গল্প।। কালবৈশাখীর সন্ধ্যা ।। অঙ্কিতা পাল ( বিশ্বাস )


 

কালবৈশাখীর সন্ধ্যা

 অঙ্কিতা পাল ( বিশ্বাস )



আমি আর নন্দিনী এক গ্রীষ্মর অবকাশে তাদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে তার দাদু ঠাকুমা সহ পরিবারের অন্যান্যরা থাকেন বা বাস করেন। গ্রামের নাম হৃদয়পুর, মনে করেছিলাম সেখানে অন্তত এক সপ্তাহ থাকবো। সেখানকার দিঘি, নদী, পুকুর হাঁস-মুরগি, গরু,  ছাগল, ভেড়া, শস্য শ্যামলা ক্ষেত, টল টল জলে পদ্ম ফুলের সাথে রাশেদের সাঁতার কাটা এসব তো শহরে নেই বললেই চলে। তাই শহুরে বদ্ধ পরিবেশ থেকে একটু নিজেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলাম, কারণ এখানে সর্বদাই ব্যস্ততা এবং যান্ত্রিক কোলাহল।

       অপরাহ্ন হতেই মুক্ত পরিবেশে নির্মল বাতাসে বেরিয়ে পড়লাম নদীর ধারে, হঠাৎ করেই ঘন কালো মেঘে নীল আকাশ ছড়িয়ে গেলো...............
আমরা তখন মাঝ নদীতে নৌকায় ভেসে চলেছি.................
তরি তীরে পৌঁছানোর আগেই প্রচন্ড ঝড় শুরু হলো, ঢেউয়ের  তরঙ্গে টলোমলো নৌকা। ঘাটে এসে নৌকা বেঁধে মাঝি বললেন - এখন বাড়ি যাওয়া হবেক নাই ওই ঘরে বসো। খুব জল আসবেক।

ঘাটের পাশে থাকা প্রকাণ্ড বট গাছের নিচে একখানি দর্মার বেড়ার যাত্রী প্রতীক্ষালয় আছে সেখানেই বিশ্রাম করলাম।
"শো শো"  শব্দে ঝড়ের সাথে বৃষ্টি হলো খুব গাছের ডাল গুলি জোরে জোরে দোল খাচ্ছে অনবরত সাথে বিদ্যুতের  সঞ্চার। কখন যেন সন্ধ্যে নেমে এলো বুঝতেই পারলাম না, একটি কেরোসিনের লম্প জ্বলছে মিটমিট করে।
প্রকৃতির  রোষ  কিছুটা শান্ত হতেই চলেছি দুজনে গাঁয়ের পথে...........
চারিদিকে নেমে এলো আঁধার বাড়ি থেকে ফোন আসছে অনবরত বোধ করি তেনারা খুব চিন্তায় আছেন।
একটা মেঠো পথ ধরে এগিয়ে চলেছি দু'পাশে ঝোপঝাড় জঙ্গলে ভরা ; মনে হলো কেউ যেন আমাদের পিছন পিছন এগিয়ে আসছে। আমরা যতই এগোই সেও চলে পাছে পাছে পিছনে তাকাতেই অদৃশ্য । কেমন যেন গা ছমছমে পরিবেশ, দুজনে ভয়ে ভয়ে ফোনের আলোটা জ্বালিয়ে চলেছি আবারো খসখস শব্দ কি হচ্ছে এসব আমাদের সাথে? চারিপাশ  খুটঘুটে  অন্ধকার। ঝিঝিপোকার সাথে ব্যাঙের "ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর" ডাক। হঠাৎ কি যেন একটা পায়ে লাগলো আচমকাই আলোতে দেখলাম একখানি সাপ চলে গেলো। আরে বাবা সাপ! কি ভয়ংকর অভিজ্ঞতা ভয়ে গায়ে কাঁটা দিচ্ছে।
আবারো কি যেন একটি সশব্দে চমকে উঠলাম দুজনেই দেখলাম একখানা বড় ডাল গাছ থেকে খসে পড়লো। দুজনে সরাবার অনেক চেষ্টা করলাম কিন্তু পারলাম না। হায় ঈশ্বর! সব পথ বন্ধ হয়ে গেল যে দুটি মেয়ে আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি পথ দেখাও প্রভু।

অনেক দূর থেকে ছোট ছোট আলো ভেসে ভেসে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে ক্রমশ...........
কাছে আসতেই দেখি নন্দিনীর বাড়ির লোক ওই তো মানু কাকা, শ্যামল মামা, প্রিয়া মামী আমাদের খুঁজতে বেরিয়ে পড়েছেন। সেদিন রাতে ওই বাড়ির গুরুজনেরা আমাদের খুব বকাবকি করলেন এবং বাড়িতে খবর দিলেন।
পরের দিন সকালে বাবা-মা কাকু কাকিমা আমাদেরকে নিয়ে কলকাতায় চলে এলেন।
তবে এই ধরনের ভয়ংকর কালবৈশাখীর অভিজ্ঞতা সারা জীবন মনে রইলো।

ভাঙ্গড় দক্ষিণ ২৪ পরগনা
দূরভাষ - ৯৭৪৯৬১৭২২০নাম - অঙ্কিতা পাল ( বিশ্বাস )


আমি আর নন্দিনী এক গ্রীষ্মর অবকাশে
তাদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে তার দাদু ঠাকুমা সহ পরিবারের অন্যান্যরা থাকেন বা বাস করেন। গ্রামের নাম হৃদয়পুর, মনে করেছিলাম সেখানে অন্তত এক সপ্তাহ থাকবো। সেখানকার দিঘি, নদী, পুকুর হাঁস-মুরগি, গরু,  ছাগল, ভেড়া, শস্য শ্যামলা ক্ষেত, টল টল জলে পদ্ম ফুলের সাথে হাঁসদের সাঁতার কাটা এসব তো শহরে নেই বললেই চলে। তাই শহুরে বদ্ধ পরিবেশ থেকে একটু নিজেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলাম, কারণ এখানে সর্বদাই ব্যস্ততা এবং যান্ত্রিক কোলাহল।

       অপরাহ্ন হতেই মুক্ত পরিবেশে নির্মল বাতাসে বেরিয়ে পড়লাম নদীর ধারে, হঠাৎ করেই ঘন কালো মেঘ নীল আকাশে ছড়িয়ে গেলো...............
আমরা তখনও মাঝ নদীতে নৌকায় ভেসে চলেছি.................
তরি তীরে পৌঁছানোর আগেই প্রচন্ড ঝড় শুরু হলো, ঢেউয়ের  তরঙ্গে টলোমলো নৌকা। ঘাটে এসে তরি বেঁধে মাঝি বললেন - এখন বাড়ি যাওয়া হবেক নাই ওই ঘরে বসো। খুব জল আসবেক।

ঘাটের পাশে থাকা প্রকাণ্ড বট গাছের নিচে একখানি দর্মার বেড়ার যাত্রী প্রতীক্ষালয় আছে সেখানেই কিছুক্ষন বিশ্রাম করলাম এবং কালবৈশাখীর তান্ডব দেখলাম।
"শো শো"  শব্দে ঝড়ের সাথে বৃষ্টি হলো খুব গাছের ডাল গুলি জোরে জোরে দোল খাচ্ছে অনবরত সাথে বিদ্যুতের  সঞ্চার। কখন যেন সন্ধ্যে নেমে এলো বুঝতেই পারলাম না, একটি কেরোসিনের লম্প জ্বলছে মিটমিট করে।
প্রকৃতির  রোষ  কিছুটা শান্ত হতেই চলেছি দুজনে গাঁয়ের পথে...........
চারিদিকে নেমে এলো আঁধার বাড়ি থেকে ফোন আসছে অনবরত বোধ করি তেনারা খুব চিন্তায় আছেন।
একটা মেঠো পথ ধরে এগিয়ে চলেছি দু'পাশে ঝোপঝাড় জঙ্গলে ভরা ; মনে হলো কেউ যেন আমাদের পিছন পিছন এগিয়ে আসছে। আমরা যতই এগোই সেও চলে পাছে পাছে পিছনে তাকাতেই অদৃশ্য । কেমন যেন গা ছমছমে পরিবেশ, দুজনে ভয়ে ভয়ে ফোনের আলোটা জ্বালিয়ে চলেছি আবারো খসখস শব্দ কি হচ্ছে এসব আমাদের সাথে? চারিপাশে খুটঘুটে  অন্ধকার। ঝিঝিপোকার সাথে ব্যাঙের "ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর" ডাক। হঠাৎ কি যেন একটা পায়ে লাগলো আচমকাই আলোতে দেখলাম একখানি সাপ চলে গেলো। আরে বাবা সাপ! কি ভয়ংকর অভিজ্ঞতা ভয়ে গায়ে কাঁটা দিচ্ছে।
আবারো কি যেন একটি সশব্দে চমকে উঠলাম দুজনেই দেখলাম একখানা বড় ডাল গাছ থেকে খসে পড়লো। দুজনে সরাবার অনেক চেষ্টা করলাম কিন্তু পারলাম না। হায় ঈশ্বর! সব পথ বন্ধ হয়ে গেলো যে দুটি মেয়ে আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি পথ দেখাও প্রভু ; পথ দেখাও।

অনেক দূর থেকে ছোট ছোট আলো ভেসে ভেসে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে ক্রমশ...........
কাছে আসতেই দেখি নন্দিনীর বাড়ির লোক ওই তো মানু কাকা, শ্যামল মামা, প্রিয়া মামী আমাদের খুঁজতে বেরিয়ে পড়েছেন। সেদিন রাতে ওই বাড়ির গুরুজনেরা আমাদের খুব বকাবকি করলেন এবং বাড়িতে খবর দিলেন।
পরের দিন সকালে বাবা-মা কাকু কাকিমা আমাদেরকে নিয়ে কলকাতায় চলে এলেন।
তবে এই ধরনের ভয়ংকর কালবৈশাখীর অভিজ্ঞতা সারা জীবন মনে রইলো।
---------------------------------------

ভাঙ্গড় , দক্ষিণ ২৪ পরগনা

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.