দিরের নিচে কোনো ঐতিহাসিক গুপ্তধন?
দিনু মামা বলল,
— “হয়তো। তবে অনেক বিপদ আছে। কুঠুরির চারপাশে পুরোনো ফাঁদও থাকতে পারে।”
ছোটমামা গভীর গলায় বললেন—
— “তাহলে এই অভিযান এখন থেকে আমরা সবাই মিলে করব। তবে নিয়ম মেনে, সাবধানে।”
রহস্য আরও ঘনীভূত হলো। ছোটো মামা আর তাঁর তিন ভাগনা দের মনে কিছু প্রশ্ন দানা বাঁধলো।
কুঠুরিতে কী আছে?
কেন এত বছর লুকিয়ে ছিল?
দিনুমামার দাদু কে ছিলেন?
আর ধনপতি দাদু কেন এত ভয় পাচ্ছিলেন?
সব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে মন্দিরের পাথরের নিচে।

           পর্ব ৩: 

মন্দিরের তলায় গোপন কুঠুরি:

রাত আরও ঘন হয়েছে। চারপাশে নিঝুম বাগান যেন নিঃশ্বাস ফেলে থেমে আছে। মশালের আলোতে ভাঙা মন্দিরের দেয়ালে ছায়া নেচে উঠছে। ছোটমামা, পাঁচ গোয়েন্দা আর দিনু মামা ও ধনপতি দাদু—সবার চোখ এখন মন্দিরের পুরোনো গাঁথুনিতে।
ধনপতি দাদু থমথমে মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। হাত দুটো কাঁপছে।
টুংডা বলে উঠল — "দাদু, আপনি এত ভয় পাচ্ছেন কেন?"
ধনপতি গভীর শ্বাস নিল — “কারণ… এই জায়গাটার সঙ্গে আমার বাবার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। অনেক বছর আগে আমিই দিনের পর দিন এই মন্দির পরিষ্কার করতাম। তখনই মানচিত্রটা দেখেছিলাম… আর এক ডাকাত চক্রের কথা শুনেছিলাম, যারা স্বাধীনতার সময় লুকোনো জিনিসটা খুঁজত।”ভাবতো বোধায় বিপ্লবী দের রাখা টাকা পয়সা আছে ।
কিন্তু বর্তমানে এই জিনিসের সন্ধানে অন্য দল ও আছে । "তাঁর স্বরে উত্তেজনা ও ভয় এর মিশ্রণ।
সবাই তাকিয়ে রইল।
ছোটমামা ধনপতি দাদুর কাঁধে হাত রেখে বললেন—
— “চিন্তা নেই। আজ কোনো ডাকাত নয়—আমরা আছি।”
গোপন কুঠুরি খোলার মুহূর্ত
দিনু মামা মানচিত্র মেলে ধরে বলল—
— “চিহ্নটা ঠিক এখানে। প্রধান শিবলিঙ্গের ডান দিকে পাথরের নিচে।”
টুবলু, টুপাই আর ছোটমামা মিলে শ্যাওলা ঢাকা পাথরটা সরাল।
টুংডা বিস্ময়ে দেখল—পাথরের নিচে গোল ধাতব রিং।
সে বলে উঠল,
— “এটা তো যেন দরজার হাতল!”
সবাই মিলে রিং টেনে উঠাতেই গরররর শব্দে মাটির এক অংশ উঠে গেল। নিচে এক অন্ধকার সিঁড়ি— ঢালু হয়ে নামছে গভীরে।
ছোটমামা বললেন,
— “আমি আগে নামছি। তোমরা পিছন পিছন।”
মশালের আলোয় সিঁড়ি ভরে উঠল। অনেক দিনের পুরোনো গন্ধে ভর্তি ভিতরটা পাথরের দেওয়াল , স্যাঁতসেঁতে বাতাস আর শতাব্দীর নীরবতা।
নিচে নামতেই দেখা গেল—
এক ছোট্ট পাথরের ঘর।
মাঝখানে কাঠের এক বাক্স, মরচে ধরা ধাতুর চেন দিয়ে বাঁধা।
দিনু মামা ফিসফিস করে বলল—
— “এই বাক্সটাই আমার দাদুর উল্লেখ করা জিনিস।”
টুবলু উচ্ছ্বসিত,
— “জলদি খোলো !”
বাক্সের ভিতর… ছোটমামা তালাটা ভাঙতেই কাঠের ঢাকনা খুলে গেল।
সবাই নিশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে রইল।
ভিতরে—  কয়েকটি পুরোনো দলিল রক্তমাখা একটি পতাকা। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নাম লেখা এক চিঠি
আর এক ছোট্ট লোহার পিস্তল—যাতে খোদাই করা— '১৯৪২: যুগান্তরের শপথ আর কিছু সেই সময়ের টাকা ।

টুপাই এর চোখ বড়ো:
— “ওই পতাকাটা? রক্তমাখা কেন?”
দিনুমামার র চোখ ভিজে উঠল।
— “কারণ এটা আমার দাদুর। তিনি ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলনে’ অংশ নিয়েছিলেন। যখন পুলিশ গুলি চালায়, তিনি এই পতাকাটা নিয়ে দৌড়েছিলেন আর তাতে রক্ত লেগেছিল।”
টুপাই অবাক—
— “তাহলে… এটা ইতিহাসের অংশ!”
ছোটমামা গভীর গলায় বললেন—
— “এটা শুধু গুপ্তধন নয়। এটা ভারতের স্বাধীনতার নথি।”
সবাই বাক্সের ওপর মাথা নুয়ে দাঁড়াল।
মনে হলো যেন অতীতের সংগ্রামী আত্মারা এই অন্ধকার ঘরে উপস্থিত।
ঠিক তখনই— হঠাৎ বিপদ!
উপরের দিক থেকে ধাপ! ধাপ! ধাপ! শব্দ।
ধনপতি দাদুর ভয়ে কাঁপা গলা শোনা গেল—
— “লোকজন! কেউ এসেছে! একদল লোক… হাতে লাঠি!”
দিনু মামার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে বলল—
— “এরা-ই সেই চোরাচক্র! যারা মানচিত্রের খোঁজে ছিল!” ধনপতি কাকা যখন এই মানচিত্র টা পেয়েছিলেন তখন দুজন লোক সেটা দেখেছিল,মনে হয় তারা চোর ছিল । ভাঙা মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছিল চুরির পর ।তাদের মারফত খবর টা যায় তাদের দলে । ওদের ধারণা গুপ্তধন মোহর এসব লেখা আছে মানচিত্রে ।
ছোটমামা তৎক্ষণাৎ বললেন—
— “সাবধানে! বাক্স বন্ধ করো, সবাই পিছনে দাঁড়াও!”
উপরের ফাঁক দিয়ে দেখা গেল তিনজন ছায়ামূর্তি মন্দিরে ঢুকেছে।
একজন গম্ভীর গলায় বলল—
— “মানচিত্র পেয়েছ? ওই বাক্সটা আমাদের দাও!”
টুবলু টুপাই দম বন্ধ করে তাকিয়ে আছে। উপরে তিনজন ডাকাত। নিচে অন্ধকার ঘর। পালানোর পথ নেই।
মুখোশধারী ডাকাত আবার চেঁচিয়ে উঠল — “বাক্স দাও! নইলে মন্দিরটাই ধসে দেব!”
টুংডা ফিসফিস করে বলল,
— “এখন কী হবে?”
ছোটমামার চোখে তীক্ষ্ণ ঝিলিক।
তিনি ধীরে বললেন — “বাচ্চারা… তোমাদের একটা কাজ করতে হবে।”
সবাই একসঙ্গে জিজ্ঞেস করল— “কাজ?”
ছোটমামা হাসলেন— “হ্যাঁ। এ রহস্যের আসল টুইস্ট এখনো বাকি। আর সেটা তোমরাই উন্মোচন করবে।”

পর্ব ৪: 

শেষ রহস্য ও সত্যের বিজয়


মন্দিরের তলার ঘরে নিঃশ্বাস বন্ধ করা উত্তেজনা। উপরে দাঁড়িয়ে তিনজন দুষ্কৃতী—আর নিচে ছোটমামা, দিনুমামা , ধনপতি দাদু আর তিনজন ছোট গোয়েন্দা।
ছোটমামা খুব ধীরে বললেন— “শোনো, ভয় পেও না। এদের হারানোর উপায় আছে… আর সেটা তোমরাই করবে।”
টুবলু ফিসফিস করে বলল— “কীভাবে?”
ছোটমামা চোখ টিপে বললেন— “এই কুঠুরির আরেকটা গোপন পথ আছে। মানচিত্রটা ভালো করে দেখো।”
দিনুদা তাড়াতাড়ি মানচিত্র খুলে দেখল— সত্যিই! কুঠুরির এক পাশে আঁকা একটা সরু পথ, যা মন্দিরের পেছনের ঝোপে গিয়ে বেরিয়েছে।
টুংডা উত্তেজিত— “মানে আমরা বেরিয়ে গিয়ে ওদের ঘিরে ফেলতে পারি!”
ছোটমামা মাথা নাড়লেন— “ঠিক তাই। তবে একটা দল এখানে থাকবে, যাতে ওরা ভাবে আমরা এখনো নিচেই আছি।”
পরিকল্পনা ঠিক হলো—  টুপাই, টুংডা,আর ছোটমামা গোপন পথে বেরোবে
 টুবলু দিনুমামা আর ধনপতি দাদু নিচে থেকে শব্দ করে দুষ্কৃতীদের ভুলিয়ে রাখবে চূড়ান্ত মুখোমুখি
গোপন পথ দিয়ে বেরিয়ে তিনজন নিঃশব্দে মন্দিরের পেছনে এসে দাঁড়াল।
উপরে দুষ্কৃতীরা তখনো চিৎকার করছে — “সময় শেষ! বাক্স দাও!”
হঠাৎ পিছন থেকে ছোটমামার গলা — “বাক্স চাই? আগে আমাদের ধরো!”
দুষ্কৃতীরা ঘুরে তাকাতেই হতভম্ব!
— “তোমরা এখানে কীভাবে?”
ঠিক তখনই টুপাই ঝোপ থেকে লাঠি তুলে সামনে দাঁড়াল। আর টুংডা ক্যারাটে র পোজ নিলো ।
ভেতর থেকে টুবলু রা চেঁচিয়ে উঠল।
চারদিক থেকে ঘিরে ফেলায় দুষ্কৃতীরা দিশেহারা হয়ে পড়ল।
একজন পালাতে গেলে ছোটমামা তার হাত চেপে ধরলেন।
— “সব শেষ। এখন পুলিশে দিচ্ছি।”এখানে আসার আগে পুলিশ কে জানিয়ে এসেছিলাম ।

ধনপতি দাদু ও সাহস পেয়ে সামনে এলেন— “এরা অনেকদিন ধরে এই গুপ্তধনের খোঁজ করছিল!”
সত্যের আসল উন্মোচন (বড়ো টুইস্ট) সব শান্ত হলে দিনুমামা ধীরে বলল — “একটা কথা এখনো বলা হয়নি…”
সবাই তাকাল।
দিনুদা বলল — “আমার দাদুর নাম ছিল… বিপুল চন্দ্র মিত্র ।”
ছোটমামা হঠাৎ চমকে উঠলেন— “কি বলছো?”
টুবলু রা অবাক — “তুমি চেনো?”
ছোটমামা ধীরে বসে পড়লেন, গলায় আবেগ— “তিনি শুধু তোমার দাদু নন… তিনি আমার দাদুর সহযোদ্ধা ছিলেন!”
সবাই স্তব্ধ।
ছোটমামা বললেন— “আমার দাদু শিবাশিস বন্দোপাধ্যায় ও স্বাধীনতা আন্দোলনে ছিলেন তবে একদম সরাসরি অংশ নিয়ে না ,কেনো কি জমিদারির দায়িত্ব ছিল ।প্রজাদের জন্য কাজ করতে হতো।তাই সরাসরি একদম অংশ নিয়ে স্বাধীনতার কাজ করতে গেলে এই দিকের সব ছাড়তে হতো ।
তাই তিনি গোপনে ওদের সাথে যুক্ত ছিলেন ।ওনাদের হেল্প করতেন নানা ভাবে বাড়িতে গোপন বৈঠক হতো আর এই শিব মন্দির এ যখন বৈঠক হতো ওনার লেঠেল রা পাহারা দিতো আসে পাশে ।ওদের মধ্যে বংশী লেঠেল দাদুর সব থেকে কাছের ছিল । এই ভাবেই দাদুর সাথে যোগাযোগ ও ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে বিপুল কাকুর ।

হয়তো তাঁরা একসঙ্গে এই মন্দিরে একটা ‘গোপন স্মৃতি’ লুকিয়ে রাখেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানে স্বাধীনতার মূল্য।”
তবে একটা প্রশ্ন তোমাদের মানচিত্র টা পেয়ে তোমরা আমাদের দেখালে না কেনো? তাহলে প্রথম থেকেই হেল্প করতে পারতাম ।
ধনপতি দাদু বললেন বললো বহু বার ভেবেছি ,আসলে যখন মানচিত্র আর তার সাথে একটা আটকানো চিঠি টা যখন পাই তাতে লেখা ছিল এই মন্দিরের গুপ্ত স্থানে কিছু অমূল্য গুপ্ত জিনিস আছে ।আমি জমিদার বাবুকে বলার সুযোগ পাইনি কোথায় রেখে যাচ্ছি ।যদি কেউ খুঁজে পায় এই চিঠি সে যেনো আমার ভাই এর পরিবারের হাতে তুলে দেয় ।আমার সময় নেই ।যেকোনো সময় কোথাও ধরা পড়তে পারি ।জানিনা কিভাবে মৃত্যু আসবে । ইতি বিপুল চন্দ্র মিত্র।
দিনুমামার চোখ ভিজে উঠল—হ্যাঁ উনি আমার বাবার কাকা ছিলেন ।নিজে বিয়ে করেন নি স্বাধীনতার কাজের জন্য । আমি কখনও দেখিনি ওনাকে ,শুধু গল্প শুনেছি ।
আমি এখানে যখন আসি সত্যি ওনার সাথে জমিদার বাবুর সম্পর্ক জানতাম না ।ঘটনা চক্রে একদিন ধনপতি কাকার সাথে দাদুর গল্প করতে করতে কাকা তখন সেই মানচিত্র চিঠি সম্পর্কে সব বলে দেখায় ।
আমরা ভেবেছি আপনারা এত ব্যস্ত , বড়দা কোর্ট নিয়ে আপনি কলেজ নিয়ে এত সময় কখন পাবেন এদিক দেখার তাই একটু নিজেদের মত করে খুঁজতে গেছিলাম ভেবেছিলাম যদি পেয়ে যাই ভালো তখন তো সব বলবো ই আর না পেলে আপনাদের দিয়ে কোথাও যোগাযোগ করব যেখানে এসব নিয়ে কাজ করে । এই বার যখন ধনপতি কাকা যখন খুঁজে পায় এই চিঠি ,দুজন লোক ধনপতি কাকা কে দেখে ফেলে তাদের মারফত এই আজকের ধরা পড়া চোর চক্র জানতে পারে।
বেশ বুঝলাম ছোট মামা ধীরে বলে ।
আসলে দাদু খুব গোপনে কাজ করতেন এই সব বিপ্লবী দের সাহায্যের কাজ ।আমি কিছুটা জেনেছি ওনার ডায়েরি তে আর কিছু বংশী লেঠেলের থেকে ।
বংশী দাদুর অনেক ব্যাপার জন্য ।মনিব অন্ত প্রাণ ছিল । এবার দাদুর ডায়েরি তে আলাদা করে কোনো বিপ্লবীর নাম উল্লেখ ছিল না ।কিন্তু ওদের সাথে যোগাযোগ ছিল ,বৈঠক বসত ,দাদু হেল্প করতেন কত জন কে পুলিশের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন উল্লেখ আছে ।এবং ওই শিব মন্দির এও বৈঠক হতো তাও উল্লেখ আছে । তবে একটা জায়গায় কোনো একটা কথা প্রসঙ্গে বিপুল ,নিখিল ,পবন , অনন্ত বলে কজনের নাম আছে ।এবার দিনু দা যখন বললো তার দাদু বিপুল চন্দ্র মিত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে যুক্ত ছিলেন আমি চমকে উঠি তাহলে ইনি সেই হবে ।
আমি আগে পড়লেও ঠিক মনে ছিল না , পরে ডায়েরি টা আবার খুঁজে নাম পাই ।আবার মানচিত্রের সাথে চিঠি তে দাদুর নাম না থাকলেও জমিদার বাবু বলে উল্লেখ আছে ।অন্য জমিদার বাবু হতে পারে না ।কারণ এই শিব মন্দির এর আসে পাশে দাদুদেরই জমিদারি ছিল তাই দুইয়ে দুইয়ে চার করলাম ।

— “তাহলে… আমরা একই ইতিহাসের অংশ…”
টুবলু আস্তে বলল— “তাই তো এই রহস্য আমাদের কাছে এল…”

শেষ দৃশ্য 

সত্যের সম্মান

সবাই বৈঠক খানা ঘরে জড়ো হয়েছে ।
 পুলিশ সেই রাতেই এসে দুষ্কৃতীদের নিয়ে গেছে ।
আবার সকালেও এসেছে ।সাথে দুজন নিউজ রিপোর্টার ও হাজির ।
মন্দিরের কুঠুরি থেকে পাওয়া সব জিনিস স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হলো, যাতে সেগুলো সংরক্ষণ করা যায়।
গ্রামের মানুষ জড়ো হয়ে সেই পতাকা আর দলিল দেখে গর্বে ভরে উঠল।
ধনপতি দাদু বললো—
— “এতদিন ভয়ে চুপ ছিলাম… আজ মনে হচ্ছে দায়িত্বটা পূরণ হলো।”
ছোটমামা হাসলো 
— “ইতিহাস কখনো লুকিয়ে থাকে না, ঠিক সময়ে নিজেই সামনে আসে।”
টুকটুকি বলল—
— “আমরা আবার অ্যাডভেঞ্চার করব তো?”
টুংডা হেসে বলল—
— “অবশ্যই! রহস্য তো শেষ হয় না!”
সবাই হেসে উঠল।
ছোট মাসী বলল আমি তো স্কুল খুললেই সবাইকে গল্প টা বলবো ।
মামী বললো, ভাবতেই ভালো লাগছে আজকের এই খবর টা নিউজে দেখাবে ।
বড়ো মামা বলে উঠলো তোরা তো দারুন কাজ করলি রে ,আমার খুব আনন্দ হচ্ছে গর্ব ও।
আবার এই কাজে রামের সেতু গড়ার সময় যেমন কাঠবেড়ালি রা হেল্প করেছিল টুলটুলি, টুকটুকিও আছে । কোর্টে গিয়ে দারুন গল্প হবে । আজ তোদের সবার জন্য স্পেশাল খাওয়া দাওয়ার আয়োজন হবে ।আর কদিনের জন্য সবাই মিলে কোথাও ঘুরতে যাওয়া যদি এই গ্রীষ্মে কোথাও না যাস তাহলে টুবলুর মাধ্যমিক টা হলেই! ফেব্রুয়ারি তে তখন ঠান্ডা ঠান্ডা থাকবে ।
টুপাই এর মা বললো, হ্যাঁ হ্যাঁ সেই ভালো ।তখন বেশি মজা হবে । মেজো মাসি এসে বলল এই সব ঘরে চলো আজ লুচি ,ঘুঙনি কালো জাম আর রসমালাই ।মা জবা দি ডিস সাজাচ্ছে ।ডাকছে সবাই কে ।
বড়ো মামা বললো তাহলে বাচ্চারা তোমরা ঘরে যাও আর দিনু , জবার সাথে একটু খাবার গুলো একটু এনে দাও এখানে বড়োবাবু , সাংবাদিক মশাই এনারাও আছেন ।আমরা ওদের সাথেই বসবো ।
আর কোথায় যাওয়া হবে তোমরা বাচ্ছারা ঠিক করে নিও সবাই মিলে ।
সবাই একসাথে চিৎকার করে উঠলো .. হুররে!

সমাপ্তি

গ্রীষ্মের সেই অলস দুপুর থেকে শুরু হওয়া ছোট্ট এক অ্যাডভেঞ্চার শেষ হলো এক বড়ো সত্যের আবিষ্কারে— গুপ্তধনের থেকেও মূল্যবান হলো ইতিহাস, আর সাহসের থেকেও বড়ো হলো একতার শক্তি।
আর টুবলুদের কাছে— এটা ছিল তাদের জীবনের প্রথম, কিন্তু সবচেয়ে স্মরণীয় গোয়েন্দা অভিযান।
=============================
 
পাল্লা রোড, পূর্ব বর্ধমান । 

ছবি ইন্টারনেট 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.