আমন্ত্রণ
জয়শ্রী ব্যানার্জি
মহুলডাঙা
২৯ শে পৌষ,১৪৩২
দুপুর ৩:২০
প্রিয়তমেষু,
না এখানে কোনো শীতকালীন রাশিয়ান যুদ্ধের খবর নেই, স্নো ফলের সৌন্দর্য নেই, হয়তো হিমযুগে হয়েছিল কোনো একসময় বা অজস্রবার !
কুয়াশা ছুঁয়ে ছুঁয়ে চলে যায় ভোরের ট্রেন ..কাজে বেরিয়ে পড়ে শ্রমিকরা । ঠাণ্ডায় গরম চা আর বিড়ির ধোঁয়া তে আরাম খোঁজে তারা। খেজুর রসের হাঁড়ি বাঁধা থাকে গাছে। দোতলার বারান্দা থেকে দেখা যায় হলুদ রঙের বায়না নিয়ে অদূরে সর্ষে ক্ষেত ।
এখানে উঠোনে, ছাদে গোলাপ , গাঁদা, ক্যামেলিয়া, ক্যালেন্ডুলা তে অলি তিতলি আলতো আদর রেখে যায় । মিঠে রোদের অলস দুপুরে ছাদে কম্বল পেড়ে চলে আড্ডার আসর ,একপাশে আচার শুকোতে দেওয়া,একটু হালকা তন্দ্রা, টুকিটাকি গৃহস্থালি বা পুরোনো দিনের গল্প , রেডিওতে চলে আধুনিক গান,
সাথে খবরের কাগজ কিংবা লাইব্রেরি থেকে আনানো বই , তাতে পাতার ভাঁজে নীলচে পাখির পালক ।
সামনের পুকুরে দেখা যায় পানকৌড়িদের ডুব; গেটের কাছে জড়ো হওয়া আমলকির অযুত হলুদ ঝরা পাতা।
একটু দূরে রেল ব্রিজের নীচে গড়ে ওঠা একটা সংসার ..হাসাহাসি,ভালবাসাবাসি , ঝগড়াতে মেশানো ।
আয়না হাতে ষোড়শী মেয়ে, হাতে তার কাঁচের চুড়ি। চুল বেঁধে দেয় মা , বুড়ি নানী পাঁপড় বানাতে বানাতে গল্প বলে চলে .. ছোটো ভাইটা টায়ার দিয়ে গাড়ি বানিয়ে খেলে । বাপটা তাদের মাঝে মাঝে রাত বিরেতে মাতাল হয়ে ফেরে ।
পড়ে আসা অবেলার রোদ মেখে নীড়ে ফিরে চলে চেনা অচেনা পাখিদের দল । টুপ টুপ করে ঝরে পড়া পৌষালী হিমে চাদর মুড়ি দিয়ে আগুন পোহায় কিছু জন ,হাতে তাদের চপ মুড়ির ঠোঙা। দূর থেকে ভেসে আসে শেয়ালের ডাক, তাসা বাজনার শব্দ ,মাঝে মাঝে সাঁওতালি গান । পৌষ সংক্রান্তিতে পিঠেপুলি উৎসব আর ঘুড়ি মেলা।
আসবে এখানে?
না এখানে পিৎজা বার্গার পাওয়া যায়না । আলু ফুলকপি,সিম গাজর, মটরশুঁটি দিয়ে বানিয়ে দেবো খিচুড়ি , বেগুনি ,হাঁসের ডিম ভাজা। খেজুর গুড়ের পায়েস । কিংবা মটর শুঁটির কচুরি ,আলুরদম , নলেন গুড়ের রসগোল্লা আর কালো গাভীর দুধের তৈরি রাবড়ি। থেকে যাবে আমার সাথে?
রোজ বিকেলে নদীর ধারে বেড়াতে যাবো আমরা । নৌকার মতো বয়ে যাবে জীবন ! ভালবাসি বলার একবারও দরকার নেই । বাসতেও হবে না। অনেকে যা চায় কিছু দেবার দরকার নেই। শুধু রোদ ঝড় মেঘ বৃষ্টি তে সাথে থাকলেই হবে ।
ইতি
রাজেশ্বরী
রুদ্রনীল চট্টরাজ
জি ই ব্লক , সেক্টর ৩
বিধাননগর ,
কলকাতা ৭০০১০৬
===============
পাল্লা রোড, পূর্ব বর্ধমান

