মাটির মানুষ, আসমানি স্বপ্ন
ইয়াছিন ইবনে ফিরোজ
নিসর্গ তাঁর অপার কারুকার্যে যে ভূমিকে স্বহস্তে সাজিয়েছিলেন, সেটিরই নাম রূপপুর; প্রকৃতির অপার ঐশ্বর্যে সে যেন এক রূপের ডালি। দেশের এই নামটির নেপথ্যে কোনো সুদীর্ঘ উপাখ্যান না থাকলেও, একটি অনিন্দ্য রহস্যের ইঙ্গিত মেলে। এই গ্রামের প্রতিটি বাঁক যেমন মনোমুগ্ধকর, তেমনি এখানকার নারী-কূলের রূপের মাধুর্য্যও যেন এক চিরন্তন রহস্যের ঘনঘটা, যার খ্যাতি দেশজুড়ে প্রচারিত। এমন রূপে-গুণে ভাস্বর রমণী খুঁজে পাওয়া যেন সমগ্র ভারতবর্ষে এক দুর্লভ সৌভাগ্য। ফলত, দূর-দূরান্তের পথিকেরা আজও সেই রূপের মোহেই রূপপুরের উদ্দেশ্যে ধাবিত হয়। কিন্তু হায়! বাহ্যিক এই রূপের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর অন্তঃসারশূন্যতা। এখানকার জনমানস আপাত শান্ত, সরল ও স্নিগ্ধ মনে হলেও, তাদের হৃদয়ে ঈর্ষা ও পরশ্রীকাতরতার এক অলিখিত বিষবৃক্ষ যেন গেড়ে বসেছে। একজন আরেকজনের ভালো দেখতে পারে না, সহনশীলতা যেন তাদের অভিধানে এক সুদূরপরাহত শব্দ। পারস্পরিক সাহায্যের অভাব এখানে প্রকট। এখানকার মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও, ইসলামের মূল আদর্শ ও গভীর জ্ঞান ছিল তাদের জীবনযাত্রায় এক ঔদাসীন্যের প্রতিচ্ছবি। হাতে গোনা কয়েকজন ধর্মপরায়ণ 'হুজুর' ছাড়া বাকিদের জীবনে নামাজ, যাকাত, রোজা, হজ্ব পালনের সার্থকতা ছিল নিতান্তই কম। এই রূপপুরেই তাকরিমের বসতি। আর তার বন্ধু গালিবের বাড়ি ছিল সামান্য দূরে। শৈশব থেকে কৈশোরের দোরগোড়া অবধি, রূপপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের স্মৃতিতে উজ্জ্বল তাদের সম্পর্ক ছিল এক অভেদ্য বর্মের মতো, বন্ধুত্বের গাঢ়ত্ব ছিল বর্ণনার অতীত, যা কোনো বিচ্ছিন্নতার অবকাশ রাখেনি। অথচ, ভাগ্যবিধাতার এক অদৃশ্য ইঙ্গিত যেন সেই অটুট বন্ধনে ধীরে ধীরে ফাটল ধরাতে শুরু করেছে। গালিব ছিল স্বভাবতই তাকরিমের চেয়ে অধিক সুদর্শন এবং পৈতৃক সূত্রে বিপুল ধন-সম্পত্তির অধিকারী। যখন তারা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে যেত, তখন সমাজের চোখে গালিবই পেত অধিক সমীহ; তার বাবা-মা ও পারিবারিক আভিজাত্য সম্পর্কে খোঁজ নিত সকলে। পক্ষান্তরে, ঈষৎ কালো গাত্রবর্ণ ও পৈতৃক দারিদ্র্যের কারণে তাকরিমকে কেউ বিশেষ গুরুত্ব দিত না। নিতান্ত প্রয়োজন না পড়লে কেউ এগিয়ে এসে তার সাথে বাক্য বিনিময় করত না। ছোটবেলা থেকে এই বৈষম্যের করাল গ্রাস দেখতে দেখতে সে অভ্যস্ত, আবার নিরবে বিক্ষুব্ধও বটে। কিন্তু এই অর্থ-সর্বস্ব সমাজের প্রতি তার প্রশ্ন ছিল চিরন্তন: টাকার প্রতি মানুষের এই অন্ধ ভক্তি, এই গোলামী করার যুগলব্ধ অভ্যাস সে একা কিভাবে দূর করবে? কবে মানুষ বাইরের চাকচিক্য ছেড়ে অন্তরের সৌন্দর্যের দিকে দৃষ্টি দেবে? কবে ঘুচবে এই সাদা-কালো, ধনী-গরিবের বৈষম্যের প্রাচীর? এই সুন্দর দেশের জনমানসও কবে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মতো নির্মল হবে। এইসব চিন্তায় প্রায়শই তাকরিমের মন বিষণ্ণতায় ডুবে যেত। দেশের খ্যাতি, সৌন্দর্য এবং বিত্তশালীদের ভিড়ে সে নিজেকে নিতান্তই ক্ষুদ্র ও অকিঞ্চিৎকর মনে করত।
এই মানসিক দোলাচলের মাঝেই উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে তাকরিম পাড়ি জমালো মিশরের পথে, উচ্চ শিক্ষার সন্ধানে। মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানার্জনের পর সে দেশে ফিরল এক নতুন প্রত্যয় নিয়ে। দেশে ফিরে সে শুরু করল ইসলামের পবিত্র দাওয়াত দেওয়া। দেশের দরিদ্র সাধারণ মানুষ হয়তো ধর্ম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখত না, তবুও তারা তাকরিমের ডাকে সাড়া দিয়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করত ইসলামের পথ অনুসরণ করার।
তাকরিম যখন দেশের মানুষের মাঝে আধ্যাত্মিক আলোর সন্ধান দিচ্ছে, ততদিনে তার বন্ধু গালিব ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত। বিদেশ থেকে ফিরে আসা বন্ধুটি যে মানুষের মাঝে ইসলামের মর্মবাণী প্রচার করছে, এই সংবাদ শুনে গালিব যারপরনাই আনন্দিত হলো এবং তার সাথে সাক্ষাতের সংকল্প করল। কিন্তু রাষ্ট্রের নিত্যদিনের বিপুল কর্মব্যস্ততা যেন দুই বন্ধুর মিলনের পথে এক অলঙ্ঘ্য দেয়াল তুলে ধরেছিল; সেই কাঙ্ক্ষিত সাক্ষাৎ আর হয়ে ওঠেনি।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত গালিব, কর্মব্যস্ততার অজুহাতে দেশের সাধারণ জনপদে তেমন একটা ঘুরে বেড়াতেন না। জনজীবনের প্রকৃত চিত্র তাই ছিল তাঁর কাছে এক অনাবিষ্কৃত অধ্যায়। প্রতিদিনের মতো সেদিনও যখন গভীর নিদ্রার কোলে আশ্রয় নিলেন, তখন যেন এক ঘোর লাগা স্বপ্নে ভেসে গেলেন এক অজানা স্রোতে। তিনি দেখলেন, তিনি যেন ফিরে গেছেন তাঁর কৈশোরের সেই ছিন্নমূল, হতদরিদ্র জনপদে। শিক্ষায় আলোকিত সমাজ তাদের যেন পরিত্যাগ করা বর্জ্য বস্তুর মতো দূরে ঠেলে দিয়েছে; যেখানে তাদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ। ক্ষুধা আর অর্ধাহারে দিন চলে। একসময় যখন খাদ্যভান্ডার শূন্যের কোঠায়, তখন সেই জনপদের সরদার এক ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিলেন, পরবর্তী খাদ্যের সংস্থান না হওয়া পর্যন্ত, প্রত্যেক পরিবার থেকে একজনকে খাদ্য হিসেবে উৎসর্গ করতে হবে। এক পরিবার থেকে অন্য পরিবার, একজনকে খেয়ে চলল জীবন। সেই ঘূর্ণায়মান বিভীষিকার পালা যখন তাঁর পরিবারের উপর এসে পড়ল, তখন এক বুক চাপা আর্তনাদ নিয়ে সকলে তাঁকে সমর্পণ করল সেই নির্মম নিয়তির হাতে। যখনই বলি দেওয়ার জন্য তাঁকে প্রস্তুত করা হলো, যখনই তাঁর কণ্ঠনালীর উপর ইস্পাতের শীতল ছুরিটি স্পর্শ করল,ঠিক তখনই এক তীব্র আতঙ্কের শীতল স্রোতে তাঁর ঘুম ভেঙে গেল। বিছানার ওপর ধড়মড় করে উঠে বসলেন তিনি। গলায় হাত দিয়ে হাঁপাচ্ছেন, যেন সদ্য মৃত্যুদণ্ড থেকে ফিরে এসেছেন। হৃদস্পন্দন দ্রুতগামী অশ্বের মতো ওঠানামা করছে। সেই রাত্রির বাকি অংশটুকু আর তাঁর চোখে ঘুম নামল না। ভোরের মৃদু আলো ফুটতেই, ফজরের আযান ভেসে আসতেই তিনি অজু সেরে মসজিদের পথে গেলেন। ঐ দুঃস্বপ্ন দেখার পর গালিব কোথাও শান্তি পাচ্ছিলেন না। রাজকীয় ঐশ্বর্য, ক্ষমতার প্রতিপত্তি,সবকিছুই তাঁর কাছে অর্থহীন মনে হতে লাগল। হঠাৎ তাঁর মনে পড়ল তাঁর বন্ধু তাকরিমের কথা যিনি অর্থ নয়, খুঁজেছিলেন অন্তরের আলো। অস্থির চিত্তে বন্ধুর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে সারাদিন ঘুরে বেড়ালেন শহরের আনাচে-কানাচে, কিন্তু কোথাও তাঁর বন্ধুর দেখা মিলল না। সন্ধ্যার ঘোর কাটিয়ে যখন এশার আযান পড়ল, গালিব তখন মসজিদের এক কোণে বসে বিষণ্ণ মনে তাকরিমের কথাই ভাবছিলেন। এমন সময় হঠাৎ এক অচেনা লোক এসে তাঁকে সালাম দিল এবং নিবিষ্ট মনে এভাবে বসে থাকার কারণ জানতে চাইল। গালিব তাঁর বন্ধুর খোঁজে ব্যর্থ হওয়ার কথা জানালে, সেই লোকটি যেন এক দৈব নির্দেশ নিয়ে তাঁকে সরাসরি তাকরিমের কাছে পৌঁছে দিলেন। দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদের পর দুই বন্ধুর সাক্ষাৎ হলো। গালিব রুদ্ধশ্বাসে তাঁর দেখা ভয়াবহ স্বপ্নের কথা বন্ধুকে খুলে বললেন। সমস্তটা শুনে তাকরিম এক গভীর শান্ত দৃষ্টিতে বন্ধুর দিকে তাকালেন এবং প্রশ্ন করলেন, তুমি কি দেশের প্রকৃত খবরাখবর রাখো, বন্ধু? প্রধানমন্ত্রী গালিব সপ্রতিভ উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, রাখি বৈকি!
তাকরিম তখন তিক্ত সত্যটি উন্মোচন করলেন, শোনো তবে, বন্ধু! তোমার সেই স্বপ্নের গভীরে লুকিয়ে আছে দেশের নির্মম বাস্তবতা। দেশের অর্ধেক মানুষ দিন কাটাচ্ছে অর্ধাহারে, অনাহারে। যারা ধনী, তারা ক্রমশ আরও প্রাচুর্যের শিখরে উঠছে আর গরিবেরা তলিয়ে যাচ্ছে আরও অন্ধকারে। সাদা-কালো, ধনী-গরিবের মধ্যে এক বিশাল বিভেদ-রেখা দেশের বুক চিরে এঁকে গেছে। তোমার মিডিয়া যেসব খবর প্রচার করে, সে তো শুধু তোমাকে সন্তুষ্ট রাখার জন্যই এক প্রহসন মাত্র। দেশের মানুষ ভালো নেই, বন্ধু, মোটেও ভালো নেই। তাদের সম্মিলিত হাহাকারই তোমার ঘুমের গভীরে দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
তাকরিমের এই তীক্ষ্ণ সত্য যেন মন্ত্রীর ক্ষমতার প্রাসাদকে মুহূর্তেই কাঁচের মতো ভেঙে চুরমার করে দিল।
বন্ধুর কথা শুনে গালিবের হৃদয়ে যেন নতুন এক অস্থিরতা জন্ম নিল। তিনি ব্যাকুল কণ্ঠে জানতে চাইলেন,গালিব,এর সমাধান কী, বন্ধু? এ ঘোর অমানিশা থেকে মুক্তির পথ কোথায়? তাকরিম এবার স্থির কণ্ঠে তাঁর আজন্ম লালিত স্বপ্নের কথা শোনালেন, মানুষের হাতে গড়া ক্ষণস্থায়ী শাসনতন্ত্রকে বিদায় জানিয়ে, দেশের মূল কাঠামোতে ইসলামের চিরন্তন ন্যায় ও কল্যাণমুখী আদর্শের প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
গালিবঃ এই আমূল পরিবর্তনের প্রথম ধাপটি কী হওয়া উচিত?
তাকরিমঃ দেশের জনমানস যেহেতু ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞতার অন্ধকারে ডুবে আছে, তাই সর্বাগ্রে তাদের ইসলামিক জ্ঞানালোকের দিকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী এক সুচিন্তিত শিক্ষা পরিকল্পনা। বয়স্কদের জন্য রাতে স্বল্প-সময়ের (অর্ধ-ঘণ্টা) জ্ঞানচর্চার ব্যবস্থা করতে হবে। কেবল মনোযোগ ধরে রাখার জন্য নয়, বরং নিয়মিত অধ্যয়নকে উৎসাহিত করার জন্য যারা নিয়মিত ক্লাসে আসবে ও পাঠ্য বিষয় আয়ত্ত করবে, তাদের মাসিক তিন হাজার টাকা সম্মানী হিসেবে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তাকরিম থামলেন না, চলমান শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, বর্তমানে যারা জ্ঞান আহরণে রত, তাদের পাঠ্যপুস্তকেও বৈচিত্র্য আনতে হবে। ইসলামের মৌলিক কিতাবের পাশাপাশি বিজ্ঞান, ভূগোল, দর্শন এবং বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে তারা কোনো অংশেই পিছিয়ে না থাকে। আর শিক্ষকেরা যাতে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে পাঠদান করেন, সে জন্য তাঁদের উচ্চ বেতনের মাধ্যমে যথার্থ সম্মান দিতে হবে।
গালিবঃ তোমার পরিকল্পনা যুক্তিযুক্ত। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আলোর মুখ দেখবে। কিন্তু বর্তমানে যে লক্ষ লক্ষ মানুষ না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে, তাদের কী হবে?
তাকরিমঃ যখন দেশের মানুষ ইসলামী শিক্ষায় দীক্ষিত হবে, যখন সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবে, তখন ধনী-গরিব, সাদা-কালোর সকল ভেদাভেদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলীন হয়ে যাবে। ধনীদের থেকে নিয়ম অনুযায়ী যাকাত আদায় করা হবে এবং সেই অর্থ দেশের দরিদ্রতম মানুষের মধ্যে ন্যায়সঙ্গতভাবে বন্টন করা হবে। এর ফলে সমাজে আর কোনো কাঙাল থাকবে না, বর্তমানে মানুষ যে অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে, সেই অভিশাপ চিরতরে দূর হবে। গালিব খানিকক্ষণ বন্ধুর দিকে তাকিয়ে রইলেন। চোখে ছিল সন্দেহের মেঘ আর আশার প্রদীপের ক্ষীণ আলো। পরিশেষে, তিনি এক কঠিন শর্তে উপনীত হলেনঃ
গালিবঃ ঠিক আছে। তবে একটি শর্তে এ কাজে হাত দেওয়া হবে।
তাকরিমঃ কী সেই শর্ত?
গালিবঃ আমি প্রথমে দশ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিব। দশ বছর পর যদি দেশের অবস্থার বিন্দুমাত্র পরিবর্তন না হয়, যদি তোমার এই আদর্শ ব্যর্থ প্রমাণিত হয়, তবে জনসম্মুখে নিজ হাতে আমি তোমার শিরশ্ছেদ করব।
তাকরিম এক মুহূর্তও ভাবলেন না, যেন তিনি এই চরম প্রতিজ্ঞার জন্যই প্রস্তুত ছিলেন। শান্ত ও দৃঢ় চিত্তে তিনি শর্ত মেনে নিলেন, তবে তিনিও পালটা একটি শর্ত পেশ করলেন,
তাকরিমঃ মুহূর্তেই রাজি হলাম, বন্ধু। তবে আমারও একটি শর্ত আছে। আগামী দশ বছর, আমার সেই দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষা ব্যবস্থার দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে আমার কথা মতো চলবে।
গালিবঃ রাজি হলাম তবে তাই হোক।
ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার দশ বছর পর, রূপপুর দেশে সত্যিই যেন আসমান থেকে এক অনাবিল শান্তি ও কল্যাণ নেমে এল। তাকরিমের জীবন রক্ষা পেল, কারণ তাঁকে নিয়ে গালিবের যে ভয় ছিল, তা অমূলক প্রমাণিত হলো। দেশের প্রতিটি নাগরিক শিক্ষায় দীক্ষিত, জ্ঞানে-গুণে তারা আজ বিশ্বের কাছে সু-প্রসিদ্ধ। জ্ঞানচর্চার পীঠস্থান হিসেবে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এখন রূপপুরের উদ্দেশ্যে ছুটে আসে। প্রধানমন্ত্রী গালিব অতীতের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, যদি সেই রাতের ভয়াবহ দুঃস্বপ্নটি তিনি না দেখতেন এবং সেই স্বপ্ন তাঁর জ্ঞানী বন্ধু তাকরিমের কাছে ব্যক্ত না করতেন, তবে এই অবিশ্বাস্য পরিবর্তন কখনও সম্ভব হতো না। মূহুর্তেই তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে এল এক গভীর উপলব্ধি, সেই দুঃস্বপ্নও ভালো, যদি সেটা মঙ্গল বয়ে আনে।
=============================== ইয়াছিন ইবনে ফিরোজ
অর্থনীতি বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
লেখক,কবি ও গল্পকার।

