গল্প।। ফ্রেংকেস্টাইন ।। দীপক পাল


ফ্রেংকেস্টাইন 

  দীপক পাল


কাল রবিবার। অনি আজ সারা দুপুর একটা রোমাঞ্চকর বইয়ে মগ্ন ছিল। বইটার নাম মেরি শেলীর লেখা 'ফ্রেংকেস্টাইন'। যদিও ও যেটা পড়ছে সেটা একটা ছোটদের বঙ্গানুবাদ। অনি সেটা রুদ্ধশ্বাসে পড়ছে। পড়ছে আর রোমাঞ্চিত হচ্ছে। পাশেই ছুটকিকে নিয়ে মা ঘুমোচ্ছে। মা কিন্তু দু দুবার বলেছে ওকে ' একটু ঘুমো, নইলে রাতে পড়ার বই পড়তে গেলে তখন ঘুম পাবে '। কিন্তু কে কার কথা শোনে। ওর যে গল্পের বই পড়ার ভীষণ নেশা। আর এ রকম বই ওর খুব প্রিয়। বেশ ভয় ভয় করলেও বেশ রহস্যজনক বটে। পায়ের কাছে গুন্ডাটা ঘুমোচ্ছিল মায়ের বকুনিতে বেড়ালটা একবার উঠে দাঁড়িয়ে পড়েছিল। অনি তাই দেখে ওকে বলে, ' এই গুন্ডা উঠলি কেন শুয়ে পড়'। গুন্ডাও একটু এদিক ওদিক তাকিয়ে অনুকূল পরিবেশ দেখে অনির দিকে তাকিয়ে ' ম্যঁও ' ডাক শুনিয়ে একটু ব্যায়াম করে নিলো তারপর বসে জিভ চেটে নিয়ে আবার শুয়ে পড়লো। বইটা প্রায় শেষ করে আনার মধ্যেই ওর হাত থেকে বইটা খসে পরলো কখন আর ঘুমিয়েই বা পরলো কখন কে জানে। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে সে স্বপ্ন দেখছিল ঘরে ও পড়াশোনা করছিল মন দিয়ে। মাথায় একটু হাওয়া লাগাবার জন্য জানালার কাছে এসে দাঁড়াল অনি। সামনে তাকাতেই চমকে গেল। দেখলো অস্বাভাবিক রকমের একটা লম্বা লোক রাস্তার ওপারে জমির ওপরে কাঠের মতো দাঁড়িয়ে আছে আলোছায়ার মধ্যে। অনি ভাল করে দেখার চেষ্টা করলো ঠিক সেই সময় ঐ লোকটা মাথা তুলে ওর দিকে তাকাতেই তার চোখটা দপ করে জ্বলে উঠল ও লম্বা পা ফেলে রাস্তায় উঠলো তারপর পা টেনে টেনে অনির দিকে এগোতে থাকলো। অনি ভীষণ ভয় পেয়ে চিৎকার করে মাকে ডাকতে লাগলো কিন্তু গলা দিয়ে কোন আওয়াজ বেরলো না। এদিকে সেই লম্বা লোকটা টলতে টলতে ওর দিকে এগোতে থাকলো। অনি পালিয়ে পাশের ঘরে যাবার চেষ্টা করলো কিন্তু তার পা দুটো মেঝের গায়ে পুরোপুরি সেঁটে গেছে। বিভৎস দেখতে ঐ লোকটা এসে প্রথমে বুক চাপড়ে নিয়ে জানালার দুটো শিক ধরে ভাঙার চেষ্টা করতে লাগলো আর হিংস্র চোখে ওর দিকে তাকাচ্ছে বার বার। ভয়ে মা মা করে ডাকার চেষ্টা করতে লাগলো কিন্তু ' অনি, এই অনি ' বলে কে যেন ডাকতেই অনির ঘুম ভেঙে গেল। চোখ মেলতেই দেখে জানলার শিক ধরে কে যেন দাঁড়িয়ে আছে। ঘরের আলো জ্বলছে না অথচ ছায়ামূর্তির পেছনে রাস্তার অল্প আলোয় মুখটা তার দেখা যাচ্ছে না। ভয়ার্ত গলায় অনি বলে, 'কে ওখানে?' ছায়ামূর্তিটা বলে উঠলো, 'কিরে অনি আমায় চিনতে পারছিসনা। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে গোঁ গোঁ করছিলি কেন, স্বপ্ন দেখছিলি নাকি? নে দরজাটা এবার খোল। তোর মা এখন ঠাকুর ঘরে'।

            লজ্জায় ওর বাবার কাছে মুখ দেখাতে ইচ্ছে করলো না। ছুটকি ঘরে ঢুকে বলে, ' এই দাদাভাই দরজাটা তাড়াতাড়ি খুলে দে, বাবা এসেছে। আমি কিছুতেই খুলতে পারছি না '। অনি উঠে দাঁড়াল ঘরের লাইট জ্বালালো, ' চল ' বলে ছুটকির হাত ধরে সদর দরজাটা খুলে দিতেই বাবা হুড়মুড় করে ঢুকে পড়লো। বললো, ' আজকে তোর কি হলো এত দেরী করে উঠলি যে। তাও আমি না ডাকলে আরো কতক্ষণ ঘুমোতি কে জানে। এদিকে আমি মোড়ের দোকান থেকে গরম গরম সিঙারা কিনে আনলাম মুড়ি দিয়ে চায়ের সাথে মজা করে খাব বলে'। ঠাকুর ঘর থেকে শাঁখের আওয়াজ শোনা গেল। পূজো হয়ে গেছে মায়ের। অনি বাবার হাত থেকে সিঙারার ঠোঙাটা নিয়ে রান্নাঘরে চাপা দিয়ে রেখে এলো। ঘুরতেই দেখে গুন্ডাটা ওর দিকে তাকিয়ে আছে। বিড়ালটাকে কোলে তুলে নিয়ে বলে, ' তুমিও সিঙারার খবর পেয়ে গেছো।' ও বলে , ' ম্যাঁও '। অনি বলে, ' জানিস আজকে আমার আনন্দ সিঙারায় নয়, একটু আগে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যা মারাত্মক ভয়ের স্বপ্ন দেখেছিলাম না বাবা এসে না ডাকলে কি হতো আরো কে জানে বুঝলি কিছু?' গুন্ডা হুলোটা বলে মোটা গলায়, ' ম্যাঁও '। অর্থাৎ ও মনে হয় বুঝেছে।


                       _______________________________



Address:-
----------------
Dipak Kumar Paul,
DTC Southern Heights,
Block-8, Flat-1B, 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.