নাম-কীর্তন
গোবিন্দ মোদক
তিন দিন ধরে নাগাড়ে নাম-কীর্তন চলছে নীলকন্ঠ হালদারের বাড়ি — শ্রোতারা কেঁদে আকুল! আহা, এতো ভালো নাম-কীর্তন গাইতে পারে এমন দল আগে আর আসেনি এ এলাকায়। মনকাড়া পরিবেশনা শুনে পাথরের চোখেও জল আসে! কথাটা শুনে এলাকার মাতব্বর কেষ্ট দালাল খুব এক চোট হাসলো; তারপর বললো — কীর্তন শুনে কান্না! যত্তোসব উজবুকের দল!
অগত্যা উজবুকের (!) দল কেষ্ট দালালের সঙ্গে বাজি ধরলো — এ কীর্তন শুনে কেষ্ট তো কোন ছার, অতি বড়ো পাষণ্ডও কেঁদে আকুল হবে! কেষ্ট চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় নামলো। এক দিন যায় .... দু'দিন যায় .... কীর্তন গায়কদের কান্না মিশ্রিত ভাব-সংগীত শুনে মুখ টিপে হাসে কেষ্ট! উজবুকের দল একপ্রকার হাল ছেড়ে দিয়েছে!
অবশেষে প্রাঙ্গণে এসে কীর্তন গাইতে শুরু করলো বছর তেরো-চৌদ্দর একটি কিশোর। তার অপূর্ব গায়কীর এর সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত করতে লাগল বাঁশি, সারেঙ্গী ও বেহালাবাদক। গাইতে গাইতে কখন যেন আনমনে ছেলেটি এসে জড়িয়ে ধরল কেষ্ট দালালের গলা, বললো — বলো ঠাকুর, তুমিও বলো —
হরেকৃষ্ণ হরেকৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে!
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে!!
কেষ্ট দালাল কোনও কথা বলতে পারলো না — হঠাৎই কিশোর গায়ককে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। তার কান্নার সুরে সুর মেলালো আড়বাঁশি, বেহালা আর সারেঙ্গী বাদকের দল।
_____________________
প্রেরক: গোবিন্দ মোদক।
সম্পাদক: কথা কোলাজ সাহিত্য পত্রিকা।
রাধানগর, ডাক- ঘূর্ণি, কৃষ্ণনগর, নদিয়া।
পশ্চিমবঙ্গ, ডাকসূচক - 741103

