গল্প ।। বাচাল বুড়ো ।। প্রতীক মিত্র

 

বাচাল বুড়ো 

প্রতীক মিত্র  


রুটির দোকানে বুড়োটা বসে থাকে। বাড়িতে ওর কেউ নেই। ছেলে প্রতিষ্ঠিত অন্য দেশে। মেয়ের বিয়ে হয়েছে অন্য রাজ্যে। ফোনে দু'জনেই বুড়োর সাথে যোগাযোগ রাখে। বাবা বলে কথা। তবে ওই! কথা বাবা এত বলে যে কিছুক্ষণ পর আর 
নেওয়া যায় না। ফলে, ফোন রেখেই দিতে হয়। রুটির দোকানে তো আর ফোন লাগবে না। কারোকে দেখতে পেলেই হল। বকবক শুরু। আগে লোক মিলে যেত। লোক আজকালও পাওয়া যায়, কিন্তু তারা আর কথা বলতে চায় না। যারা রুটি নিতে আসে, মোটের ওপর চেনা। তারা বুড়োটাকেও চেনে। ফলে, বুড়োর সাথে কথার জালে জড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেয়না। একজন- আধজন অন্য এলাকা থেকে হাজির হলে তারা ফেঁসে যায়। বুড়োর কাছে ফ্লাস্কে চা'ও মজুদ থাকে। তার অতীতের গল্প, তার স্বর্গীয় পত্নী, তার ভ্রমণ, তার প্রতিপত্তি ইত্যাদিই তার কথার বিষয়। রুটি বিক্রেতার এই সব গল্পই শোনা। প্রথম প্রথম সে বিরক্ত হত এই ভেবে যদি বুড়োর এই সব একই কথা শুনে খদ্দেররা বিরক্ত হয়ে দোকান থেকে চলে যেত। বুড়োর কথা শুনতে তারাও বিরক্ত, কিন্তু তার জন্য তারা রুটি নেওয়া থামিয়ে দেয়নি। রুটি বিক্রেতাই বা কি করবে? বুড়ো মানুষ। বাড়িতে কেউ নেই। রুটি বিক্রেতারও নির্ঘাত মায়া পড়ে গেছে। তাই একটা গোটা বেঞ্চ বুড়োর জন্য ছেড়ে দিয়েছে। বুড়ো ওখানেই বসে থাকে। দু'বেলা খেয়ে নেয়। বাড়ি যেতে চায় না রাতটুকু ছাড়া। অনিচ্ছা নিয়ে রাতে খালি বাড়িতে ঢুকলে, আওয়াজ আর আলোয় চমকে ওঠে। বউ আর ছোটো ছেলে-মেয়ের হাসির রোলে মুখরিত হয়ে ওঠে বাড়ি। ক্ষণিকের অট্টহাসির পরই কান্নায় ভেঙে পড়ে সে।

প্রতীক মিত্র

কোন্নগর, হুগলী
ফোন: ৮৯০২৪১৮৪১৭

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.