কৃষ্ণা
দীপঙ্কর বৈদ্য
ঘোষবাবুর মেয়েটা কালো হওয়ায় বাড়িতে অশান্তির কারণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষিত হলে কি হবে এখনো গাঁ গঞ্জে কালো মেয়ে অনেক বড়ো সমস্যা।
কৃষ্ণা বড়ো হতে হতে বড়ো একা হয়ে যেতে থাকল। বাবা খুব ভালোবাসে কিন্তু এখন কেমন বিরক্ত ভাব। মা-তো উঠতে বসতে 'গলার কাঁটা' একথাটা দিনে বেশ কয়েকবার শোনাবেই শোনাবে।
শেষ পর্যন্ত অনেক দেখেশুনে পাত্র জুটল। নগদ নেবে না। সোনা-দানা ও আসবাবে সেটা প্রায় পুরিয়ে যাবার মতো। ঘটকের মধ্যস্থতায় অনেক দিন ধরে দর কষাকষি চলল। কেটে যায় আবার জোড়া লাগে। এই করে বুড়ো বরের মন গলল প্রায় দেড় বছর পরে। তাতেই ঘোষ বাড়িতে খুশির হাওয়া বইতে শুরু করল। সকলের মুখে হাসি যেন, 'যাক বাবা, গলার কাঁটাটা এবার নামল।'
বিয়ের ঠিক সাতদিন আগে কৃষ্ণা ঘোষণা করল, 'সে বিয়ে করবে না'। কেননা কাঙ্খিত চাকরিটার জয়েনিং লেটার হাতে পেয়ে গেছে।
অনেক লুট হওয়া ভালোবাসা, আদর, যত্ন থেকে কখনো কখনো কেউ রত্ন হয়ে ওঠে। কৃষ্ণাও হলো। বিয়ে না করার সিদ্ধান্তের জন্য ঘোষ বাড়িতে কেউ আর কৃষ্ণার ওপর কথা বলার সাহস পেল না। চাকরিটা খুব দরকার ছিল। বিয়ের থেকেও দরকারি।
____________________________
ঠিকানা :
নাম - দীপঙ্কর বৈদ্য
গ্রাম - চম্পাহাটি (হালদার পাড়া)
পোঃ - চম্পাহাটি
থানা - বারুইপুর
জেলা - দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা
সূচক - ৭৪৩৩৩০

